[ ই তি হা স ]
নায়ক থেকে মহানায়ক এবং রণধ্বনি
থেকে জাতীয় জাগরণ-ধ্বনি
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২১:২৮
বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে থাকলে নব্বই-ঊর্ধ্ব বয়সের অধিকারী হতেন। তিনি বেঁচে নেই একথাই বা কি করে লিখবো? আমাদের দেশে একটা কথা প্রচলিত আছে, “সম্ভাবামি যুগে যুগে।” সকল যুগেই আমার আবির্ভাব সম্ভব। এই “আমি” হচ্ছেন সেসব নায়ক এবং মহানায়ক, যারা নশ্বর দেহে নন, অবিনশ্বর আদর্শ হয়ে বেঁচে থাকেন। গান্ধী, লিঙ্কন, চে গুয়েভারাদের তাই মৃত্যু নেই। সন্দেহ নেই বাংলার বঙ্গবন্ধু এই কাতারের নেতা। আমরা তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিবস পালন করি বটে, কিন্তু তিনি সর্ববাঙালির মননে ও মানসে বেঁচে আছেন চিরদিনের জন্য।
১৭ মার্চ তার জন্মদিন। প্রথাগতভাবে প্রতিবছর এই দিবসটি আমরা পালন করি। কিন্তু বাঙালির কাছে তিনি নিত্যদিনের স্মরণীয় মানুষ। রবীন্দ্রনাথ যার সম্পর্কেই বলে থাকুন “নিত্য তোমারে চিত্ত ভরিয়া স্মরণ করি,” বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কথাটি সর্বতোভাবে সত্য। আজ যে ঢাকার শাহবাগ চত্বরে অযুত মানুষের কণ্ঠে জয়বাংলা শ্লোগানটি উচ্চারিত হচ্ছে, এই শ্লোগানটি বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠনিঃসৃত জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি। এটি এখন যুবজনতার নব জাগরণ তথা গণজাগরণের শ্লোগান রূপে আবার আবির্ভূত হয়েছে। বলা হচ্ছে, শাহবাগ চত্বর থেকে যে বিশাল গণজাগরণ, তা বাঙালিদের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধেও বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘সম্ভাবামি যুগে যুগে’ কথাটির সত্যতা এখানেও প্রমাণিত হয়।
নায়ক থেকে মহানায়ক, শ্লোগান থেকে জাতীয় জাগরণধ্বনি। বঙ্গবন্ধু ও জায়বাংলা শ্লোগান সম্পর্কে এ কথাটি এখন বিনাদ্বিধায় বলা যায়। আমি একবার ওয়াশিংটনে জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটিতে এক ছাত্রসভায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। সভায় বেগম জোহরা তাজউদ্দীন, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী এবং আরও অনেক বিশিষ্ট বাঙালি উপস্থিত ছিলেন। শ্রোতা-ছাত্রদের মধ্যে বেশিরভাগ বাঙালি এবং আমেরিকা, কানাডা ও লাতিন আমেরিকার ছাত্রছাত্রীও ছিলেন।
আমি মাত্র বক্তৃতা শেষ করেছি, এমন সময় শ্রোতাদের সারি থেকে একজন ছাত্র উঠে দাঁড়িয়ে পরিচয় দিলেন, তিনি কানাডিয়ান এবং তিনি একটি কথা জানতে চান। বললাম, বলুন। ছাত্রটি জানালেন, তিনি কানাডায় এবং আমেরিকাতেও বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে (তখন জেনারেল এরশাদের রাজত্বকাল) বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে শেখ মুজিব সম্পর্কে কিছু জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছু বইপত্র চেয়েছিলেন। তার নিজস্ব একটি গবেষণার জন্যই শেখ মুজিব সম্পর্কে জানা দরকার ছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন ও অটোয়ার দুই বাংলাদেশ-দূতাবাসই এমন ভাব দেখিয়েছে, যেন তারা শেখ মুজিব নামটিই শোনেনি, কোনো কাগজপত্র দেওয়া দূরের কথা। তাকে জানিয়েছিলাম, বর্তমানে যে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় আছেন এবং যে জেনারেল জিয়া তার আগে ক্ষমতায় ছিলেন, দু’জনেরই ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা ছিলো স্বাধীনতার স্থপতি এবং জাতির জনকের নাম যেন ইতিহাসে না থাকে এবং দেশবাসী তাঁকে স্মরণে না রাখে।
ছাত্রটি আমার কথা শুনে বললেন, তার গবেষণার কাজটি অবশ্য শেষ হয়ে গেছে। তবু তিনি আমার কাছে সংক্ষেপে জানতে চান, স্বাধীন আমেরিকার স্থপতিদের মধ্যে কোন্ নেতার সঙ্গে শেখ মুজিবকে তুলনা করা যায়। আমি একটু মুশকিলে পড়ে গিয়েছিলাম, চট করে কী জবাব দেব? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন্ স্থপতির সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে তুলনা করতে পারি, যাতে তাঁর চরিত্র বৈশিষ্ট্য কানাডিয়ান ছাত্রটির কাছে তুলে ধরা যায়।
চিন্তামগ্ন ছিলাম। হঠাত্ চোখে পড়লো সভাকক্ষের দেয়ালে বড় দু’টি ছবি পাশাপাশি টানানো। একটি জর্জ ওয়াশিংটনের, অন্যটি আব্রাহাম লিঙ্কনের। সঙ্গে সঙ্গে একটি জবাব মনে এলো। ছাত্রটিকে বললাম, আপনি এই সভাকক্ষের দেয়ালে দু’টি ছবি দেখছেন। একটি ওয়াশিংটনের, অন্যটি লিঙ্কনের, ওয়াশিংটন স্বাধীনতার যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। অন্যদিকে লিঙ্কন সেই স্বাধীনতা এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য প্রাণদান করেছেন। বাংলাদেশের বাঙালির সৌভাগ্য, তারা একজন নেতার মধ্যেই এই দুই নেতাকে পেয়েছেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে ওয়াশিংটনের মতো দেশ স্বাধীন করেছেন। আবার এই স্বাধীনতা এবং দেশের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লিঙ্কনের মতো বর্বর ঘাতকের হাতে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। সভাশেষে কানাডিয়ান ছাত্রটি আমার কাছে এসে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
আমেরিকার আব্রাহাম লিঙ্কন যেমন তাঁর গেটিসবার্গ বক্তৃতা এবং আত্মদানের জন্য শুধু আমেরিকার মানুষের কাছে নয়, সারা বিশ্বের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন, তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তাঁর ৭ মার্চের (১৯৭১) ঐতিহাসিক ভাষণ এবং স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মদানের জন্য এখন বিশ্বের মহানায়কদের সারিতে গিয়ে আসন লাভ করেছেন। আমার এক ভিয়েতনামি সাংবাদিক বন্ধু আছেন লন্ডনে। তার বাসায় ড্রয়িং রুমে দু’টি মাত্র ছবি। একটি হো চি মিনের এবং অন্যটি শেখ মুজিবের। তার কাছে এ দু’জনের পরিচয় হচ্ছে পাপা মিন এবং পাপা মুজিব। তার ধারণা, এ দু’জনই হচ্ছেন সাম্প্রতিককালের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী যুদ্ধের দুই মহানায়ক। দিনকয়েক আগে ভেনিজুয়েলার জননায়ক শ্যাভেজের মৃত্যুতে তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখেছি।
মিসরের বিখ্যাত দৈনিক ‘আল আহরামের’ প্রয়াত সম্পাদক মোহাম্মদ হাইকেলের মতে, আরব জাতীয়তাবাদের উদ্গাতা জামাল নাসের এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্গাতা শেখ মুজিব এ দু’জন নেতাই পশ্চিমা বিশ্বে অত্যন্ত ভুল বোঝা মানুষ (misunderstood leaders)। এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে পারলে এই দুই নেতাকেও পশ্চিমা বিশ্ব মহানায়ক হিসেবে বহু আগে স্বীকৃত দিতো। প্রেসিডেন্ট নাসেরের মৃত্যুর পর হাইকেল লন্ডনের সানডে টাইমস পত্রিকায় নাসের সম্পর্কে একটি দীর্ঘ লেখা ধারাবাহিকভাবে লেখেন। লেখাটি বই হিসেবে প্রকাশের পর পশ্চিমা বিশ্বে নাসেরের রাজনৈতিক জীবনের নতুন মূল্যায়ন শুরু হয়।
মোহাম্মদ হাইকেল ছিলেন প্রেসিডেন্ট জামাল নাসেরের ঘনিষ্ট বন্ধু ও পরামর্শদাতা। যেমন ‘ইত্তেফাকের’ প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রয়াত তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করতেন এবং ডাকতেন মানিকভাই। হাইকেলের কথায় আসি। তখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আইয়ুব খান বন্দুকের জোরে পাকিস্তানে ক্ষমতা দখল করে প্রেসিডেন্ট পদে পাকাপোক্ত হয়েছেন। এই সময় আইয়ুবের আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট নাসের পাকিস্তান সফরে আসেন এবং একদিনের জন্য ঢাকাতেও পা রাখেন। তিনি পল্টনের মাঠে এক জনসভায় বক্তৃতাও দেন।
নাসেরের সঙ্গে এসেছিলেন তাঁর বন্ধু এবং আল আহরাম সম্পাদক মোহাম্মদ হাইকেলও। তিনি ঢাকায় তাঁর একদিনের অবস্থানের সময় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং পত্রিকা সম্পাদকের সঙ্গেও বৈঠক করেন। শেখ মুজিব এবং মানিক মিয়ার সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাত্ ঘটে। (মুইও তাঁদের সঙ্গে গেছিলাম)। এই সাক্ষাতের সময় মুজিব-হাইকেল কি কথাবার্তা হয়েছিলো আমার স্মরণ নেই। কিন্তু এই কথাবার্তা থেকে শেখ মুজিবের সঙ্গে করমর্দন করে হাইকেল যা বলেছিলেন, তা আমার মনে আছে। তিনি বলেছিলেন, “মি. শেখ, আই হোপ ওয়ান ডে ইউ উইল বি এ গ্রেট লিডার লাইক জামাল নাসের।” পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়েছে, বহু ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নাসেরের চাইতেও বড় নেতা। নাসেরের সেক্যুলার আরব জাতীয়তাবাদের সে াত আজ মিসরের বুকেই অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। অন্যদিকে শেখ মুজিবের সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তাবাদ এখন নববলে বলীয়ান হয়ে জয়বাংলা জয়ধ্বনিতে দেশের আকাশ বাতাস মুখরিত করছে।
নাসেরের মৃত্যুর বেশ কিছুকাল পর হাইকেল লন্ডনে এসেছিলেন এবং পার্কলেন হিল্টন হোটেলে অবস্থান করছিলেন। বঙ্গবন্ধুও তখন বেঁচে নেই। আমিও লন্ডনে বাস করছি। হাইকেল তখন ‘সানডে টাইমস’ কাগজে নাসেরকে নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক লেখাটি শুরু করেছেন। আমি বহু চেষ্টা করে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাই। তাঁকে আমার সম্পাদিত বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত ইংরেজি স্মারক গ্রন্থটি উপহার দিতেই তিনি অত্যন্ত উত্সুক হয়ে বইটি নেড়েচেড়ে দেখতে শুরু করেছিলেন। আমাকে বলেছিলেন, পঞ্চাশের দশকে শেখ মুজিবকে দেখেই তাঁর মনে হয়েছিল, ভবিষ্যতে তিনি একজন মহানায়ক হবেন। তাঁর অনুমান বেঠিক হয়নি। তবে জামাল নাসেরের মতো শেখ মুজিবও পশ্চিমা বিশ্বে একজন মিসআন্ডারস্টুড লিডার। তিনি নাসের সম্পর্কে পশ্চিমাদের এই ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশেও শেখ মুজিব সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্বের ভুল ভাঙানো এবং তিনি যে দক্ষিণ এশিয়ার একজন মহানায়ক ছিলেন তা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আটত্রিশ বছর কেটে গেছে। তাঁর সম্পর্কে ইংরেজি, বাংলা এবং অন্যান্য কোনো কোনো ভাষায় ছোট-বড় বহু বই বেরিয়েছে এবং শুধু তাঁর নিজের দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও তাঁর যথার্থ মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে পঁচাত্তরে ন্যাশনাল ট্রাজেডির পর স্বাধীনতার শত্রুপক্ষ ক্ষমতায় বসে দীর্ঘকাল ধরে চেষ্টা করেছে বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার এবং স্বাধীনতার মূল আদর্শের স্তম্ভগুলো ভেঙে ফেলার। এখনো দেশের পাকিস্তানপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল শিবির এই চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই চেষ্টা যে সফল হয়নি, তার প্রমাণ চার দশক পরে হলেও বাংলাদেশে নতুন গণজাগরণের মূর্ত প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর মহানায়কোচিত পুনরুত্থান এবং জয়বাংলা রণধ্বনির জাতীয় জাগরণধ্বনিতে পরিণত হওয়া। অনেকেই বলেন, একাত্তরের অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধটি আবার শুরু হয়েছে। এটি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। দেশের রাজনৈতিক পোলারাইজেশনও দুইভাগে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে সেক্যুলার গণতান্ত্রিক শিবির, অন্যদিকে একাত্তরের পরাজিত জঙ্গি মৌলবাদী শিবির এবং তাদের সহযোগী সাম্প্রদায়িক দল। স্বাভাবিকভাবে এই যুদ্ধের নেতৃত্ব ও শ্লোগানও অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
বঙ্গবন্ধুর এবারের জন্মদিবস পালন তাই একটা নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু স্মরণ, শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে নয়, আমার ধারণা, সারাদেশে একাত্তরের মানবতার শত্রুদের চরম শাস্তিদানের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ও জাগ্রত যুব জনতা বঙ্গবন্ধুর নামে সংগ্রাম সফল করারও শপথ নেবে। কবি গোলাম কুদ্দুসের ভাষায় এই যুব জনতা সম্পর্কে বলতে হয় “তারা আজ দৈত্যবধের সত্য করেছে অর্জন।”
১৭ মার্চ তাই শুধু বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নয়, স্বাধীন বাঙালি জাতিরও প্রকৃত জন্মদিন। বাঙালির হাজার বছরের যে সমৃদ্ধ লোকায়ত সমাজ, সভ্যতা ও সংস্কৃতির চেতনা এবং জাতীয় মানসে দৃঢ় গণতান্ত্রিক বোধ তার উদ্বোধন করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। তাকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বা আফগানিস্তান বানানো যাবে না। বাঙালির গণতান্ত্রিক অস্তিত্বের তিনটি অপরাজেয় প্রহরী, বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ ও শেখ মুজিব। এই পাহারা ভেঙে কোনো অপশক্তির কোনো চক্রান্ত সফল করা সম্ভব হবে না। প্রতি বছর ১৭ মার্চের কাছ থেকে এই সত্যটাই আমরা নতুন করে জানি।
লন্ডন ১৬ মার্চ, শনিবার, ২০১৩