গ্রাহক সেবায় অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে সড়ক শৃঙ্খলার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ-এর মিরপুর কার্যালয়ে গতকাল সোমবার অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল। অভিযানকালে দুই দালালকে গ্রেপ্তার করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া গ্রাহক হয়রানি ও দালালদের অপকর্মের সহযোগিতার দায়ে বিআরটিএ’র ক্যাশিয়ার খান মোঃ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও এক আনসার সদস্য আজিজুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, দুদকের হটলাইন (১০৬)-এ পাওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়ক ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ-এর তত্ত্বাবধানে দুদকের সহকারী পরিচালক মঈনুল হাসান রওশনীর নেতৃত্বে উপসহকারী পরিচালক সোমা হোড় ও দুদকের পুলিশ ইউনিটের সদস্যবৃন্দ এ অভিযান চালায়। অভিযানকালে আব্দুল কাদের ও রফিকুল ইসলাম নামে দুই দালালকে গ্রেপ্তার করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তারা নিজেদের বিআরটিএ’র কর্মচারী পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের নিকট থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়ে লাইসেন্স ও অন্যান্য সেবা প্রদানের কাজ করত। অপরদিকে গ্রাহক হয়রানি ও দালালদের অপকর্মের সহযোগিতার দায়ে বিআরটিএ’র ক্যাশিয়ার খান মোঃ রুহুল আমিনকে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে বিআরটিএ। একই অভিযোগে উক্ত দপ্তরে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্য আজিজুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সাথে কথা বলে টিম জানতে পারে, বিআরটিএ মিরপুর দপ্তরে দালালদের অবাধ অনুপ্রবেশের ফলে ও বিআরটিএ’র অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা গ্রাহকগণ প্রায়শই আর্থিক ক্ষতি ও অন্যান্য হয়রানির শিকার হচ্ছেন । অবিলম্বে এসব অনিয়ম দূরীকরণে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয় দুদক টিম।
এ অভিযান প্রসঙ্গে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ মন্তব্য করেন, “দুদক অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন ১০৬ এ অভিযোগ আসলেই অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা হবে।”