চলমান রাজনীতি শঙ্কা ও সম্ভাবনা
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৩, ২০:৫২
বাংলাদেশ উন্নয়শীল রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত। উন্নত রাষ্ট্রসমূহের ফেলে যাওয়া মহাসড়কের আমরা যাত্রী। ব্যাপারটি যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। কিন্তু রাজনীতি এ দেশের সেই সম্ভাবনাকে শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। সারা পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা সাতশত কোটি ছাড়িয়েছে। কবি নজরুলের সংকল্প তার জীবনে সত্য না হলেও আমাদের জীবনে সত্যে পরিণত হয়েছে। “বিশ্বজগত্ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।” www....Com করে আমরা তথ্য প্রযুক্তির এই স্বর্ণযুগে বিশ্বজগেক হাতের মুঠোয় দেখতে পারি। আয়তন হিসাবে জনসংখ্যার বিচারে আমাদের অবস্থান উপরের সারিতে। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার এক বিরাট অংশ বেকার এবং অদক্ষ। এরপরও জীবন-জীবিকার টানে বহতা নদীর স্রোতের মতো কারো জীবন বসে নেই, চলছে চলমান গতিতে। এ দেশের একজন কর্মজীবী মানুষের ঘাড়ে কমপক্ষে পাঁচ/সাতজন কোন না কোনভাবে চেপে বসে আছে। একজন কর্মক্ষম ব্যক্তির নিঃশ্বাস ফেলতে কত কষ্ট তা দায়িত্ববান ব্যক্তিমাত্র বোঝেন। সেই ব্যক্তির কাছে রাজনীতির কি মূল্য আছে? তারপরও এ দেশের সহজ-সরল মানুষ ভোট দেয়। সরকার আসে, সরকার যায়, এটি কম কিসের?
রাজনীতির হানাহানি কমবেশি সব দেশেই থাকে। উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আমাদের দেশে অনেক বেশি, যা বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। দেশের জনসংখ্যা এত বেশি যে, রাজনীতিবিদরা বুঝতে পারেন না তাদের সমর্থন না বর্জন। এ দেশের জনসংখ্যা এবং বেকারত্ব এত বেশি এই ধরুন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা এই তিন শহরে যে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে জোরে চিত্কার বা কাঁদলে শত শত লোক জড়ো হওয়া কয়েক মিনিটের ব্যাপার। যার প্রমাণ আগুন লাগলে ফায়ার ফাইটারদের বিড়ম্বনা আমরা দেখতে পারি। মৃদু লাঠিচার্জও করতে হয় পুলিশকে কখনও কখনও। শিল্পের জন্য কাঁচামাল যেমন জরুরি, রাজনীতির জন্য মানুষ তেমন জরুরি। রাজনীতি যদি সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য হয় তবে স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছর পরও কেন লাখ লাখ কর্মক্ষম যুবক-যুবতী বেকার? ঘরে ঘরে তো মানুষ চাকরি পাইনি। দশ টাকায় বিগত চার বছরে তো কেউ চাল খায়নি। তারপরও রাজনীতি চলছে, মিছিল-মিটিং-এ মানুষের অভাব হয় না। নেতারা ভাবেন কি বিশাল জনপ্রিয়তা। কিন্তু ইতিহাস তা বলে না। বিগত চারটি নির্বাচনকে বিশ্লেষণ করলে ফলাফল ৯১ বিএনপি, ৯৬ আওয়ামী লীগ, ২০০১ বিএনপি, ২০০৮ আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটরা। অনেক আশা নিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারী দলের নেতৃত্বে থাকা মহাজোটকে ভোট দিয়েছিল। তাদের সে রায়ের প্রতি যথার্থ সম্মান দেখানোর সময় এখনও আছে। আশা করি সে পথেই সরকার হাঁটবে।
বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় দোষ ভুলে যাওয়া। আমরা ইতিমধ্যে চারদলীয় ঐক্যজোটের সাগর চুরি ভুলে গেছি। বিশ্বাস করতে পারি না যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ বলে উড়িয়ে দেয়া হয় পাচার করা টাকার সুদকে। দেশের পতাকা ছেঁড়া, শহীদ মিনার ভাঙ্গা, মসজিদ-মন্দিরে আগুন, অথচ কোন ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার নেই, মেধায় চাকরি নেই, শেয়ারবাজারে টাকা নেই, পদ্মার ব্রিজ নেই, দশ টাকায় চাল নেই, ঘরে ঘরে চাকরি নেই, শুধু আছে রাজনীতি, কথায় কথায় রাজনীতি। রাজনীতিবিদরা আপনাদেরকে সম্মান করে একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে বলছি যদি কথা কাজে ঠিক না রাখেন এমনও হতে পারে যাদের ভোটে আপনারা নেতা তারা ক্ষোভে দুঃখে অপমানে হয়তো এমন একদিন আসবে তারা ভোট দিতে যাবে না। এ দেশের শতকরা দশজন লোকও প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতি করে না। রাজনীতি হওয়া উচিত সেই নব্বইজনের জন্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। দশ টাকায় হয়তো চাল দেয়া যাবে না। সেটি ভুলে যেতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হলে আফগানিস্তান, ইথিওপিয়ামার্কা দেশের তালিকায় যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষা করে গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরের দুর্নীতি, ঘুষ, দলীয়করণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পরশ্রীকাতরতা দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সারা বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক রক্ষা করে ষোল কোটি মানুষের বত্রিশ কোটি হাতকে এক করে উন্নত হওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। শুধু প্রয়োজন সময়ের সঠিক নেতৃত্ব।
লেখক: তরুণ কবি
Email: obaidulhaqueakash@yahoo.com