বনলতায় খাবারের দাম না নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিবেন এমপি বাদশা

রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে সদ্য যাত্রা শুরু করা বনলতা এক্সপ্রেসের টিকিটের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে খাবারের মূল্য আদায় করা হয়। এ মূল্য না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ফজলে হোসেন বাদশা। বনলতার যাত্রীদের সুবিধার্থে এ ব্যাপারে রেল মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী-২ আসনের এই সংসদ সদস্য চিঠি দিতে যাচ্ছেন।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহীবাসীর বহুল প্রত্যাশিত একটি ট্রেন। নির্বাচনের আগে আমার ৪৪ দফার অন্যতম ছিলো এই ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি। ট্রেনটি চালু করার জন্য রাজশাহীর মানুষ প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদও জানিয়েছেন।” 

ট্রেনে দেড়শ টাকার বাধ্যতামূলক খাবারের বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তের কারণে অনেকেই ট্রেনটির ব্যাপারে উৎসাহ হারিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। কাজেই যাত্রীদের স্বার্থে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।” 

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি রেলপথ মন্ত্রণালয়কে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শিগগির একটি চিঠি দেবো। আশা করি তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।”

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ট্রেনের খাবার বেছে নেয়ার সুযোগ রাখা জরুরি। সেক্ষেত্রে খাবার বাধ্যতামূলক না করে চাহিদাভিত্তিক সরবরাহ করা যায়। এমনকি প্রয়োজনে খাবারের দামসহ ও দাম বাদে দুই ধরনের টিকিট প্রবর্তনের সুযোগ আছে কি না, তাও ভেবে দেখার প্রস্তাব দেন তিনি। 

আরও পড়ুনঃ ঘুষ দেওয়ার আগে দুদককে জানান: রাজশাহীতে কমিশনার

প্রসঙ্গত, গত ২৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধনের পর ২৭ এপ্রিল থেকে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে বনলতা এক্সপ্রেস। এর টিকিটের দামের সঙ্গে ১৫০ টাকার খাবার বিলও যুক্ত হয়েছে। যাত্রীদের জন্য এই খাবার সরবরাহ রেলওয়ের পক্ষ থেকে সৌজন্যমূলক বলা হলেও এর মূল্য পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এই ট্রেনটিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম নিজস্ব ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সার্ভিসেসের (বিআরসিটিএস) মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাধ্যতামূলক খাবারের দাম নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ আর অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু