বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে তদারকির অভাব
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২১:০৯
বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আওতায় পরিচালিত হইয়া থাকে বলিয়া সেগুলি কিছুটা শৃঙ্খলার মধ্যে রহিয়াছে এবং ন্যূনতম মান অর্জনের একটি তাগিদ সর্বমহলে রহিয়াছে। বলা যায়, কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেশ ভালোমতোই চলিতেছে। কিন্তু বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলির সুনির্দিষ্ট কোনো তদারকি সংস্থা না থাকায়, পরিচালিত হইতেছে বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্য দিয়া। বিশেষত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি স্থাপনের প্রাথমিক লক্ষ্য মুনাফা অর্জন হওয়ায়, যথেষ্ট মান রক্ষা না করিয়াই চিকিত্সাশিক্ষা প্রদান করা হইতেছে। ইহার বিপদের দিক হইল, যথেষ্ট ভালো জ্ঞান অর্জন না করিয়াই এই কলেজগুলি হইতে ডাক্তাররা বাহির হইবে এবং তাহাদের মাধ্যমে অপচিকিত্সা চর্চার আশঙ্কা দেখা দিবে। উচ্চশিক্ষার হার বাড়াইতে কিংবা দেশের স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বিস্তৃত করিতে এই মেডিকেল কলেজগুলি উল্লে¬খযোগ্য অবদান রাখিতে পারিবে, যদি প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা যায়। এমনকি ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জন করিয়াও মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা সম্ভব। কিন্তু সুনির্দিষ্ট তদারকি সংস্থার অনুপস্থিতিতে মুনাফাশ্রয়ী প্রতিষ্ঠানগুলি নিজ নিজ মান রক্ষা করিতেছে না।
এইসব বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হইল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর শিক্ষার্থী ও কারিকুলামের বিষয়াদি দেখভাল করিয়া থাকে। আর শিক্ষার্থীরা পাসের সনদ পাইয়া থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অপর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হইতে। আর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ও কারিকুলামের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়া থাকে। একেকটি বিষয় একেক স্থান হইতে নিয়ন্ত্রণ হইবার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির সুষ্ঠু তদারকি হইতেছে না। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমপ্রতি ‘বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা আইন ২০১২’-এর খসড়া প্রবর্তন করিয়াছে, যাহা চূড়ান্ত হইবার অপেক্ষায় রহিয়াছে। বিদ্যমান নীতিমালায় ৫০ আসনের কলেজ অনুমোদন করাইতে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের জন্য ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু রাখিবার শর্ত রহিয়াছে। মোট শয্যার ৭০ শতাংশ রোগী ভর্তি থাকিতে হইবে। ইহাছাড়া শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গ্রহণযোগ্য অনুপাত এবং ল্যাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংস্থানের উপর জোরারোপ করা হইয়াছে। আইনের খসড়ায় আরও বলা হইয়াছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিত্সা শিক্ষা শাখার পরিচালকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি থাকিবে যাহাতে মেডিকেল শিক্ষক, বিএমডিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব থাকিবে। কলেজ স্থাপনের পর এই কমিটি পাঁচ বত্সর পর্যন্ত প্রতি বত্সর একবার এবং পরে প্রতি দুই বত্সরে একবার কলেজ পরিদর্শন করিবে।
খসড়া আইনটি কার্যকর হইলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলিতে বিশৃঙ্খলা দূর হইবে আশা করা যায়। পাশাপাশি ৫৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তদারকি সংস্থা সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত। যাহা হউক, অল্প কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বাদে বেশিরভাগ কলেজেরই শিক্ষা কার্যক্রম মানসম্মত নহে। মঞ্জুরি কমিশনের আওতায় ধীরে হইলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যেমন শৃঙ্খলা আসিতেছে, তেমনি বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলিও একক সংস্থার অধীনে পরিচালিত হইলে উন্নত মানের চিকিত্সাশিক্ষা দেশে প্রবর্তিত হইতে পারে।