সম্পর্ক

কর্মজীবী হলেও দু’জনার সম্পর্ক হোক মধুর

স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী হলে সংসারে ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে। তাই ছাড় দেওয়ার মনোভাব থাকতে হবে দুজনারই। সারাদিন কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততার পরও দুজনার সম্পর্ক মধুর রাখার পরামর্শ নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ দীপের সাথে তিথির পরিচয় অফিসেই। অফিসে দুটো আলাদা ডিপার্টমেন্টে চাকরি করেন তারা। কাজের অবসরে মাঝেমধ্যে দেখা হতো তাদের। কখনও একসঙ্গে লাঞ্চ বা কফি খাওয়া—এভাবেই একের প্রতি অপরের ভালোলাগা তৈরি হয়। এই ভালোলাগা থেকে কখন যে দুজনার মধ্যে প্রেম হলে তা কেউই বলতে পারে না। দু’বছর প্রেমের পর বিয়েও হলো যথা সময়ে দুই পরিবারের সম্মতিতেই। প্রথম দিকে ভালোই কাটছিল সময়। কিন্তু মাস ছয়েক পর শুরু হলো ঝামেলা। দুজনের অফিস টাইম একই। অফিসে প্রচণ্ড কাজের চাপে নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে রান্না বসাতে বা ঘর গোছাতে তিথির ত্রাহি অবস্থা। অথচ সবকিছু দেখেও চুপচাপ থাকে দীপ। যতটুকু সময় বাড়িতে থাকে দীপ শুধু টিভি বা বই পড়তেই তার মনোযোগ। এভাবে এক বছর যেতেই সংসারের প্রতি কেমন যেন বিরক্তি আসে তিথির মনে। অফিস ও বাসা এক হাতে সামলাতে তার ভালো লাগে না। তাই তো ছোটখাটো বিষয়েও দীপের সাথে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হয়। সব মিলিয়ে নিজেদের মধুর দাম্পত্য সম্পর্কটা দিন দিন তিক্ত হয়ে যাচ্ছে। কী করবে তিথি ভেবে পায় না। এ রকম গল্প শুধু তিথির জীবনে ঘটছে তা কিন্তু নয়। এই রকম সমস্যার সমাধানে আপনাকে বদলে ফেলতে হবে কিছু ভাবনা। তবেই দেখবেন কর্মজীবী হলেও আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা কত মধুর হয়ে উঠছে। নতুন ভাবনা বাড়ির কাজকর্ম কর্মজীবী স্বামী-স্ত্রীর কাছে সব সময় এক বড় সমস্যা। অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বাড়ি ফিরে খোঁজেন আরাম। কিন্তু সংসারের চাহিদা থেকে ছুটি মেলা তো সহজ নয়। অতএব শুরু হয়ে যায় পরস্পরকে দোষারোপ, ঝগড়া, কথা কাটাকাটি। আর এ সবের যোগফল দাঁড়ায় সংসারে অশান্তি। সেই অশান্তি থেকে বাঁচতে হলে দু’জনকেই সংসারের কাজ ভাগ করি নিতে হবে। প্রথমে বাড়ির কাজকর্মের একটা তালিকা করে নিন। এবার দুজনে একসাথে বসে ঠিক করে নিতে চেষ্টা করুন—কোন কাজটা কে ভালো করবেন। খেলাচ্ছলে এভাবেই দায়িত্ব ভাগ করে নিলে ঝগড়াঝাটির তিক্ততা আর থাকবে না। রান্না করা বা ঘর গোছানোর মতো কাজে যদি দুজনেরই আপত্তি থাকে, তবে তা দুজনেই ভাগ করে করুন। নিজের ভাগের কাজটা অবশ্যই দায়িত্ব সহকারে নিয়মিত করবেন। এক সপ্তাহ পর নিজেদের কাজের তালিকা খতিয়ে দেখুন। সব ঠিকঠাক থাকলে একে অপরকে একটা পছন্দের উপহার দিয়ে চমকে দিন। ছুটির দিনগুলোয় একটা নিয়ম ভাঙা যেতেই পারে। বাইরে কোথাও এই দিনটি উপভোগ করুন। বাড়ির কয়েকটি কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা করুন। যেমন—বাজার করা বা রান্না করা। ঘরের কাজ করার সময় মিউজিক প্লেয়ারে অল্প ভলিউমে পছন্দের গানগুলো শুনুন। দেখবেন, হাসি, গান, গল্পে কাজ করতে ভালোই লাগবে দুজনার।