আপনার শিশু

শিশুর আত্মসম্মানবোধ

এতটুকু বাচ্চা ছেলে! ওর আবার আত্মসম্মানবোধ! একেবারেই হাসবেন না। বয়সে, আকারে ছোট হলেও আপনার সন্তানেরও আত্মসম্মানবোধ রয়েছে। বাচ্চার সঠিক উন্নয়নে, হতে পারে সেটা মানসিক কিংবা শারীরিক, সে ক্ষেত্রেও আত্মসম্মানবোধ বড় ভূমিকা পালন করে। ছোট বলে ওকে অবজ্ঞা করবেন না। ঠিক আপনার মতোই ওর আত্মসম্মানবোধটাও কিন্তু প্রখর। নিজের উপর বিশ্বাস, ছোট-বড় সমস্যাকে দৃঢ়তার সঙ্গে সামাল দেওয়া, সুস্থ সম্পর্ক তৈরি করা—সব কিছুর পিছনেই আছে শিশুর আত্মসম্মানবোধ। ছোটবেলা থেকেই শিশুর আত্মসম্মানবোধ উন্নয়নে আপনিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ নিয়ে লিখেছেন সাইফুল ইসলাম জুয়েল বাচ্চাকে যথেষ্ট সময় দিন। সময় বলতে অখণ্ড মনোযোগের কথাই বলছি। টিভি দেখতে দেখতে বা ল্যাপটপে কাজ করতে করতে গল্প না করে যেটুকু সময় ওর সঙ্গে ব্যয় করছেন তখন অন্য কোনো কাজ করবেন না। কথা বলার সময় শিশুর সাথে সরাসরি চোখাচোখি বা আই কন্ট্রাক্ট করুন। ওর কথা মন দিয়ে শুনুন। ওর যাতে মনে না হয়, ওকে আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বরং এমন পরিবেশ সৃষ্টি করুন যাতে শিশুটি নিজেকে একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে মনে করে। ছেলেবেলা থেকেই ওকে প্রশ্ন করতে উত্সাহ দিন। ব্যস্ত থাকলেও ওকে ধমকিয়ে চুপ করিয়ে দেবেন না। উত্তর দিন। সে পরিবারে ও বাইরে নিজের ভূমিকার ব্যাপারে আশ্বস্ত হবে। সাফল্য সব সময়ই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগান দেয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও এটা একই রকম সত্যি। ওর ছোট ছোট অ্যাচিভমেন্টে বা অর্জনের প্রশংসা করুন। ওর হামাগুড়ি দেওয়া, পায়ে পায়ে হাঁটা, আধো আধো গলায় ছড়া কাটা যতই স্বাভাবিক হোক না কেন ওর ছোট্ট জীবনে এগুলো সবই কিন্তু বিশাল বিশাল মাইলফলক। এটাকে সম্মান দেখানোর জন্য প্রশংসা খুব জরুরি। বাচ্চার প্রশংসার ব্যাপারে কোনো কৃপণতা দেখাবেন না। হাততালি দিয়েই হোক বা হাত মিলিয়েই হোক, ওকে যথেষ্ট উত্সাহ দিন। ওর সমস্যার সমাধান ওকেই করতে দিন। ও যদি চামচ দিয়ে না খেতে পারে, চামচটা কেড়ে খাইয়ে দেবেন না। ওকে বিব পরিয়ে নিজে খেতে উত্সাহিত করুন। এতে ওর আত্মবিশ্বাস লেভেল বাড়বে, নিজে নিজে খেতেও শিখে যাবে।