অভিনন্দন মুশফিকুর রহিম

শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত রেকর্ডে ভরা গল টেস্ট বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হইয়া রহিল। এই টেস্ট হইতে বাংলাদেশের প্রাপ্তিটা সত্যিই অনেক বড়। এবার বাংলাদেশের প্রথম কোন ব্যাটসম্যান মর্যাদাপূর্ণ টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করিলেন। তিনি হইলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, ব্যাটসম্যান ও উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিম। তিনি টেস্টের চতুর্থ দিনে ৩২১ বল খেলিয়া ২০০ রান করেন। তন্মধ্যে আছে ২২টি চার ও একটি ছক্কা। প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে টেস্টে এই অসাধারণ পারফর্মেন্স করায় আমরা তাহাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। তাহার এই সাফল্যে সারা দেশবাসীর ন্যায় আমরাও আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। উল্লেখ্য, এই টেস্টে প্রথমে ডাবল সেঞ্চুরি করার কথা ছিল সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের। তিনিই প্রথম ইহার আশা জাগাইয়া তুলিয়াছিলেন। মিডিয়াগুলিও এ ব্যাপারে সরব ছিল। কেননা তিনি জীবনের প্রথম টেস্টে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শতরান করিয়া টেস্টে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানের উপাধি লাভ করেন। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও তাহার একাধিক সেঞ্চুরি রহিয়াছে। তাহাছাড়া তিনি এবার অনেক লড়াই ও সংগ্রাম করিয়া একেবারে শেষমুহূর্তে দলে জায়গা করিয়া নেন। তাই এই ব্যাটিং জিনিয়াস ও লিটল মাস্টারের কিছু করিয়া দেখানোটাও জরুরি হইয়া পড়িয়াছিল। কিন্তু তিনি আর মাত্র ১০ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি করিতে পারিলেন না। এই আক্ষেপ তাহার অন্তঃকরণকে পুড়াইলেও আমরা মনে করি, আশরাফুলও মোক্ষম সময়ে জ্বলিয়া উঠিয়াছেন। আগামীতে তাহার ডাবল সেঞ্চুরির আশা পূরণ হউক, শচিন টেন্ডুলকারের ন্যায় তাহার ক্যারিয়ার আরও দীর্ঘতর হউক, ইহাই আমাদের কামনা। আমরা কৃতিত্বপূর্ণ ও আনন্দময় ব্যাটিংয়ের জন্য মোহাম্মদ আশরাফুলকেও স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই। গল টেস্ট বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের উন্নয়নের স্মারক। এই প্রথম বাংলাদেশ দল এক ইনিংসে ছয় শতাধিক রান তুলিয়া তাক লাগাইয়া দিয়াছে। তাহারা ১৯৬ ওভার খেলিয়া করিয়াছে ৬৩৮ রান। এই টেস্টে উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটোর নাসির হোসেনও তাহার প্রত্যাশিত প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পাইয়াছেন। সব মিলাইয়া শ্রীলঙ্কা সফরকারী বাংলাদেশ দল প্রথম টেস্টে অনেকটাই সফল হইয়াছে। পঞ্চম দিনে তাহারা অফুরন্ত পরিশ্রম করিয়াছে। এই দলে দুইজন বিশ্বমানের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল না থাকার পরও তরুণ ক্রিকেটাররা দুর্দান্ত খেলিয়াছে । গত পাঁচ বত্সর ধরিয়া প্রথমে সাকিব আল হাসান ও পরে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল টেস্টে ধীরে ধীরে হইলেও উন্নতির স্বাক্ষর রাখিতে পারিতেছে, যাহা খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে একেবারে আত্মতুষ্টিতে ভুগিবারও কোন কারণ নাই। সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। মনে রাখিতে হইবে, ওয়ান ডের তুলনায় টেস্টে আমাদের প্রত্যাশিত সাফল্য এখনও অধরা। ৭৬টি টেস্ট খেলিয়া আমরা ৬৫টিতেই হারিয়াছি। এ পর্যন্ত ৮টি টেস্টে ড্র হইয়াছে। যদিও আমরা ২০০০ সাল হইতে টেস্ট খেলিতেছি, সেই তুলনায় এই সাফল্য কম বৈকি। বাংলাদেশ টেস্ট জিতিয়াছে দুর্বলতর টিম জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তবে পূর্ণ দিন খেলা ও প্রতিযোগিতার প্রমাণ দিতে পারাটাই গল টেস্টের বড় সাফল্য। আগামী শনিবার হইতে শুরু হইতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টেও এরূপ সাফল্য ধরিয়া রাখিতে হইবে।