[ রা জ নী তি ]

পর্দার পেছনে সাম্রাজ্যবাদের খেলা

এসব কি হচ্ছে দেশে? সংঘাতের ভয়ার্ত ঘটনাবলী শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে? কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে দেশের ঘটনাবলী? কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছে না দেশবাসী। তাদের মনে জিজ্ঞাসা অনেক, উত্তেজনা ও আতঙ্ক তার চেয়ে বেশি। একটি ঘটনার ভেতর অনেক সময়ই লুকিয়ে থাকে অন্য ঘটনা। সবসময় তার উপস্থিতি টের পাওয়া যায় না। যা বাহ্যিকভাবে দৃশ্যমান, ঘটনার আসল চেহারা-চরিত্রের উপাদান হয়তো ভিন্ন স্থানে অবস্থান করে থাকে— যা আমাদের সাধারণ ও সরল উপলব্ধির বাইরে। রাজনীতির ক্ষেত্রে এ ব্যাপারটি অধিকতর সত্য। রাজনীতির ‘পাকা’ খেলোয়াড়রা অনেক ক্ষেত্রেই, ক্যারাম বোর্ড প্লেয়ারদের মতো স্ট্রাইকার হিট করে যে দিকে, গুটি যায় ভিন্ন আরেক দিকে। রাজনীতির চাল, বিশেষতঃ হাল আমলের বুর্জোয়া রাজনীতির চাল, বুঝে ওঠা ক্রমাগত বেশ জটিল ও কষ্টকর হয়ে উঠছে। দেশের রাজনীতি কোনদিকে ধাবিত হচ্ছে, তা বুঝতে সাধারণ দেশবাসীর তাই যন্ত্রণাদায়কভাবে কষ্টকর হয়ে উঠছে। রাজনীতিতে চূড়ান্ত লক্ষ্য ও তার পাশাপাশি রণনীতি (strategy) ও রণকৌশল (tactics) বলে কতগুলো বিষয় আছে। এগুলোর সবগুলোকে বিবেচনায় নিয়েই রাজনীতিতে পথ চলতে হয়। পরস্পরের সাথে এগুলো সম্পর্কযুক্ত হলেও এসবের প্রতিটিরই পৃথক পৃথক গতি-প্রকৃতি রয়েছে। এসব হলো সচেতন রাজনীতির বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। কিন্তু বুর্জোয়া রাজনীতি এসবের ধার ধারে না। সেখানে ধাপ্পাবাজি, প্রতারণা ইত্যাদির আশ্রয় নেয়াটাকেই ‘রাজনৈতিক দক্ষতা’ বলে বিবেচনা করা হয়। ‘ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দেয়ার’ মতো ঘটনা ও কাজকর্ম বুর্জোয়া রাজনীতির বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে গত ৪ মাস ধরে জামায়াতের সহিংস তাণ্ডব চলছে। তা এখন কার্যতঃ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার পর্যায়ে চলে গেছে। তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী, সন্ত্রাসী ও অন্তর্ঘাতমূলক তত্পরতা শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তারা পুলিশকে হত্যা করছে, তাদের রাইফেল ছিনিয়ে নিচ্ছে, থানা আক্রমণ করে পুড়িয়ে দিচ্ছে, রেলগাড়ি-রেলস্টেশনে আগুন দিচ্ছে, রেল লাইন উপড়ে ফেলছে, সরকারের প্রশাসনিক দপ্তর দখল করে নিয়ে বিধ্বস্ত করছে, বাসাবাড়িতে, দোকানপাটে হামলা লুটপাট চালাচ্ছে, শহীদ মিনার ভেঙ্গে দিচ্ছে, জাতীয় পতাকায় আগুন দিচ্ছে, গোটা শহর দখল করে রাখার জন্য অভিযান চালাচ্ছে—সংক্ষেপে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক, সন্ত্রাসী, রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ থেকেই এখন জামায়াত বিরত থাকছে না। মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতিকে অব্যাহত ও দীর্ঘায়িত করে রাখার জন্য তারা অনুপ্রবেশ, অন্তর্ঘাত, গুজব ছড়ানো, মানুষের কুসংস্কার ও অজ্ঞতা-অন্ধ বিশ্বাসকে উস্কে দিয়ে উন্মাদনা ইত্যাদি সৃষ্টি করে চলেছে। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ দণ্ড প্রদান, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের নিষিদ্ধকরণ, একাত্তরের চেতনা-ধারায় দেশ পরিচালনার ইস্যুতে মাসাধিককাল ধরে ‘গণজাগরণ মঞ্চের’ অভূতপূর্ব আন্দোলন চলছে। সারাদেশে তা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে তারুণ্যের এক ঐতিহাসিক জাগরণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনরুত্থান জাতির প্রাণশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। নবপ্রজন্মের নব পর্বের মুক্তিযুদ্ধ রূপে তা আকার নিয়েছে। প্রথম দিকে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে স্বাগতম জানালেও, শেষ পর্যন্ত বিএনপি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সে প্রায় সরাসরি জামায়াতের পক্ষ নিয়ে তার সাথে একসাথে বা পাশাপাশি অবস্থান গ্রহণ করে পথে নেমেছে। বিএনপির ছত্রছায়ার মদত পেয়ে জামায়াত আরো মরিয়া হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। দেশে রক্তপাত বেড়েছে। মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় নিক্ষিপ্ত হয়েছে। গোটা দেশ আজ জামায়াতের সন্ত্রাসী তাণ্ডব দ্বারা আক্রান্ত। একই সাথে, দেশের গণতান্ত্রিক শাসনধারাকেও তারা ধ্বংস করার ছক এঁটেছে। সংঘাতের মুখোমুখি অবস্থানকে বিপজ্জনকভাবে দীর্ঘায়িত করে জামায়াত ‘রেজিম চেইঞ্জের’ ষড়যন্ত্র কার্যকর করতে উদ্যত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের অপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের জীবন বাঁচাতে হলে এ পথ ছাড়া অন্য কোনো উপায় তাদের সামনে নেই। তাই তারা আজ মরিয়া। বিএনপি চাচ্ছে তাদের সেই মরিয়া তত্পরতায় বাতাস দিয়ে অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ক্ষমতায় আসতে। তা না আসতে পারলেও তারা চাচ্ছে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় আসা ঠেকানোর জন্য ‘রেজিম চেইঞ্জ’-এর ঘটনার দিকে পরিস্থিতিকে ধাবিত করতে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। সে জন্য সে একতরফা নির্বাচনের ফাঁদ পেতেছে। এই অবস্থান গ্রহণের কারণে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে থাকছে। বিএনপিকে জামায়াতের গেইম প্ল্যানের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত জামায়াতই পরিস্থিতি থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিতে সক্ষম হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জামায়াত-শিবিরের নিষিদ্ধকরণ ইত্যাদি বিষয়গুলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কাজ সমাপ্ত করার কর্তব্যের সাথে জড়িত। এগুলো অগ্রাধিকারপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। এগুলো কোনোভাবেই নির্বাচনী হিসাব নিকাশের আলোকে নির্ণীত দলীয় ইশতেহারের কৌশলগত ইস্যু হতে পারে না। অথচ এগুলোকে অবমূল্যায়িত করে সেরূপ উপযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বিবেচিত ইস্যুতে পরিণত করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক ভোট কে হাত করবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যু জিইয়ে রেখে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের ভোটব্যাংক কব্জা করা যাবে, জামায়াতের আশ্রয়দাতা আমেরিকাকে পক্ষে রাখার জন্য জামায়াত-শিবিরের নিষিদ্ধকরণ বিষয়ে কি অবস্থান নেয়াটা উপযোগী হবে, কি কৌশল নিলে একই সাথে সেক্যুলার ভোট ও ইসলামী ভোট হাত করা যাবে— এসব পাটিগণিত ও সমীকরণকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় করে তোলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, প্রাথমিক জাতীয় কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়কে এভাবে ‘ইলেকশন স্ট্র্যাটেজির’ অধীনস্থ কৌশলগত বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু এসব হলো দৃশ্যমান বা আধাদৃশ্যমান চিত্রের বর্ণনা-বিশ্লেষণ। পর্দার অন্তরালের শক্তির হাত দিয়ে কিন্তু চলছে আসল খেলা। সমসাময়িক বিশ্ববাস্তবতা সম্পর্কে ‘অখণ্ড বিশ্ব’, ‘গ্লোবাল ভিলেজ’, ‘বিশ্বজনীন পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক’, ‘এক কেন্দ্রিক বিশ্ব’ ইত্যাদি যে সব কথা বলা হয়ে থাকে—তার অভিঘাত কি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে অনুপস্থিত থাকা সম্ভব? না, তা মোটেও সম্ভব নয়। এই অভিঘাত থাকতে বাধ্য। অনেক ক্ষেত্রেই তা নির্ধারণমূলক উপাদান হিসেবে কাজ করছে। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা হলো বর্তমান বিশ্বের নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি। এই বৈশ্বিক শক্তি কোনোভাবেই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশকে তার স্ট্র্যাটেজির বাইরে যেতে দিতে পারে না। এই অঞ্চলে ভারত একটি বড় শক্তি। ভারতে আমেরিকান লবিকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রেখে বহু ক্ষেত্রেই ভারতের মাধ্যমে আমেরিকান স্ট্র্যাটেজির স্বার্থ রক্ষার কাজটি সম্পাদিত হচ্ছে। ফলে, সেই ইন্দো-আমেরিকান লবির মোটা দাগের নিয়ন্ত্রণেই বাংলাদেশের ঘটনাবলীর গতি-প্রকৃতি বহুলাংশে নির্ধারিত হচ্ছে বলে ধরে নেয়াটা খুব ভুল হবে না। বিশ্বের এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রধান স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থ হলো ‘গণচীনকে ঠেকানো’। সামরিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্যভাবে চীনকে ঘেরাওয়ের মধ্যে রাখাটা হলো আমেরিকার জন্য একটি নিজস্ব ‘জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু’। চীনকে একাধারে বিশ্ব পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার জন্য হুমকি এবং একই সাথে আমেরিকার অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের বিরুদ্ধে প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে আমেরিকা মনে করে। এই স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্যের কারণে আমেরিকা ঘোষণা করেছে যে, এখন বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক শক্তির ৬০% মোতায়েন থাকবে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায়। ‘চীনকে ঘেরাওয়ে রাখার’ কাজে বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের গুরুত্ব অসীম। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশে মার্কিনপন্থি আজ্ঞাবহ একটি সরকারকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাখা ও বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশি সমুদ্র এলাকার মধ্যে মার্কিন স্থায়ী নৌ-উপস্থিতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এজন্য সে এতোটাই মরিয়া যে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করে হলেও সেরূপ নীতি অনুসরণে প্রস্তুত একটি সরকার ক্ষমতায় আসুক তার ব্যবস্থা করতে সে পিছপা হবে না। এসব স্ট্র্যাটেজিক উদ্দেশ্যের সাথে সাথে আমেরিকার বাড়তি লোভ হলো এদেশের তেল-গ্যাস-প্রাকৃতিক সম্পদ আত্মসাতের সুযোগসহ খোলা-বাজার অর্থনীতির নামে দেশের সম্পদ লুটে নেয়া। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ গোটা বিশ্বকে তার নিয়ন্ত্রণে ও শোষণের জালে আবদ্ধ রাখতে তত্পর রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য হলো তেল সম্পদের বিশাল উত্স। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাটা আমেরিকার বিশ্ব স্ট্র্যাটেজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই উদ্দেশ্যে জায়নবাদী ইসরাইল রাষ্ট্রটিকে লাঠিয়াল হিসাবে ব্যবহার করার পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোতে তাদের আজ্ঞাবাহী শক্তির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আমেরিকা তত্পর। মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেন কোনো ‘ইসলামিক আন্দোলন’ শক্তিশালী না হয়ে উঠতে পারে, কিম্বা এ ধরনের কোনো দেশ যেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সেক্যুলার শক্তির হাতে চলে যেতে না পারে— সে বিষয়ে আমেরিকা সজাগ ও তত্পর রয়েছে। ‘সর্প হয়ে দংশন কর, আর ওঝা হয়ে ঝাড়ো-’র নীতিও সে প্রয়োগ করে চলেছে। সেজন্যই আমেরিকা মুসলমান প্রধান দেশগুলোতে গৃহপালিত ও নিয়ন্ত্রিত ‘ইসলামী দল’কে মদদ দিয়ে চলেছে। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী দল হলো সেরূপ ‘মেইড ইন আমেরিকা’ মার্কার ‘ইসলামী দল’। জামায়াত একসময় বৃটিশ শাসকদের, একসময় পাকিস্তানি প্রভুদের সেবা করেছে এবং এখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পদলেহন করে চলেছে। বাংলাদেশে তাদের পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য মার্কিনীরা এদেশেকে দুর্বল ও অস্থিতিশীল করে রাখতে চায়। সে ক্ষেত্রে ‘নিয়ন্ত্রিত নৈরাজ্যের’ মধ্যে দেশকে নিমজ্জিত রাখাটাই হলো তাদের অনুসরণকৃত কৌশল। সাধারণভাবে একথা বলা যায় যে, আমেরিকা বাংলাদেশে তার প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য বুর্জোয়া দলগুলোকে ব্যবহার করতে সক্ষম। কিন্তু ন্যূনতম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনমতের গুরুত্বের কারণে ও অধিকতরভাবে, লুটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে, বুর্জোয়া দলগুলো সবসময় সব মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না। এমন অবস্থায়, দেশকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বাইরে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মাঠে নামানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। জামায়াতের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী তাণ্ডব অভিযানের পেছনের আসল রহস্য হলো এখানে। আমেরিকার জামায়াত-পছন্দ অবস্থানের কথা বুঝতে পেরে, তা থেকে ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় ফায়দা নেয়ার জন্য বিএনপি গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানকে অগ্রাহ্য করে জামায়াতের পক্ষ নিয়েছে। ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দিয়ে সে সুবিধা নিতে চাচ্ছে। এর ফলে তার ঘরও যে পুড়ে ছারখার হবে, তা বুঝেও সে এ পথই বেছে নিয়েছে। এই অবস্থান নিতে গিয়ে বিএনপি নিজেকে জামায়াতের অধীনস্থ ক্রীড়নকে পরিণত করেছে। ফলে বিএনপি একূল-ওকূল দু’কূলই হারানোর আত্মঘাতী অবস্থানে নিজেকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া, বিএনপি’র জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এজেন্ডা হলো তারেক জিয়া ও কোকোকে মামলা ও সাজা থেকে মুক্ত করা। এই এজেন্ডাই তার কাছে অগ্রাধিকার সম্পন্ন বিষয় হয়ে ওঠে কিনা, সে কথাই বা কে বলতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে খেলার চেষ্টাও যে সাম্রাজ্যবাদ চালাবে, সে কথাও ধরে নেয়া যায়। আমেরিকার খেলার ছক থেকে বেরিয়ে এসে তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে রিমোট কন্ট্রোলে পরিচালিত ফাঁদ থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব হবে না। সাম্রাজ্যবাদী কর্তাদের খেলার ছকের খবর কারই বা সবটা জানা থাকতে পারে? দেশে কি ঘটতে চলেছে এখনই তার সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়াটা সে কারণে বেশ কঠিন। লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি E-mail : selimcpb@yahoo.com