দশ বছর পর

বাংলাদেশের বোলিং বললেই বিশ্ব ক্রিকেটে একটা ব্যাপার আলোচনায় চলে আসে—বাঁহাতি স্পিনারদের দাপট। একসঙ্গে তিন বাঁহাতিকে নিয়মিত একাদশে খেলানোর ব্যাপারটাও বাংলাদেশই করিয়ে দেখিয়েছে। কিন্তু সেই বাংলাদেশই গতকাল কলম্বোতে টেস্ট খেলতে নামল কোনো বাঁহাতি স্পিনার ছাড়া! সেই ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেয়ার্নস টেস্টের পর এই প্রথম কোনো বাঁহাতি স্পিনার ছাড়া বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে নামল। নব্বইয়ের দশক থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা দুই বোলার ছিলেন দুই বাঁহাতি স্পিনার—মোহাম্মদ রফিক ও বর্তমান আম্পায়ার এনামুল হক মনি। সে সময়ের ম্যানেজমেন্টের নীতির কারণে তারা নিয়মিত একসঙ্গে খেলতে পারেনি। তবে রফিক থাকতে থাকতেই বাংলাদেশ তিন বাঁহাতি স্পিনারের যুগে ঢুকে পড়েছে। ২০০৩ সালে কেয়ার্নস টেস্টের ঠিক আগেই ডারউইন টেস্টে বাঁহাতি স্পিনার ছিলেন মানজারুল ইসলাম রানা। আবার এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচি টেস্টে মোহাম্মদ রফিক দলে ফিরে এসেছিলেন। এর মধ্যে এনামুল হক অবসর নিয়ে ফেললো ২০০৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশ দাঁড় করিয়ে ফেলে বাঁহাতি স্পিনার ত্রয়ী। ওয়ানডেতে প্রথম এই ত্রয়ীতে ছিলেন মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসান। এরপর মোহাম্মদ রফিকও অবসরে চলে গেছেন। কিন্তু মানজারুল ইসলাম রানা, মোশাররফ রুবেল, এনামুল হক জুনিয়র, মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী থেকে আজকের ইলিয়াস সানি পর্যন্ত ধারাটা ধরে রেখেছিলেন। মোদ্দা কথা সেই ২০০৩ সালের পর আর এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশের কখনোই হয়নি যে, তারা বাঁহাতি স্পিনার ছাড়াই একাদশ গড়বে। এর একটা বড় কারণ সাকিব আল হাসান। যেহেতু তিনি সবসময়ই ‘অটোমেটিক চয়েস’; তাই এমন ঘটনা ঘটার সুযোগও খুব একটা হয় না। এবার সাকিবের না থাকা, ইলিয়াস সানির ফর্মহীনতা, কলম্বোর পেসবান্ধব হওয়ার গুঞ্জন ও রাজ্জাকের ‘ওয়ানডে বোলার’ তকমা মিলিয়ে ব্যাপারটা ঘটেই গেল।