[ রা জ নী তি ]

এই নরপশুদের চরম শাস্তি না দেওয়াই হবে মানবতার প্রতি অপরাধ

বাংলাদেশে জামায়াত-শিবির এক নৃশংস হত্যার রাজনীতিতে মেতে উঠেছে। এই নৃশংসতার কোনো তুলনা সভ্য দুনিয়ায় নেই। এক একটি তাজা তরুণ প্রাণকে তারা ধারালো ছোরা, চাপাতি, দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করছে এবং হত্যা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, এই ঘৃণ্য হত্যাকে জাস্টিফাই করার জন্য বলা হচ্ছে—এরা নাস্তিক, মুরতাদ। এরা মহানবীর (দ.) নামে অবমাননাকর মন্তব্য ছড়াচ্ছে। প্রজন্ম চত্বরের তরুণ ব্লগার রাজীবকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তার নামেও মহানবীকে অবমাননার দুর্নাম ছড়ানো হয়েছে। ছড়িয়েছে জামায়াতিরা এবং তাদের সমর্থক কোনো কোনো মিডিয়া। রাজীবকে হত্যার পর এই প্রচারণা চালাতে গিয়ে জামায়াতিরা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছিলো যে, এই হত্যাকাণ্ডের হোতা তারা। আরো প্রমাণিত হয়েছে, রাজীবের লেখা দাবি করে মহানবী (দ.) সম্পর্কিত যে মন্তব্যগুলো তারা রাজীবের মৃত্যুর পরও ছড়িয়েছে সেগুলোও তার লেখা নয়। জামায়াতিরাই সেগুলোর উদ্ভাবক ও প্রচারক। রাজীবের আগে তারই বন্ধু ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির আরেক সমর্থক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনের উপর একই কায়দায় চাপাতি, দা, ছোরা নিয়ে হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় গুরুতরভাবে আহত হলেও আসিফ কপালগুণে বেঁচে যায়। কিন্তু এখনো সে ঘাড়ের উপর চাপাতির আঘাতের জখম থেকে সুস্থ হয়ে উঠেনি। তার উপর হামলার ধরন থেকেও বোঝা যায় পরে রাজীবের উপর যারা হামলা করেছে সেই একই ব্যক্তিরা একই কায়দায় হামলা চালিয়েছিলো। এই নৃশংস হত্যার সাম্প্রতিক শিকার নারায়ণগঞ্জের এক প্রতিভাবান কিশোর তানভীর মোহাম্মদ ত্বকি। তাকে গলাটিপে হত্যা করে মৃতদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। দুদিন পর নিখোঁজ কিশোরের মৃতদেহ নদীতে ভাসতে দেখা যায়। এই কিশোর একজন প্রতিভাবান ছাত্র ছিলো। দলীয় রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিলো না। সে শাহবাগ মঞ্চের একজন ব্লগ লেখকও ছিলো না। ছিলো তার বাবা। তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তার ছেলেকে ধরে এইভাবে খুন করা হলো। এই নরপশু কারা তা কি তদন্ত করে বের করতে হবে? এই প্রক্রিয়ার হত্যাকাণ্ডতো সেই কথাশিল্পী ও কবি হুমায়ুন আজাদের হত্যা প্রচেষ্টা (সেই হত্যা প্রচেষ্টা থেকেই তার মৃত্যু) থেকেই শুরু। সেই দা, চাপাতির কোপ। ‘পাক ছার জমিন সাদবাদ’ নামের উপন্যাসটি লেখার পর তাকে হত্যার পরোক্ষ ফতোয়াও দিয়েছিলেন বর্তমানের মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ব্লগার আহমদ রাজীব হায়দারকে হত্যার দায়ে ধৃত ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পাঁচজন ছাত্র পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি করেছে, রাজীবকে নাস্তিক হিসেবে চিহ্নিত করে শিবির নেতারা রাজীব এবং আরো আট ব্লগারকে হত্যার নির্দেশ দেয়। কিন্তু রাজীবকে হত্যার পর তারা ধরা পড়ে যাওয়ায় আট ব্লগারকে আর হত্যা করা যায়নি। তবে তাদেরই সমমনা আরেকটি দল জানুয়ারি মাসে আরেক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু সফল হয়নি। এরা যে জামায়াত-শিবির, হিজবুত তাহরির ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত, তা কারো কারো জবানবন্দিতে প্রকাশ পেয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের অন্যতম ফয়সল বিন নাইম ডিবি অফিসে বসে তার বাবাকে জানান, ধর্মের ভয় দেখিয়ে তাদের দিয়ে এই ন্যক্কারজনক কাজ করানো হয়েছে। একটু খোঁজ নিলেই দেখা যাবে, জামায়াত-শিবির, হিজবুত তাহরির ইত্যাদি দলগুলোর ক্যাডার সংগ্রহ করা হয় ইউনিভার্সিটি, স্কুল-কলেজ—বিশেষ করে মাদ্রাসা ছাত্রদের মধ্য থেকে। ধর্মবোধের বদলে এদের মনে ধর্মান্ধতা ঢোকানো হয়। অর্থের প্রলোভন, ভালো চাকরির প্রলোভন এবং পরকালে বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে এদের মস্তিষ্ক ধোলাইয়ের ব্যবস্থা করে জেহাদি করার নামে নির্মম খুনিতে পরিণত করা হয়। জেহাদ ও সন্ত্রাসের মধ্যে যে বিরাট পার্থক্য, তা এই বিভ্রান্ত ও বিপথগামী তরুণদের জানতে দেওয়া হয় না। কিছুকাল আগে ঢাকায় অবস্থানকালে এক মাদ্রাসা ছাত্রের কাছে এই ধরনের বই পেয়েছিলাম, নাম জেহাদের মর্মকথা। প্রকাশক ঢাকার এক মোহাম্মদী প্রকাশনী। কিন্তু প্রকাশকের নাম এবং প্রকাশনীর ঠিকানা নেই। লেখক মওলানা আজিজুল হক বুখারি। আমার সন্দেহ এই নামে কোনো লেখক নেই। ছদ্ম নাম ও ভুয়া প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত এই বইটি সুনিশ্চিতভাবে জামায়াতি প্রচার পুস্তিকা। বইটিতে মওলানা আবুল আলা মওদুদীর (জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা নেতা) লেখার বহু উদ্ধৃতি আছে। ইসলাম সম্পর্কে আমার সামান্য বিদ্যাবুদ্ধি আছে। কৈশোরে মাদ্রাসাতেও পড়েছি। ফলে শুধু জেহাদের মর্মকথা বইটি নয়, জামায়াতের আরও কিছু বইপত্র পড়ে দেখেছি এরা পবিত্র ইসলামের বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশের, এমনকি কোরানের আয়াত ও রসূলের (দ.) হাদিসের এতো বিকৃত ব্যাখ্যা করেছে যে, অনায়াসে এদেরই মুরতাদ ঘোষণা করা যায়। বাংলাদেশের প্রকৃত ইসলামপন্থি আলেম ওলামাদের উচিত ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামকে বাঁচানোর স্বার্থে ধর্মদ্রোহী জামায়াতি ফেরকাকে প্রতিহত করা। জামায়াতিরা আহমদীয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানায়। বাংলাদেশে যদি পবিত্র ইসলামকে সকল বিকৃতি থেকে রক্ষা করতে হয়, তাহলে জামায়াতিদের আগে অমুসলিম ঘোষণা করে মসজিদে ঢোকা নিষিদ্ধ করা দরকার। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদে সম্প্রতি জায়নামাজে আগুন দিয়ে এবং মুসল্লি সেজে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েও এরা প্রমাণ করেছে যে মসজিদকে তারা আল্লার ঘর বলে, সেই মসজিদের প্রতিও এদের কোনো সম্মান নেই। ‘‘জেহাদের মর্মকথা” বইটিতে আল্লাহ্ এবং তার রসুলের (দ.) বাণীও বিকৃত করা হয়েছে। কোরানে বলা হয়েছে, ‘লা ইকরাহা ফি দ্বীন’—‘ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই।’ আর জামায়াতিরা শেখায় ধর্মের নামে মানুষ খুন করা ধর্মের বিধান। মহানবীর (দ.) বিদায় হজের ভাষণের শেষ উপদেশ ‘‘তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কোর না। অতীতে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে বহু সম্প্রদায় ধ্বংস হয়ে গেছে।” আর জামায়াতিরা শেখায় ধর্মের নামে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ সবকিছু জায়েজ। শুধু জায়েজ নয়, অবশ্য কর্তব্য। জেহাদ একটি পবিত্র শব্দ এবং পবিত্র দায়িত্ব। কিন্তু জামায়াত, হিজবুত তাহরির ইত্যাদি ইসলামী নামধারী দলগুলোর কল্যাণে পশ্চিমা জগত্ এখন টেরোরিস্ট শব্দের বদলে জেহাদিস্ট শব্দটি ব্যবহার করে। যার অর্থ সন্ত্রাসী। অর্থাত্ জেহাদ মানেই সন্ত্রাস। অথচ ইসলামে সন্ত্রাস কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। জেহাদ পবিত্র কর্তব্য হিসেবে নির্ধারিত। ধর্মের জন্য, কোনো নীতি ও আদর্শের জন্য যুদ্ধ করা, প্রাণদান করা জেহাদ। আর ব্যক্তিগত, দলগত, গোত্রগত স্বার্থ উদ্ধার বা জীঘাংসাপরায়ণ হয়ে খুন, হত্যা, ধর্ষণ চালানো সস্ত্রাস। ইসলামে এই সন্ত্রাস মহাপাপ। ধর্মের নাম ব্যবহার করে এই সন্ত্রাস চালানো মহাপাপ এবং মহাঅপরাধ দুই-ই। বার্নার্ড শ’ বলেছিলেন, তাকে কোনো ধর্ম বেছে নেওয়ার কথা বলা হলে তিনি নিশ্চিতভাবে ইসলাম ধর্ম বেছে নিতেন। কারণ, এই ধর্ম মানবিক মহত্ত্বে ভরা। একই কথা বলেছেন মানবতাবাদী দার্শনিক এম,এন, রায় তার “মানব সভ্যতায় ইসলামের অবদান” বইতে। তিনি ধর্ম ও ইজম প্রচারে শক্তি প্রয়োগ সম্পর্কে তার এক বিখ্যাত ভাষণে ইসলাম প্রসঙ্গে বলেছেন, ইসলাম ধর্মের প্রচারক সম্পর্কে একটি কথা অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে বলতে হয় যে, তিনি তার গোত্র কোরেশদের দ্বারা নির্মমভাবে নির্যাতিত হওয়া, এমনকি তার জীবনের উপর বারম্বার হামলা হওয়া সত্ত্বেও কখনো আত্মরক্ষা বা ধর্মপ্রচারের জন্য সন্ত্রাস, খুন, জখম, ধর্ষণের পন্থা গ্রহণ করেননি। তিনি ধর্মের জন্য, একটি নতুন সমাজ গঠনের জন্য সাহাবীদের নিয়ে সেনাবাহিনী গঠন করেছেন, নিজে সেনাপতি হয়ে যুদ্ধ করেছেন, কিন্তু সন্ত্রাসের আশ্রয় নেননি। মহানবীর সমসাময়িক ইহুদী পন্ডিতদের অনেকেই ইসলামের বিরোধিতা করেও রসুলের (দ:) উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি একটি বিজয়ী বাহিনী কোনো যুদ্ধে জয়ী হয়ে বিজিত দেশটিতে হত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণ চালায়নি। একটি বিরাট ব্যতিক্রম মোহাম্মদের (দ:) যুদ্ধ। তিনি মক্কার কোরেশদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় কোনো প্রকার সন্ত্রাসের আশ্রয় নেননি। তিনি মদীনার খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের ডেকে সমনাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে (ঐতিহাসিক মদীনা চুক্তি) মক্কার কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন; কিন্তু মক্কায় সন্ত্রাসী পাঠিয়ে গুপ্তহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ দ্বারা প্রতিপক্ষকে নিপাত করার পন্থা গ্রহণ করেননি। গ্রহণ করার কথা চিন্তাও করেননি। এক ইহুদী পন্ডিত লিখেছেন, মোহাম্মদের (দ:) মক্কা বিজয়ের পর বিজয়ী মুসলিম সৈন্যেরা অতীতের গ্রীক ও রোমান সৈন্যদের পন্থা অনুসরণ করে শহরটিতে কী ঘটাতে পারতো তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। কিন্তু মহানবী মক্কায় প্রবেশ করেই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। মক্কায় এক ব্যক্তিও খুন হয়নি, একটি নারীও ধর্ষিত হয়নি। এই বিবরণ পাঠ করে বিস্মিত হয়ে ভাবি, জামায়াতিরা নিজেদের ইসলামের সোল এজেন্ট বলে দাবি করে, কিন্তু ’৭১ সালে তারা ইসলাম ও পাকিস্তান রক্ষার নামে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধে নামেনি; হানাদারদের সহযোগী সেজে তাদের হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনে সহযোগী হয়েছে এবং দেশের বুদ্ধিজীবীদের মধ্যরাতে শয্যা থেকে মিথ্যা কথা বলে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আর এসবই করা হয়েছে ইসলাম ধর্ম রক্ষার অজুহাতে। এই একই কান্ড মিসরে প্রেসিডেন্ট নাসেরের আমলে আরব জাতীয়তাবাদের অভ্যুদয়ের যুগে মিসরীয় জামায়াতিরা করেছে। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটে মিসরীয় জামায়াতিরা হাত পাকিয়েছিল। তাদের নেতা সাইয়িদ কুতুব প্রাণদণ্ডাদেশ পান। সাইয়িদ কুতুব বাংলাদেশের প্রাণদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর মতো অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন না। নিজের নামে আগে নিজে তিনি মওলানা অথবা আল্লামা শব্দ যোগ করেননি। তিনি একজন প্রকৃতই শিক্ষিত আলেম ছিলেন। কিন্তু সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দায়ে তাকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়। এখন যেমন বাংলাদেশে সাইদীর মতো এক যুদ্ধাপরাধীর প্রাণদণ্ডের আদেশ হওয়াতে একজন ইসলামি চিন্তাবিদকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে বলে জামায়াতিরা চিত্কার জুড়েছে, নাসেরের মিসরে সাইয়িদ কুতুবের প্রাণদণ্ড হওয়াতে একই চিত্কার জুড়েছিল মিসরীয় মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা। পার্থক্য এই যে, সাইয়িদ কুতুব সন্ত্রাসী হলেও ছিলেন একজন ধর্মীয় চিন্তাবিদ আর দেলোয়ার হোসেন সাইদী হচ্ছেন আল্লামা লকবধারী অতীতের ব্যবসায়ী এবং ধর্মের বিকৃতি সাধনকারী দেলু শিকদার। ’৭১ সালে মানবতা বিরোধী জঘন্য কাজের অপরাধী। ঢাকার প্রজন্ম চত্বরের বিশাল যুব জনতার দাবি, ’৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তিদান। তারা ইসলাম বা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধেই কোনো অবস্থান নেয়নি। শাহবাগ চত্বরের চৌদ্দ আনা মানুষই মুসলমান। তাদের পাইকারী হারে নাস্তিক আখ্যাদান এবং এই আন্দোলনের সমর্থক ব্লগারদের বিরুদ্ধে মহানবীর (দ:) অবমাননামূলক মন্তব্য লেখার মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করে নির্মমভাবে তাদের গুপ্তহত্যার শিকার করা একমাত্র জামায়াতিদের মতো নরপশুদের পক্ষেই সম্ভব। একাত্তরে তারা একবার তাদের পৈশাচিকতার পরিচয় দিয়েছে, ২০১৩ সালে আবার দিচ্ছে। ধর্মের মুখোসের আড়ালে এতো ভয়ানক, ‘জাহেল শক্তির’ অভ্যুত্থান মধ্যযুগেও ঘটেনি। এই ঘাতক জামায়াতি ও হিজবুত তাহরিরের ক্যাডার ও সমর্থকদের হাতে আর একজন ব্লগার বা শাহবাগ অন্দোলনের সমর্থক তরুণের মৃত্যু হওয়ার আগে এই ঘাতকদের চিহ্নিত ও আটক করতে হবে। এ জন্যে মামুল পুলিশি তদন্ত চালিয়ে লাভ হবে না। যখন দেখা যাচ্ছে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলো থেকেই জামায়াত ও হিজবুত তাদের বেশি ক্যাডার রিক্রুট করছে, তখন সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সন্ত্রাসী খোঁজার চিরুনি অভিযান (combing operation) চালাতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে নকশাল-ক্যাডার ধরার জন্য এই কম্বিং আপারেশন বা চিরুনি অভিযান চালিয়েছিলেন রাজ্যের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়। তিনি তাতে অনেকটা সফলও হয়েছিলেন। নকশাল নেতা চারু মজুমদারকেতো ধৃত হয়ে কারাগারেই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল। সন্ত্রাস দমনে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের একটা কৌশলের কথাও এখানে বলতে হচ্ছে। সেটা হচ্ছে ‘পিটুনি কর।’ ব্রিটিশ আমলে কোনো এলাকায় টেরোরিস্ট তত্পরতা শুরু হলে গোটা এলাকার মানুষের উপর পিটুনি কর ধার্য করা হতো। অর্থাত্ দোষী নির্দোষী সকলকে ধরে পুলিশ লাঠিপেটা করতো। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জামায়াতিদের অব্যাহত বর্বর হত্যাকান্ডের মুখে সংশ্লিষ্ট এলাকা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকলের জন্য এই পিটুনি কর ধার্য করবেন সে কথা আমি বলি না। কিন্তু রাজীব ও ত্বকির নির্মম হত্যাকান্ডের পর অনেকের মতো আমারও ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার ধার এতোটাই ভেঙেছে যে, লিখতে কোনো দ্বিধা নেই, প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই জামায়াতি বা হিজবুতি খুনিদের ধরার জন্য চিরুনি অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন প্রত্যেক যুবককে আটক করে তদন্ত চালাতে হবে। তাতে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে বলে কেউ কেউ চিত্কার করতে পারেন, যেমন করছেন যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার ব্যাপারে; তাতে সরকারের বিচলিত হওয়া উচিত হবে না। যারা এই নরপশুদের ব্যাপারেও মানবতাবাদী সাজবেন, তাদের বলবো, ধারালো ছুরি, দা এবং চাপাতির কোপে নির্মমভাবে নিহত রাজীব ও ত্বকির রক্তাক্ত চেহারার কথা ভাবুন, তারপর মানবতা ও নাগরিক অধিকারের কথা বলুন। কেবল ’৭১ এর ঘাতকদের দণ্ড দিলেই চলবে না; তাদের অনুসারী বর্তমানের নব্য ঘাতকদের চরম দণ্ডদানে সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করুন। এদের শাস্তি না দেওয়াই হবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। লন্ডন, ৯ মার্চ শনিবার, ২০১৩