টেলিফোনে পাঠকের মতামত

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার শেষ কোথায়

দেশের বর্তমান চলমান রাজনীতি নিয়ে স্বয়ং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ কর্তৃক উষ্মা প্রকাশের পর নতুন করে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেয়ার খুব একটা অবকাশ নেই। মূলত রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসা, বাণিজ্য, শ্রমনির্ভর আরএমজি ও রেমিট্যান্স ক্ষেত্রে মূল্যবান বৈদিশিক মুদ্রা আয় এবং সার্বিক অর্থনৈতিক ধসের বর্তমান যে চিত্র তা কারো নজর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো অর্থনীতির ক্ষেত্রে তাদের চরম উদ্বেগের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত্ করেও তা জানিয়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তাপ যে উচ্চ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে তাকে নির্মূল বা স্তিমিত করার জন্য সরকার ও প্রশাসন যন্ত্রের উপযুক্ত শক্তি বা সামর্থ্য নিয়ে জনমনে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্ব বিরাজমান। ইতিমধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে জামায়াত-শিবির তাদের পর্যাপ্ত শক্তি-সামর্থের চরম পরাকাষ্ঠা দেখাতে বারবার সফলতা দেখিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধীদের রায় তাদের বিপক্ষে গেলে তাকে কেন্দ্র করে দেশে গৃহযুদ্ধ বাধাবার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। তাদের ঔদ্ধত -তাণ্ডবের বিরুদ্ধে এবং প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগ তথা প্রজম্ম চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চ নামে নতুন এক রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে যা ইতিমধ্যে ১/১১-এর মত সর্বক্ষেত্রে এক তীব্র ঝাঁকুনি দিতে অত্যন্ত সফলতার সাথে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন লেবাসে ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী গণজাগরণ মঞ্চের অভূতপূর্ব অহিংস আন্দোলনে ভীত হয়ে ঐ সংগঠনের সংগঠক তথা ব্লগারদের নাস্তিক, মুরতাদ ও ইসলামের চরম শত্রু আখ্যা দিয়ে তাদের রুখবার এবং চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। ইতিমধ্যে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক, পৃষ্ঠপোষক, সক্রিয় সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের কয়েকজনকে খুন করার মত ধৃস্টতা দেখাতে তারা সক্ষম হয়েছে। এসকল প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীদের হিংস্র কর্মকাণ্ড ও ক্ষমতাসীন দলের দুর্বলতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রশাসন যন্ত্রের ব্যর্থতায় দিনে দিনে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অপরদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে প্রধান বিরোধী দলসহ আঠার দলীয় ঐক্যজোট হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধান বিরোধী দলের অতি সামপ্রতিক কালের নয়াপল্টনের সমাবেশকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের কেন্দ্রীয় অফিসে পুলিশ হানা দিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, সংসদের বিরোধী দলের চীফ হুইপসহ প্রথম সারির বিভিন্ন নেতাকে গ্রেফতারের মত হঠকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে দেশের চলমান রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সরকার ও প্রশাসন যন্ত্রের এ হেন কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহলও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। মূলত রাজনৈতিক সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসহিষ্ণু মনোভাব, হত্যা, গুম, মামলা, হামলা, পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য রাজনৈতিক মাঠকে ধীরে ধীরে চরম অস্থিতিশীল করে তুলছে। এসকল আলামত গৃহযুদ্ধের পূর্ব লক্ষণ বলে বিভিন্ন টকশো এবং পত্রপত্রিকায় সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞমহল অহরহ বলে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বিশেষ রাজনৈতিক দলের দুর্গ হিসেবে পরিচিত খুলনার কয়রা, ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ড, সাতক্ষীরার আশাগুনি, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগড়া, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় সরকারি প্রশাসন যন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কিছু ব্যর্থতা জনগণকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলছে। যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, খুন, তাদের বাড়িঘর ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট ও জ্বালিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে সরকারের ব্যর্থতা দেশে সামপ্রদায়িক সমিপ্রতির ক্ষেত্রে এক অশনি সংকেত। তাছাড়া সরকারি আলীয়া ও কওমি মাদ্রাসার অধিকাংশ কোমলমতি ছাত্রছাত্রীকে পুঁজি করে তাদের মোগজ ধোলাই করে ঐসকল প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তথাকথিত পীরমুর্শেদগণ ধর্মপ্রাণ সরলমতি ধর্মভীরু মুসলমানদের সরলতার সুযোগ নিয়ে যেভাবে মনগড়া বিভিন্ন ফতোয়া, হুমকি এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক দিয়ে দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন হওয়া ছাড়া গত্যান্তর নেই। এঅবস্থায় সরকারি দল ও প্রশাসন যন্ত্র তাদের তথাকথিত আত্মশ্লাঘাকে পাশ কাটিয়ে প্রধান বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক দল এবং প্রকৃত ধর্মপ্রাণ আলেম-ওলেমা সমপ্রদায় ও গোষ্ঠীকে আস্থায় এনে উপযুক্ত পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সর্বমত ও সর্বজন গ্রাহ্য পন্থা নিরুপণ করে যথাস্থানে যথাসময়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে দেশকে রক্ষা করা বর্তমান সময়ের একমাত্র দাবি। ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী. চৌমুহনী , হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী ১৬ কোটি মানুষের এদেশ। সোনার দেশ বাংলাদেশ। অনেক সম্ভাবনাময় দেশ। কিন্তু রাজনীতির সংঘাতে আজ দেশটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। এ থেকে অবশ্যই পরিত্রাণ দরকার। জাহাঙ্গীর, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে এদেশের সাধারণ মানুষ। কবে হবে এ থেকে সবার মুক্তি? মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ, ঢাকা দেশে সংকট এখন অনেক। বলতে গেলে বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। তার মধ্যে শাহবাগের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, আগামী নির্বাচন। দেশ ও দেশের জনগণের মধ্যে অস্থিরতা বিদ্যমান। সব মিলে অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষ। কাউছার আকন্দ, মতিঝিল, ঢাকা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটছে বলে মনে করেন দেশি-বিদেশি রাজনীতিবিদরা। কাজেই পরিস্থিতি সামনে ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় উপনীত হওয়া দরকার। এস কে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন, কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা এখন প্রয়োজন সরকার ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে একসঙ্গে বসানো, যাতে করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। মেজবাহ উদ্দিন সেলিম, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা হানাহানির রাজনীতি কোন সম্ভাবনা নিয়ে আসে না। ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্যকে হুমকির মুখে ঠেলে দিলে উত্তরণ কোথা থেকে হবে? জাহাঙ্গীর খান বাবু, দৈনিক জনতা, মতিঝিল, ঢাকা সংঘাতপূর্ণ রাজনীতি সুফল বয়ে আনে না। আমাদের দেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে সম্পদ সীমিত। ১৬ কোটি লোকের বসবাস এই জায়গায়। কিন্তু সমস্যা প্রকট। এ থেকে নিরসনের একমাত্র উপায় সবার সহনশীলতা। আবদু মালেক মিয়া, মিরপুর-১, ঢাকা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূবশর্ত। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবে। মাসুম আহাম্মদ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সারাদেশে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ সারা বিশ্বের নেতৃবৃন্দ সবাই সংকটের নিরসন চান। মজিব, উত্তরা, ঢাকা বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনীতিতে ভয়াবহ ক্রান্তিকাল চলছে রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবেই। কিন্তু সহিংস রাজনীতি দেশের ধ্বংস বয়ে নিয়ে আসে। গুপ্ত হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও, সাম্প্রদায়িকতা কোন রাজনীতি নয়। এতে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়, মানুষে মানুষে বিভেদ বাড়ায়। গণজাগরণ মঞ্চ রাজনৈতিক বিষয় নয়। জনগণ ও ছাত্রসমাজ কোন বিশৃঙ্খলা ঘটাচ্ছে না। তবে কেন রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশব্যাপী এখন রাজনৈতিক দলগুলোকে বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও দর্শনের প্রযুক্তি দ্বারা অহিংসতার মাঝে সংলাপে বসতে হবে। সংলাপের বিকল্প কিছুই নেই। আশা এলিজাবেত গোমেজ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নানাদিক থেকে উদ্বেগজনক। সহিংস রাজনীতি, জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন, হরতাল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শাহবাগে প্রজন্মের আন্দোলন সব একাকার হয়ে কী অবস্থা দাঁড়াবে কেউ বলতে পারে না। অথচ মানুষ স্বস্তি চায়, শান্তিতে জীবনযাপন করতে চায়। মানুষ ধর্মের নামে রাজনীতি পছন্দ করে না। ধর্মকে ধর্মের কাছে থাকতে দিতে হবে। রাজনীতি সেখানে কোন বাধা হোক তা আমরা চাই না। রাজনীতি ও আন্দোলনের নামে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে তা কোন সভ্য বিবেকবান মানুষ মেনে দিতে পারে না। আমরা চাই দ্রুত সরকার উদ্যোগী হয়ে রাজনীতির নামে ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করবে। রাজনীতি হচ্ছে এখন এক কূটকৌশলী খেলা, যেখানে সামনে ও সরাসরি যা দেখা যায় মূল সুর তা থেকে ভিন্ন। সরকার ও বিরোধী দল, ইসলামী দলসমূহ এদের কারো বক্তব্য বর্তমানের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট নয়। সরকারকে বিরোধী দলের সাথে অবশ্যই আলোচনায় বসতে দিন-ক্ষণ এবং এজেন্ডা দিতে হবে। বিরোধী দলের চেয়ে যে সরকারে থাকে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশি। সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট আলোচনার আহ্বান আসতে হবে। ব্যাপকভাবে ধরপাকড়, মামলা, হামলা বিরোধী দলের জন্য আলোচনায় বসার নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই সরকারের উচিত এমন আভাস-ইঙ্গিত রাখা যাতে রাজনীতিতে সহিংসতা বন্ধে সরকার ও বিরোধী দল এক হতে পারে। আমরা মনে করি সরকারের ভিতরে অনেক মুক্তবুদ্ধির মানুষ আছেন, যারা বিরোধী দলকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারেন। আমাদের দুঃখ ও কষ্ট হয় এই ভেবে যে, আমরা ইতিহাস পাঠ করি; কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না। আশা করি সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। ওয়াহিদ মুরাদ, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা। দেশে চরম উত্কণ্ঠা, উদ্বেগ, আতংকিত অবস্থা বিরাজ করছে। রাজনীতিকদের সৃষ্টি করা এই পরিস্থিতি মেনে নেয়া যায় না। দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। নীতিবোধ ভূলণ্ঠিত। টার্গেট করে খুন, গুম, বোমাবাজি, হরতাল, জনগণের ও রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংস— সহিংসতার এই রাজনীতি শেষ হওয়া উচিত। ইতিমধ্যে দেশের মানুষ দুই মেরুতে অবস্থান নিতে শুরু করেছে। তার পরিণতি ভাল হতে পারে না। তাই রাজনীতিকদের উচিত অস্থিরতা পরিহার করে শান্তির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করা, কারণ দেশ সংকটে পড়েছে। শাহ মো. হেলালউদ্দিন হিরু, কালিহাতী, টাঙ্গাইল হত্যা, লুট, গাড়ি ভাঙচুর ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধীদল দেশের বারটা বাজাচ্ছে। তারা চাচ্ছে কী করে ক্ষমতায় যাওয়া যায়। আর বর্তমান সরকারকে কীভাবে হটানো যায়। তাই তারা এমন কোন কাজ নেই যা করছে না। ক্ষমতাসীন সরকারকে কঠোর হস্তে এ তত্পরতা দমন করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলাতে হবেই। ফারুক আহমেদ, বাঘমারা, রাজশাহী সত্যি দেশে এখন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হওয়ায় জনসাধারণের উদ্বেগও বাড়ছে। দিন দিন যেন দেশ অধঃপতনের দিকেই যাচ্ছে। খুন, হানাহানি সর্বত্র বিরাজ করছে। এর পরিত্রাণ যে কোথায় কে জানে? । আলমগীর হোসেন, পুরান থানা, কিশোরগঞ্জ দেশে এখন যে অবস্থা আমি শুধু একটিই কথা বলবো— দুইনেত্রীকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি— এ দেশের স্বাধীনতা নিয়ে, এদেশের অস্তিত্ব নিয়ে, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত নিয়ে আর খেলা করবেন না। দেশের স্বার্থে নিজের স্বার্থকে খাটো করুন এবং দেশকে রক্ষা করুন। সৈয়দ হায়দার আলী, মহাখালী, ঢাকা রাজনৈতিক অস্থিরতার শেষ তখনই হবে যখন বিরোধীদলকে সংসদে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে পূরণ করতে হবে। জনগণের মতামত দুইনেত্রীর না উচিত। ফোজিয়া মুন্নী, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা সমস্ত সমস্যারই সমাধান আছে। তবে তা যত তাড়াতাড়ি হয় ততই উত্তম। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আমাদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনও এর চেয়ে খুব বেশি ভাল ছিল না। বিভিন্ন আলোচনা, সমালোচনার পর অবশ্যই সমাধান বের হয়ে এসেছে। তবে হ্যাঁ, এবারকার অবস্থা একটু বেশি খারাপ। স্মরণ করা যেতে পারে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর এর চেয়েও আরো অনেক বেশি ঝামেলাবহুল সমস্যার সমাধান হয়েছে। আমাদের সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে আমার প্রস্তাব হলো— রাষ্ট্রপতি ডাক দিয়ে দুনেত্রীকে ডানে-বামে রেখে (ক) স্পিকার (খ) দুইনেত্রীর মনোনীত দুজন আইনজীবী (গ) দুজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও (ঘ) দুজন বিচারপতিসহ ১০ জনকে নিয়ে বসলে সমস্যার সমাধান হবে ইনশাল্লাহ। এভাবে বসার আগে উভয়পক্ষকে সহনশীল হতেই হবে। এম মতিউর রহমান, ৫/এ, আমিনাবাদ কলোনি, ৫৬/৫৭, সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা-১২১৭। বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা কারো কাছে কাম্য নয়। এতে করে লেখাপড়া, অর্থনীতি, আমদানি, রফতানি সবকিছুরই ক্ষতি হচ্ছে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করা উচিত। ইসমত জাহান, দামিয়া, ৫ম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল, আজিমপুর, ঢাকা দেশে যা হচ্ছে তা এককথায় বলা চলে কেউ ভাল নেই। সবার মধ্যেই একটা আতংক। কী হয়! কখন কাকে ধরে নিয়ে যায়? কখন মৃত্যুর ঘণ্টা বাজে? এক আল্লাহই জানেন, আমাদের কী হবে। এই ভয় নিয়েই কোন মতে বেঁচে আছি। জসিম উদ্দিন সেনবাড়ি, ময়মনসিংহ রাজনৈতিক অস্থিরতার যেন শেষ নেই। এভাবেই শুধু চলতে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। দেশে আজ যেন গণতন্ত্র নেই। সরকার আর বিরোধীদল যেভাবে একে অপরের পেছনে লেগেছে। এর যেন শেষ নেই। তবু আশায় বুক বেঁধে আছি দেশটা ভাল হোক। আমরা শান্তিতে থাকি। এতকিছু ঘটছে আমাদের রাজনীতিবিদরা কী দেখছেন না। তারা কি চোখ থাকতেও অন্ধ হয়ে গেছে? টিপু সুলতান, ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ দেশে যা হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। দেশ কোথায় যাচ্ছে? রাজনৈতিক নেতাদের একটুও শুভবুদ্ধির উদয় হয় না কেন? প্রত্যেকেই ক্ষমতার লোভে অন্ধ। কেউ ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় আবার কেউ ক্ষমতায় যেতে যায়। এমন আশা দূরে ঠেলে একবার দেশের কথা ভাবুন, দেশের ষোল কোটি মানুষের কথা চিন্তা করুন। আপনাদের দোহাই দিচ্ছি। জাহিদুর রহমান, ভালুকা বাজার, ময়মনসিংহ বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু যে দেশের মানুষ নয়, বিদেশীরাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এ অবস্থায় সরকারি দলকে যেমন দমন-পীড়নের পথ পরিহার করতে হবে, তেমনি বিরোধী দলকেও ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিতে হবে। মো. শওকত আলী শাহীন, ডিওএইচ এস, মহাখালী, ঢাকা সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব বিরোধীদলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয় একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসা। শিশির, পিলখানা ঢাকা চলমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঝুঁকিতে দেশের অর্থনীতি। এ থেকে পরিত্রাণ ও উত্তরণের এখনই সময়। বিপ্লব আলম, উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংঘাতের পথ পরিহার করা দরকার। তা না হলে দেশে যে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা কোনক্রমেই কারোরই কাম্য নয়। সৈয়দা নাসরিন সুলতানা, স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র ভালো নেই সাধারণ মানুষ হতাশাগ্রস্ত। গণতন্ত্র মানেই আমরা বুঝি জয়-পরাজয়ের স্বাদ নেয়া। তাই এখন সরকার ও বিরোধী দলের আচরণ সংযত হতে হবে। মো. হানিফ মিয়া, ধানমন্ডি, ঢাকা শাহবাগ চত্বর এই মুহূর্তে একটিমাত্র দাবিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিরোধী দলের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন দলকে বাধ্য করাতে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করলে বিরাজমান শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি এমনিতেই দূরে হবে। মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকার ও বিরোধী দলকে আন্তরিক হতে হবে। তাদেরকে দু’টি কাজ করতে হবে এ মুহূর্তে; একটি সংলাপে বসতে হবে ও বিরোধী দলকে সংসদে গিয়ে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা। ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা রোগি বললেন,“ ডাক্তার সাহেব পায়ুপথ থাকতে বোধহয়, আমাশা সারবে না। ঠিক তেমনি হয়েছে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থা। রাজনীতিতে পেশি শক্তির মহড়া যতদিন চলবে, দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিও ততদিন চলবে। এর থেকে উত্তরণের পথ একটাই- দেশপ্রেমে উজ্জীবিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া। দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ক্ষমতায় পাকাপোক্তভাবে থাকা ও ক্ষমতার মসনদ পাবার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে, যার ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ তেতে উঠছে। আর জনগণ উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে, স্বাধীন দেশে পরাধীন নাগরিকের মতো। উদ্বেগাকুল আশংকাজনিত পরিস্থিতি থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে হলে, গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে সর্বাগ্রে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে সরকারকে স্মরণ রাখতে হবে- দেশে কেউ দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে নিজেকে দেখতে চাইনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই শ্বাসরুদ্ধকর বীজটি বোপিত হয়েছে তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থার মীমাংসিত ইস্যুটি ঝেটিয়ে বিদায় করার মধ্য দিয়ে। এই যখন অবস্থা তখন গোদের উপর বিষ ফোড়া হিসেবে স্পর্শকাতর বিষয়ে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিয়েছে যেমন- তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন লালিত হচ্ছে পুলিশ প্রহরা ও সরকারের মায়াবি ও সোহাগি আদরে। অপর দিকে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর দাবি প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে পুলিশের নির্বিচারে গুলি ছোড়ার মাধ্যমে, জীবননাশের বিনিময়ে। এক পক্ষ গার্ড অব অনার পেয়ে রাস্তায় প্রতিবাদ করতে পারছে, আর এক পক্ষ পিপার স্প্রে, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও তাজা গুলির আঘাতে নেতিয়ে পড়ে ও জীবন দিয়ে প্রতিবাদ করছে। একই জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর এই বাংলাদেশে, যতদিন ‘বিভাজন নীতি’ রাজনীতির কূটকৌশলে প্রয়োগ হতে থাকবে, ততদিন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দুরাশা হয়েই থাকবে। অধরা হয়ে থাকবে নাগরিক মূল্যবোধ। এত কিছুর মধ্যেও আমরা যেন স্ব-বশে থাকি, নিজেদেরকে যেন বিকিয়ে না দিই এই বিষয়টি চোখ কান খুলে খেয়াল রাখতে হবে। মুরাদ হোসেন, মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর ধ্বংসাত্মক রাজনীতি নয়, শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বন করতে হবে। তাহলেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি আর থাকবে না। সানজিদা জামান, সিডনী, অস্ট্রেলিয়া হরতালের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। সুতরাং সে দিকটায় নজর রেখেই হরতাল বন্ধ করে বিকল্প অন্য কিছুতে যাওয়া ভালো। হোসনে আরা ঢাকা দেশের সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন টিআইবি। আমরাও তাদের সাথে একমত। লাড্লা, পিলখানা, ঢাকা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি—প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই বাংলাদেশকে পার করতে হয় এক ক্লান্তিকর ভীতিকর ও গ্লানিমিশ্রিত পরিস্থিতি। চলমান অস্বস্তিকর রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এরই পূর্ব সংকেত। হরতাল বনাম হত্যা, রাজনৈতিক নেতাদের হামলা-মামলা, গুম ও খুন, অপহরণ, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও আধিপত্য বিস্তার যেন আজ সমাজের রন্ধে রন্ধে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খোঁজারও যেন আজ কেউ নেই। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জনগণ জিম্মি। তারা আজ পথের দিশা পাচ্ছে না। বড় দু’দলকেই জনগণ একাধিকবার ক্ষমতায় বসিয়েছে কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। কোন দলই দেশের স্বার্থে হরতালের বিপরীত কিছু আবিষ্কার করতে পারেনি, পারেনি সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করতে, মাদকের আমদানি ও সরবরাহ বন্ধ করে যুবসমাজকে এর কালো থাবা থেকে মুক্ত করতে। ক্ষমতা নামক বিষয়টি তাদের রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় তারা সর্বত্র ব্যর্থ। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গিয়ে তারা সমস্ত শ্রম ও মেধা ব্যয় করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য। কোন কোন রাজনৈতিক নেতার চেহারা টিভির পর্দায় দেখলেই বোঝা যায় এখন সে তার বিরোধীদল সম্পর্কে কী বলবে। এই যদি হয় নেতার আদর্শ তাহলে একটি দেশের উন্নতি হয় কীভাবে? শাহ্বাগে তরুণ প্রজন্মের জোয়ার দেখে দেশবাসী অনেক বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিল কিন্তু তার মধ্যেও আজ হ য ব র ল অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সচেতন তরুণরা প্রতিবাদের নামে উপভোগ করছে নাচ, গান। সঠিক ও ন্যায়বিচার চাই-এর পরিবর্তে বলছে ফাঁসি চাই দিতেই হবে। একটি দাবি থেকে ৭টিতে উন্নতি হয়েছে। তরুণরা নিজেরাও জানে না মূল লক্ষ্য থেকে কখন যে বিচ্যূত হয়েছে, সবগুলো দাবি আবার কোন নির্দিষ্ট দলের মতাদর্শের বিরুদ্ধে। তাই দেখে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না তরুণরা কোন দলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে কিনা। অথচ চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তারা অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারতো। ডা. মর্জিনা আক্তার গুলশান, ঢাকা সামনে জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু আগামী নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীদলের অবস্থান পুরোপুরি বিপরীতমুখী। এই অবস্থা যদি এখনই হয় তাহলে তো এখন প্রয়োজন উভয় দলের সংলাপে বসে মীমাংসা করা। মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল), আরাপপুর, ঝিনাইদহ বিরোধীদলের একমাত্র দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই দাবিতে তারা অনড়। অন্যদিকে সরকার সে ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে নেই। শ্বাসরুদ্ধকর এই পরিস্থিতি প্রয়োজন আলোচনার টেবিলে বসা। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী, কবিরহাট, নোয়াখালী এখন প্রয়োজন দুই দলের সংলাপ। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হওয়া খুবই জরুরি। নার্গিস, হাজারীবাগ, ঢাকা মতদ্বৈধতা থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জনগণের মঙ্গল নিশ্চিত করতে উভয়পক্ষকে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। সন্জ, চট্টগ্রাম। দুই বড় রাজনৈতিক ও ছোট দলগুলোকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। মোঃ মোজাহারুল ইসলাম ঢাকা সরকার দমন পীড়ন চালালে এর প্রতিবাদ অবশ্যই আছে কিন্তু তা হতে হবে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও অহিংস। যাতে করে জনসাধারণের জন্য ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। মো. সেলিম, মহাখালী, ঢাকা এদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদে নির্বিঘ্নে চলাচল করার ও জীবিকা নির্বাহের অধিকার আছে। সুতরাং এই অস্থিরতার শেষ হওয়া দরকার। শাহানারা ইয়াসমীন, মিরপুর-১, ঢাকা রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত এবং তা বেড়েই চলেছে। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এ অস্থিরতার শেষ হওয়া একান্ত প্রয়োজন। পারভীন সুলতানা ঝিনাইদহ হরতাল ও অরাজকতার কারণে দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ জিম্মি। নানা কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরো বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষ পড়ছে নানা সমস্যা ও দুর্ভোগে। এই অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই। হাবিবুর রহমান, মতিঝিল, ঢাকা রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা যেটাই হোক কেন তা দেশের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। আবার তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর মানুষের জীবনযাপন ব্যাহত হয় যখন। সুতরাং রাজনীতি হতে হবে স্থিতিশীল। নীলুফা আক্তার, টোলারবাগ মিরপুর, ঢাকা দেশের মানুষের মনে এখন নানা রকমের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাতে করে সব শ্রেণীর লোকেরই বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন। তাই আমরা আশা করবো বড় দল দুইটি মধ্যে আলোচনা। মোস্তানসিরুন ধানমন্ডি, ঢাকা দেশের স্বার্থের চেয়ে রাজনীতির দলগুলোর নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে মরিয়া হওয়ার কারণে রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়ছে। জনগণ শান্তি চায়। জনগণ অস্থির রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। তাই সকলের প্রতি আহ্বান শান্তির পক্ষে রাজনীতি করুন। মো. ফখরুল ইসলাম (বিপু), সেনবাগ, নোয়াখালী চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। গত বিএনপি সরকারের আমলে পুলিশ অওয়ামী লীগের অফিসে কাঁদানে গ্যাসের শেল মেরেছিল। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু এবারের ঘটনা তাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কোনো সামরিক আমলেও এভাবে প্রধান বিরোধীদলের উপর চড়াও হওয়া, জামিনে থাকা নেতাদের গণগ্রেপ্তার ও হাতুরি দিয়ে কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার পর পুলিশ যথারীতি মামলাও করেছে আক্রান্ত নেতাকর্মীদের উপর। পুলিশের এ আগ্রাসী ভূমিকার কারণ কী? পুলিশের কাজ হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া কিন্তু অতি সমপ্রতি বগুড়াসহ সারাদেশে আমরা কী প্রত্যক্ষ করলাম। সামান্য লাঠিসোটাবাহী মানুষের উপর পুলিশের তাণ্ডব। কেন এমন হচ্ছে? সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা ছাড়া অন্য কোন পন্থা কি জানা নেই আমাদের পুলিশ বাহিনীর। এ হত্যার দায় কে নেবে? সরকার নাকি বিরোধীদল? জানি কেউ নেবে না। অন্যদিকে প্রধান বিরোধীদলের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীর সহাবস্থান অপরিহার্য। এক্ষেত্রে দুই নেত্রীর সদিচ্ছাই যথেষ্ট কিন্তু বাধ সেধেছে দুই নেত্রীর একে অপরের উপর নগ্ন আক্রমণ। এ সহাবস্থানের জন্য আগে দুই নেত্রীর মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। যেহেতু অবিশ্বাসের রাজনীতি চলছে তাই নিজেদের মধ্যকার হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে দুই নেত্রী অন্তত সহাবস্থানে আসবেন। সমঝোতার জন্য যা যা করা দরকার তাই করতে হবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের। দুই দল সমঝোতায় পৌঁছতে পারলে অন্য কোন শক্তির পক্ষে দেশে অরাজকতা করা সম্ভব নয়। সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমরা রাজনৈতিক এ অস্থিরতা থেকে মুক্তি চাই। মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সারিয়াকান্দী, বগুড়া