বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

জনগণের গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ বাংলাদেশ একটি কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। শস্য-শ্যামল এই দেশে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই রক্তের মূল্য আমরা কোনভাবে রক্ষা করতে পারিনি। তার কারণ আজ দেশে গণতন্ত্র নেই। যেখানে সংবিধানের ১১নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, সেখানে মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে।’ কিন্তু হায় সেই গণতন্ত্র আজ কোথায়। আজ রাজনৈতিক নেতারা দেশের বা দেশের মানুষের কোন চিন্তাভাবনা করে না। তাদের চিন্তাভাবনা শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকা। কিন্তু এইসব চিন্তাভাবনা একটি গণতান্ত্রিক দেশের একজন মহান রাজনৈতিক ব্যক্তির নয়। গণতান্ত্রিক দেশে আজ সাধারণ মানুষের কোন নিরাপত্তা নেই। উন্নতি নেই, আছে শুধু নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, হত্যা ইত্যাদি। আছে শুধু বিএনপি-আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই। এটাই হল দেশের গণতন্ত্র। মনে পড়ে গেল সেই আব্রাহাম লিংকন এর গণতন্ত্রের সংজ্ঞা, “গণতন্ত্র হল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা জনগণের শাসন।” কিন্তু আমরা মনে করি, বিএনপি-আওয়ামী লীগের জন্য হল গণতন্ত্র। গণতন্ত্র হল বিএনপি-আওয়ামী লীগ এর শাসন। অথচ বিএনপি-আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে ছিল। কিন্তু গণতন্ত্র আজ তাদের মধ্যে নেই। এই উদার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে দলবল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসা উচিত। আসুন আমরা এগিয়ে আসি গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। এস.এম. স্বপন বি.এস.এস (প্রথম বর্ষ) সরকারি তিতুমীর কলেজ ---- সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই হল উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ আমাদের দেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রধান অন্তরায় হলো এদেশের Political class-এর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আত্মস্থকরণ ও কার্যকরণের ব্যর্থতা। ১৯৯১ এর নির্বাচনের পরে দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিলো যে, এখন থেকে দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হতে থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাব পরিলক্ষিত হতে থাকে। তাদের অর্থাত্ সরকারি পক্ষের নেতাদের অনেকেই এমন ভাব দেখান যে, যেহেতু তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সে জন্য তারা যা খুশী করার Mandate পেয়ে গেছেন। আবার যখন অন্য দল ক্ষমতায় এলো তাদের মধ্যেও এই একই মানসিকতা বিরাজ করল। এভাবে দেশের দু’টি বৃহত্ রাজনৈতিক দলের মধ্যে অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা অধিকতর দানা বেঁধে উঠে। দুই পক্ষই মনে করতে থাকে যে, কোন প্রকারে পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভই বিপরীত দলের মুখ্য উদ্দেশ্য। আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি যে দলই ক্ষমতায় যাই না কেন আমরা যে কোন প্রকারে পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হবার চেষ্টা করে থাকি। অর্থাত্ আমাদের Political class গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন; বিশেষ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অসত্ উপায় অবলম্বন করে নির্বাচন করতে তারা দ্বিধাবোধ করেন না। নির্বাচনে অসত্ উপায় অবলম্বন আমাদের দেশের রাজনৈতিক Culture এ পরিণত হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই। মুখে সবাই গণতন্ত্রের কথা বললেও কাজে প্রায় সকলে একনায়কতন্ত্র চালায়। প্রায় সব প্রধান দলেই এক ব্যক্তির ইচ্ছে অনিচ্ছাতে চলে। কাগজে কলমে যত কমিটি থাকুক না কেন আসলে নেতা বা নেত্রীর ইচ্ছাতেই সিদ্ধান্ত হয়। তাই বলব, শুধু কাগজে কলমে নয়, অভ্যন্তরীণভাবে সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়াই হল উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্। মো. জসীম উদ্দীন অনার্স ২য় বর্ষ (বাংলা বিভাগ) সরকারি বি.এম কলেজ, বরিশাল --- এভাবে হরতাল, গাড়ি পোড়ানো হলে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি কখনো আর আসবে না সরকারি ও বিরোধী দলকে বলবো, দু’জন মিলে প্রতিসিংহার আগুন জ্বেলে যে দিন কাটাচ্ছেন তা বন্ধ করে জনগণের পক্ষে আসুন, জনগণ যেটা চাচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাতে দেশের জন্য মঙ্গল ও জনগণের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে মনে হয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আজ যে হরতাল, হাঙ্গামা, গাড়ি পোড়ানো হচ্ছে তা বন্ধ করে দু’পক্ষ সমঝোতায় আসুন এবং কল্যাণের পথে আসুন। কারণ চিন্তা করে দেখবেন— এই যে হরতাল দিচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত তো সরকার হবে না, হবে জনগণ। তাহলে পক্ষ বিপক্ষ করে, রাস্তায় মারামারি করে দু’পক্ষই ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাহলে বলবো, সরকার পক্ষ আর বিপক্ষ হিংসা, গুম, হরতাল হাঙ্গামা দিয়ে কোন সমস্যার সমাধান হয় না। তাহলে দু’পক্ষ রেষারেষি করে লাভ কি? তাই বলবো রেষারেষি বন্ধ করে দু’পক্ষরই যে ভাবেই হোক এক সাথে বসা দরকার। তা না হলে জনগণের ভালবাসাও পাবেন না এবং নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন না। এবং উদার গণতান্ত্রিক মনোভাবও মনে আসবে না, সুষ্ঠু নির্বাচনও হবে না। তাহলে দেশ ভাল কিছুও পাবে না। মো. মোশারফ হোসেন সোহাগ বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি ষোলশহর ফরেস্ট অফিস, বাঁশবাগান, চট্টগ্রাম --- দুর্নীতি দূর করতে হবে, তা না হলে উদার গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠিত হবে না রাজনীতির কাজ সকল বিশৃংখলতা ভেঙে সমাজ ও দেশকে সুন্দরভাবে গঠন করা এবং রাজনীতিবিদদের থাকতে হবে সকল প্রকার কালিমামুক্ত। তারা থাকবে বুদ্ধিমান। দেশকে রাখবে দুর্নীতি মুক্ত। কিন্তু আজ বোর্ড পরীক্ষা থেকে শুরু করে ভালো একটি চাকরি নেয়ার জন্য আশ্রয় নিতে হয় দুর্নীতির। একজন গরীব ভ্যান ওয়ালা রক্ত পানি করে তার সন্তান মানুষ করে সুখের মুখ দেখার আশায়, তখন তাকে দণ্ডায়মান হতে হয় দুর্নীতির সম্মুখে। একটি ছাত্র যার নেই মামা অথবা টাকার জোর তাকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গেলে আশ্রয় নিতে হয় দুর্নীতির। বোর্ড পরীক্ষার সময় পরিদর্শককে চা-খাওয়ার টাকা দিয়ে বলা হয় সন্তানের দিকে খেয়াল রাখবেন। একটি পুল অথবা রাস্তা করবার জন্য যে খরচ হয় তার ডবল টাকা উপর মহল থেকে নেয়া হয়। এভাবে নানা ধরনের দুর্নীতি যা এখনো আমাদের মাঝে ছড়িয়ে আছে। তাই শেষ কথা, ভাত খাওয়ার সময় একজন মানুষের কাছে প্লেট যেমন মনে হয়। ঠিক তেমনি অনেক প্রধান নির্বাহীর কাছে তার প্রতিষ্ঠান তেমন মনে হয়। এভাবে প্রধান নির্বাহী থেকে নির্বাহী অবশেষে সরকার। তাই বাংলাদেশের দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে উন্নতির মুখ দেখা যাবে না। আতিকুর রহমান সোহাগ বামনা সারওয়ার জান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ শ্রেণি-একাদশ, বাণিজ্য, বামনা, বরগুনা