[ গ ণ ত ন্ত্র ]
গণতন্ত্রের কথা :সাংবাদিকতার অনুষঙ্গ
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৩, ২১:২৪
‘Journalism is literature in a hurry’ — লর্ড মর্লের এ উক্তি হালে তেমন পানি পায়নি। তবে এর পালে বাতাস লেগেছে খানিকটা। Cyril Connolly এ দু’য়ের বিভাজন করতে গিয়ে সোজাসাপ্টা বলে দিয়েছেন— ‘Literature is the art of writing something that will be read twice; Journalism what will be read once.’
‘The difference between literature and journalism is that journalism is unreadable and literature is not read.’— Oscar Wilde-এর এ স্বভাবসুলভ বক্রোক্তি সত্ত্বেও ‘Journalism is the first rough draft of history’ G.C. Ward-এর এ উক্তিটি প্রাধান্য পেয়েছে। আজকের ঘটনা কালকের ইতিহাস। আজ যে ঘটনার বীজ উপ্ত হয় তারই কোনটা মহীরুহ হয়ে ইতিহাস হয়ে যায় একদিন। সভ্যতা ইতিহাসের উপর শক্ত ভিত পায়। তাই ‘ইতিহাসের প্রথম খসড়া’টার মূল্য অতুল্য। এটা সভ্যতার চলমান বাহন। এটা ছাড়া ইতিহাস নীরব, সাহিত্য বোবা, বিজ্ঞান খোঁড়া, চিন্তা স্থবির, প্রগতি চলত্শক্তিহীন। ‘A good newspaper is a nation talking to itself ’—আর্থার মিলারের বাণী চিরন্তনী। লেনিন রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে সাংবাদিকতার প্রতি হুমকি বলে অভিহিত করেছেন। এ দু’টির সহাবস্থান অসম্ভব। সম্পর্ক সাপে-নেউলে। ‘আমাকে যদি সিদ্ধান্ত নেবার ভার দেয়া হয় যে, হয় সরকার থাকবে, সংবাদপত্র থাকবে না; না হয় সংবাদপত্র থাকবে, সরকার থাকবে না—এ দুয়ের মধ্যে আপনি কোনটা পছন্দ করবেন ? আমি এক মুহূর্তও দ্বিধা না করে বলবো—‘আমার কাছে শেষেরটাই শ্রেয়’—টমাস জেফারসনের এ উচ্চারণ আরো শাণিত। গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের কাছে সংবাদপত্র প্রীতিকর। আর গণতন্ত্র-বিরোধীর কাছে তা ভীতিকর। কারণ সে জানে—যেমনটা নেপোলিয়ন বলেছেন— ‘৪টা বিরোধী পত্রিকা হাজারটা বেয়নেটের চেয়েও ভীতিকর।’
Reading between the lines-এর চেয়ে Reading between the lies আরো জরুরি। প্রথমটির চর্চা পাঠককে শিক্ষিত করে, আনন্দ দেয়। বোধ-বুদ্ধি বাড়ায়। গূঢ়ার্থ অনুধাবনে সক্ষম করে। আর দ্বিতীয়টি মানুষকে মানুষ করে, সত্যনিষ্ঠ করে, মূল্যবোধকে শাণিত করে—এক কথায় মানবিক ও জাতীয় অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখে। তখন সে আর ভুল সিগনাল পায় না, ভুল পথ মাড়ায় না, পথ হারায় না। তখন তার মন আপনা-আপনিই গেয়ে ওঠে—‘মোরা সত্যের পরে মন আজি করিব সমর্পণ/মোরা বুঝিব সত্য, পূজিব সত্য, খুঁজিব সত্যধন। যদি দুঃখে দহিতে হয় তবু মিথ্যা চিন্তা নয়/যদি দৈন্য বহিতে হয় তবু মিথ্যা কর্ম নয়/যদি দণ্ড সহিতে হয় তবু মিথ্যা বাক্য নয়/জয় জয় সত্যের জয়।’
সাংবাদিককে হতেই হয় সত্যাশ্রয়ী। তার যে সত্যসাধক না হয়ে উপায় নেই। কারণ ইতিহাসের প্রথম খসড়া প্রণয়নের ভার যার উপর বর্তেছে—সত্যের সপর্যায় নিবেদিত না হয়ে তার গত্যন্তর কি ! জার্নালিজমের যে ৯টি মূল সূত্র তালিকাভুক্ত হয়েছে এর ১ নম্বরেই রয়েছে সত্যের প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতা। তারপরই স্থান পেয়েছে নাগরিকের প্রতি বিশ্বস্ততা। তথ্য যাচাইয়ের শৃঙ্খলাকে বলা হয়েছে এর নির্যাস। স্বাধীনতা, মাত্রাজ্ঞান, পূর্ণাঙ্গতা, জনসমালোচনার সুযোগ, বিবেকের অনুশীলন— এসব উপাদান তো রয়েছেই। সাংবাদিকতা পেশা বটে। তবে তা লাভালাভের হিসেবে-ঘেঁষা পেশা নয়। আবার এ পেশা মোহাবিষ্টের নেশাও নয়। নেশায় দিশা হারায়। লক্ষ্য ভ্রষ্ট করে। নির্মোহ-প্রতিফলনকে প্রভাবিত করে।
সাংবাদিক সমাজেরই মানুষ। সমাজের চলমান ঢেউ তার গায়েও লাগে। তারও জঠর-যকৃত আছে। উদরের আকুতি তাকেও নাড়া দেয়। তবুও লোভের লাভায় তার কলম আটকে যায় না। কারণ সে জাগ্রত বিবেক। সে ইতিহাসের স্বপ্নের উপর দিয়ে হাঁটে। সতর্কতার সাথেই তাকে পথ চলতে হয়। কারণ জাতি-রাষ্ট্রের স্বপ্ন তার পথে পথে বিছানো। নিত্যদিনের প্রতিটি প্রহরের সে-ই প্রহরী। বিচ্যুত হলে সে-ই মরে না—স্বপ্নকেও মারে। আর এ মৃত্যু দৈহিক নয়, আত্মিক। মৃত আত্মার আর্তি কেউ শোনে না। মৃত চিত্ত চিতায়ও ভস্ম হয় না।
সাংবাদিকদের বলা হয় ম্যান অব এ্যাকশন। কর্মবীর। তারা কর্ম-ধর্ম মেনে চলে। পেশাদারিত্বের ধর্ম। দায়িত্বশীলতার বর্ম পরে তাদের পথ চলা। তাদেরকে যেমন জানতে হয়—তেমন মানতেও হয়। জানা আর মানার মধ্যে যোজন যোজন ফারাক। সাংবাদিকদের মহান পেশা সে ফারাককে প্রশ্রয় দেয় না। তাদের পথ মসৃণ নয়। সহজ নয়। সহজ পথে ক্লান্তি কম, ভ্রান্তি বেশি। সহজ পথ গলি, কর্দমাক্ত। তাই কঠিন বাস্তবতার রাজপথ, মহাসড়ক ধরেই সাংবাদিকদের চলতে হয় স্বচ্ছতার সাথে।
তো যে জানার কথা বলছিলাম। সাংবাদিককে অনেক জানতে হয়। অনেক? হ্যাঁ, অনেক। শিক্ষকের চেয়েও বেশি? হ্যাঁ, তাই। কারণ শিক্ষকের সিলেবাস আছে। সাংবাদিকের সিলেবাস নেই। এই গ্রহ-গ্রহান্তর সবটাই তার পাঠ্য। তার পাঠ্যক্রম। নগণ্য-অগ্রগণ্য, শত্রু-সখা, নীতি-প্রীতি, জন্ম-মৃত্যু, সাহিত্য-ঐতিহ্য, সমস্যা-সম্ভাবনা, নিপাত-নির্মাণ, নমনীয়তা-নিষ্ঠুরতা, সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রেম-বিরহ, বিত্ত-বেসাত, উপদ্রব-উত্পাত, উচ্চ-তুচ্ছ—এক কথায় আলপিন থেকে এ্যারোপ্লেন—সবই তার উপজীব্য। আরো নির্দিষ্ট করেও বলা যায়। জার্নালিজমের একজন ছাত্রের জবানিতেই শুনুন :
‘Who What Where Why When,
the 5 ‘Ws’, the lead of the story
are supposed to tell the reader,
I’d learned in this journalism school.’
সাংবাদিককে সাংবাদিকতার অনুশীলন করতে হয়। খবর সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যের সমাহার আর উপাত্তের বিন্যাসও ঘটাতে হয়। তিনি সঞ্চালন করেন চলিষ্ণু ঘটনাপ্রবাহ। সমাজ-প্রবণতা, মানুষ ও মনন—সবই তার রাডারে ধরতে হয়। সংস্কার এবং সংস্কৃতি, বিষাদ ও বিনোদন, তত্পরতা ও তারতম্য— সবই তার চিত্-স্রোতে চলমান। চোখ এড়ালেও কলম এড়ায় না। সমাজের অনেক ক্ষতস্থানেই তার কলম মলম লাগিয়ে দেয়। তবে সে মলম প্রক্রিয়াজাত করা হয় সত্ সাংবাদিকতার কারখানায়। নির্ভেজাল নিদানে। পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার আকরে।
সংবাদপত্রের যাত্রা সপ্তদশ শতাব্দীতে বিলেতে শুরু হলেও আধুনিক সাংবাদিকতার উদ্ভব ১৯২০ সালে। সে সময় থেকেই সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে শুরু হয় তর্কযুদ্ধ। সমাজ ও জাতি-রাষ্ট্রে গণমাধ্যম কোন্ চরিত্রে অবতীর্ণ হবে—এ নিয়ে নানান যুক্তি দর্শন বর্ষণ করছে নিরন্তর। পথ প্রদর্শন করছে অনন্তর। গণতন্ত্র চর্চা ও এর উত্কর্ষ সাধনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা যে জরুরি—সেটি সুদৃঢ় ঐকমত্য পেয়েছে।
নীতি নির্ধারক এলিট শ্রেণি ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যের সেতুবন্ধনের নাম সংবাদমাধ্যম। সাংবাদিকতা এ দুয়ের মাঝে এক ধরনের মধ্যস্থতাকারী। সালিশ করে বটে, তবে রায় মান্য করতে কোন পক্ষের উপর জোর খাটায় না। সে হতে পারে অনুবাদক। সরকারের ভাষার ও নাগরিকের প্রত্যাশার। সাংবাদিক মধ্যম কিংবা মধ্যমা। তার কোন পক্ষ নেই। তিনি নিরপেক্ষ। তিনি মোহাবিষ্টও নন, সমাবিষ্টও নন। সাংবাদিক নীতিপ্রণেতার সিদ্ধান্ত শোনেন, লিখেন, পরিশোধন করেন। সাধারণ্যের বোধগম্য করে বিন্যাস করেন। তারপর গ্রাহককে পৌঁছে দেন মৌখিক কিংবা লিখিত আকারে। সচিত্র, বাক কিংবা নির্বাক— যে কোন গণমাধ্যমের আশ্রয়ে। এটা সোজা-সরল কথা। আর এ প্রক্রিয়ায়ই সাধারণ জনগণ নীতি নির্ধারক শ্রেণির সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে। তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে জানিয়ে দিতে পারে ৪/৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে।
১৭৮৭ সালে ব্রিটিশ Parliament-এ প্রেসের উপর বিতর্ক চলাকালে দার্শনিক ও সাংসদ Edmund Burke প্রথম ‘Fourth Estate’ termটি ব্যবহার করেন। এ ধারণাটি একটি সমাজমনস্ক বা রাজনীতি-সচেতন শক্তি বা প্রতিষ্ঠান—যার প্রভাব সঙ্গতিপূর্ণ কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়। এটি দ্বারা তিনি সংবাদমাধ্যমকেই (The press/news media) নির্দেশ করেছেন। তখন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সামাজিক মর্যাদা বলে যে ৩ শ্রেণির সদস্য ছিল—(১) Clergy (২) Nobility (৩) Commoners (যাজক, জমিদার ও জনগণ)—তাদের কাতারে ৪র্থ ভাগে প্রেসকে আনা হলো। তাইতো এর নাম Fourth Estate— ৪র্থ স্তম্ভ।
মার্কিনীরা হালে ‘fourth estate’-এর বিপরীতে প্রেসকে ‘fourth branch of government’ বলেন। Fourth Estate ব্যবহূত হয় প্রেসের স্বাধীনতাকে জোর দিতে। একে ক্ষমতাসীনদের ভীতি, অনুগ্রহ বা প্রভাবমুক্ত রাখতে। কিন্তু fourth branch মানে এটি সরকার থেকে পৃথক কোন স্বতন্ত্র স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নয়। সরকারের অংশ। সরকারের ৪র্থ শাখা। ‘একি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে?’ গণতন্ত্রের সোল এজেন্সি যাদের কব্জায় তাদের প্রেসের একি চেহারা! কিন্তু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া কি গণতন্ত্র চলে? মন্দ হলেও প্রেসকে স্বাধীনতা দিতে হয়। কারণ তা গণতন্ত্রের জন্য অক্সিজেন এবং অগ্নিপরীক্ষা। এ্যালবার্ট ক্যামুজের বিশ্বাস ‘A free press can be good or bad, but most certainly, without freedom a press will never be anything but bad.’
খবর খবরই। পাঠক-দর্শক-শ্রোতা তার অবস্থান আর মানসিকতা অনুযায়ী কিংবা মতাদর্শমতে এর তারতম্য ঘটায়। প্যালেস্টাইনের জন্য যা সুসংবাদ, ইসরাইলের জন্য তা দুঃসংবাদ হতে পারে। সাদ্দামের জন্য যা ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’, বুশের জন্য তা ‘জল না চাইতেই শরবত।’ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ভোক্তার জন্য দুঃসংবাদ, বিশ্ব ব্যাংকের জন্য সুসংবাদ। বাঘের হরিণ শিকারের সংবাদে বাঘের আনন্দ, হরিণের মরণ। তাহলে কি নীতি-নৈতিকতা, সঠিক-বেঠিক বলে কিছু নেই? আছে। কোন কোন খবর মানবতার বিপর্যয়ের, সভ্যতার সংকটের। সার্বজনীন বিষাদের কিংবা সীমান্তজয়ী আনন্দের। তবুও সাংবাদিকের বিবেচনায় সে খবর খবরই। বলতে শুনি—পত্রিকা খুললেই খালি খারাপ খবর। টিভি অন করলেই খুনোখুনির সংবাদ। তবে ভালো খবর কি? যে খবর সম্ভাবনার, উন্নতির, প্রগতির, ভালোবাসার, শিল্পের। হতে পারে। তবে চুলচেরা বিবেচনায় না-ও হতে পারে সকলের জন্য সমান সুখের। যা প্রত্যাশিত, স্বাভাবিক তা তেমন খবর নয় যতোটা না এর উল্টোটা। সে অর্থে মানুষকে সাপে কামড়ানোর খবর খবর নয়। মানুষ সাপকে কামড়ে মারবার ঘটনাটা খবর। কারণ তা অস্বাভাবিক। অবশ্য দেশে দেশে কালে কালে এর তারতম্য ঘটে। যে দেশের মানুষ সাপকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে সে দেশে এ খবর তেমন খবর নয়। Daniel Patric Moynihan যখন বলেন—‘If the newspapers of a country are filled with good news, the jails of that country will be filled with good people’ তখন বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেই হয় বৈ কি !
মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। ভিন্নমত আরো জরুরি। একমত দ্বিমতের সতীন নয়, সতীর্থ। সহচর। সহোদর। একমত যখন পথ হারাতে চায় ভিন্নমত তখন সুপথে আলো জ্বালায়। বিকল্প পথের সন্ধান দিয়ে বলে— ‘পথিক তুমি পথ হারাইছ।’ একমতের যাত্রী আঁধার রাত্রি পার হয় সম্মুখে ভিন্নমতের দীপ্ত দীপের দিশায়। ‘সাহেব কহেন—চমত্কার সে চমত্কার/মোসাহেব কহে—হতেই হবে যে, হুজুরের মতে অমত কার?’ নজরুলের এ ব্যঙ্গ রঙ্গ নয়—আমাদের মোহভঙ্গ। ‘আমি আমার জীবন গেলেও আপনার মতের সঙ্গে একমত না-ও হতে পারি। তবে আপনার মত যাতে আপনি স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত’— এ হচ্ছে গণতন্ত্রের শিক্ষা। স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলে প্রগতিও ভেসে যায়। তাতে প্রগতি বাঁচে না। সভ্যতা অঙ্কুরিত, পল্লবিত, পুষ্পিত হয় না। সভ্যতার ফুল না ফুটতে দিলে কিচ্ছুই অর্জিত হয় না। কারণ ফুল থেকেই ফল হয়। সংস্কৃত শব্দ ‘গড্ডল’ থেকেই ‘গড্ডাল’ এসেছে—যার অর্থ ভেড়া। রূপকার্থে অর্বাচীন। গড্ডালিকা প্রবাহ সে কারণেই মেষপালের প্রবাহ। অগ্রবর্তী মেষের অনুবর্তী হয়ে অগ্র-পশ্চাত্ বিবেচনা না করেই অন্ধের মতো চলার নামই তো গড্ডালিকা প্রবাহ। অর্বাচীনের নিরুদ্দেশ যাত্রা। গন্তব্য জানে না। চলবার কারণ তাকে ভাবায় না। চলছে তো চলছেই। যেন অগস্ত্য যাত্রা। ‘মেষরে মেষ তুই আছিস বেশ/মনে চিন্তার নেইকো লেশ,/ডানে বললে ঘুরিস ডানে, বামে বললে বামে/হাবেভাবে পৌঁছে যাবি সোজা মোক্ষধামে’—শামসুর রাহমানের এ আক্ষেপের আবেদন কালজয়ী। গতানুগতিক কিংবা প্রথাগত ভাবনার বিপরীতে যে মত, সে পথে হাঁটতে দেয় না সংস্কার। সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ার মতো সেসবই ‘ঠিক আছে’ ঠাওরে। ভাবনায় পরিবর্তন আনা চাই। তবে সকল পরিবর্তন সুফল আনে না। ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ভিন্নমতের সহিষ্ণুতা চাই। পরমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা হিংসার জন্ম দেয়। বিদ্বেষের ভাইরাস ছড়ায়। পরমত সহিষ্ণুতা প্রগতির প্রথম সোপান। মত ও পথের ভিন্নতা যে অনিবার্য সংঘাতের সূত্রপাত ঘটায়, সেই ঘাত-প্রতিঘাতের কষ্ট সহ্য করতে হয়। সেই কষ্টে কষ্টে কষ্টিপাথর হয় গণতন্ত্র। এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
লেখক : গবেষক