প্রজন্মের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার
রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৩, ১৬:৫৫
বিনোদনের একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে শব্দ। এই শব্দকেই যিনি শ্রোতাদের মাঝে শ্রুতিমধুর করে তুলেন মূলত তিনিই সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের কাজ হচ্ছে সাউন্ড রেকর্ডিং, এডিটিং এবং রেকর্ডেট সাউন্ড অথবা লাইভ সাউন্ডকে শ্রোতাদের কাছে ভালোভাবে উপস্থাপন করা। এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় শব্দ পরিসঞ্চালন। গান রেকর্ডিং এবং তা এডিটিং করা সাউন্ডের জগতের একটা অংশ। এই প্রজন্মের কাছে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক জনপ্রিয় একটি পেশা। তাই এই প্রজন্মের সফল কয়েকজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। পুরো আয়োজনটি দেখুন পরের পৃষ্ঠায়। গ্রন্থণা এবং সম্পাদনা করেছেন
রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
রি প ন না থ
চিফ সাউন্ড ডিজাইনার, ধ্বনিচিত্র
‘মনপুরা’র কথা মনে আছে নিশ্চয়ই! ‘চোরাবালি’, ‘টেলিভিশন’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’—এতোগুলো সফল কাজের সাউন্ড ডিজাইনার একজন। তার উপর যতই ঈর্ষান্বিত হন না কেন, এটাও সত্যি যে দেশ-বিদেশে তার নির্দেশনায় সাউন্ড ব্যবহার করা হয়েছে কয়েক হাজার বিজ্ঞাপনচিত্রে! এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ‘আমারে ছাড়িয়া বন্ধু কই রইলা রে’, বাংলালিংকের ‘দিন বদলের চেষ্টা’, সিলন টির ‘ময়না পাখি’র নাম না বললেই নয়। আর নাটকে তো মাঝে মাঝে কাজ চলছেই। নামটা বলে দিলেও সবার মনে হবে আরে ! একে তো চিনি। এই সব কাজের শেষে স্ক্রলে তার নাম ভেসে ওঠে অহরহ। তিনি রিপন নাথ। ধ্বনিচিত্রতে কাজ করছেন চিফ সাউন্ড ডিজাইনার হিসেবে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ দেশের মানুষকে দিয়ে এসেছেন দারুণ সব কাজ।
রিপনের কাছ থেকে শ্রোতারা সব সময়ই ভালো কিছু পেয়ে থাকে, এর অবশ্য কারণও আছে। তিনি নিজেই কখনো বিরক্তিকর শব্দ সহ্য করতে পারেন না। স্কুল পড়ুয়া ছেলেদের যখন দামী খেলনার দিকে ঝোঁক, রিপন তখন বাবার কাছে ভালো সাউন্ড সিস্টেমের আবদার করে বসেন। এর কারণ হলো, বিখ্যাত শিল্পীদের অনেক গানই তিনি ঠিকমতো শুনতে পেতেন না। বাবা সে আবদার রেখে ন্যাশনালের দারুণ এক ক্যাসেট প্লেয়ার কিনে দিয়েছিলেন। তাতেই কি শেষ? সে যুগে গান শুনতে হলে রেকর্ড চাই ভালো। চট্টগ্রামের রিপন চলে যেতেন শহরের অন্যপ্রান্তে শুধু গান রেকর্ড করার জন্য, শব্দের প্রতি যার এত টান, সেই শব্দ তাকে ভালোবেসে আপন করে নেবে না, তা কি হতে পারে? সে জন্যই তো আজ তিনি দেশের সফল সাউন্ড ডিজাইনারদের অগ্রপথিক। প্রবীণ সাউন্ড ডিজাইনার রতন পালের কাছে তার হাতেখড়ি।
রিপনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমাদের দেশে এই ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ কেমন? তিনি জানালেন, রেডিও-টেলিভিশনে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে, চলচ্চিত্রে তো রয়েছেই। সুতরাং যদি কেউ ঠিক করেই আসে এখানে কাজ করবে, করার অনেক জায়গা রয়েছে, নিজে শুধু মন দিয়ে করে গেলেই হল। তবে খুব তাড়াতাড়ি তো কিছু হয় না! তার নিজের ক্ষেত্রেও হয়নি। তিন-চার বছর তারা বাইরে দেখেছেন, কাজ শিখেছেন, তারপর না আস্তে আস্তে প্রবেশ এই জগতে। সেই সাথে ছিল প্রচুর প্রচুর গান শোনার আর চর্চার অভিজ্ঞতা। সফটওয়্যার কিনে একদিনেই তো কেউ সাউন্ডের অনেক কাজ শিখে যেতে পারে। কিন্তু অনুধাবন করার জন্য অনেক সময় দরকার। একটা গান যে আমরা শুনি, সেটার নাড়ি-নক্ষত্র আবিষ্কার করার বিষয়টা রাতারাতি সম্ভব না। উদাহরণ টেনে রিপন বলেন, পথ তো চিনেই নেওয়া যায়, পথ ধরে না হাঁটলে বুঝা যায় না সেটা বন্ধুর না মসৃণ।
সাউন্ড ডিজাইনার রিপন নাথের ছেলেবেলা কেটেছে রাজবাড়ি শহরে, তারপর চট্টগ্রামে। বাবা রেলওয়েতে চাকরি করতেন, তাই ঘোরাঘুরি হয়েছে বেশ। শেষের দিকে নিজের শহর চট্টগ্রামে চলে আসেন। ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছেন সেখানেই। সাত ছেলেমেয়ের মাঝে রিপনের অবস্থান ছয় নম্বরে, এত ভাইবোনের মাঝে শৈশব অভিজ্ঞতাটাও দারুণ রিপনের কাছে। যারা খুব প্রথম প্রথম বাঁধ সাধত এত সাউন্ড সাউন্ড করে কী হবে? তারাই এখন তার দারুণ ভক্ত।
রিপন বলেন, তার কাছে মনে হয় তিনি সফলতার অনেকটাই দেখেননি এখনও। ‘যদি মনে হয় সব পেয়ে গেছেন, তাহলে তো আর এই জীবনটার আর দাম থাকে না!’ প্রতিদিন দেখছেন, শুনছেন, অনেক কিছু জানছেন। এভাবেই তো এগিয়ে যাওয়া। দিনকে দিন আমাদের প্রযুক্তি যতই উন্নত করতে পারব, বিশ্বমানের কাজগুলো সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখবে ও বুঝতে পারবে। এই ভাবনায় প্রতিদিন নতুন করে পথ চলেন তিনি।
ছবি :দীপঙ্কর দীপু
রিপন নাথ
ডাকনাম :রিপন
মায়ের নাম :অঞ্জলি দেবী
বাবার নাম :অনিল বিহারী নাথ
জন্মতারিখ ও স্থান :১২ এপ্রিল, রাজবাড়ী
প্রিয় মানুষ :বাবা-মা
প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট
প্রিয় উক্তি :ছোট বড় সবার কাছে শিখতে হবে প্রতিদিন।
অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে, ড্রাইভ করে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :প্রতিজ্ঞা আর অধ্যবসায়েই সফলতা আসে।
----
ই ম রু ল হা সা ন
মিউজিক ডিরেক্টর ও ইনচার্জ (অডিও), বাংলাভিশন
আশির দশকের শেষ দিকে হবে, মনে প্রাণে কেবল গান আর গান। ছেলেটা দিনরাত বাইরে গান করে এসে স্টুডিওতেই ঘুমিয়ে পড়ে। সাউন্ড নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন এই ভাবনাটা তখন থেকেই। সংগীতের সাথে সাউন্ডের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। যাই হোক, নিজেদের কনসার্টে যখন ঠিকঠাক শব্দ পেতেন না, বিরক্ত হতেন খুব। নিজেরাই তখন খুঁটিনাটি দেখতে দেখতে কাজ শুরু করলেন সাউন্ডের সাথে। এভাবেই সম্পাদনা আর অডিও মিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়া। শখের বসে চলছে মিউজিকও। নিজের রয়েছে একটা ইভেন্ট অর্গানাইজেশনও। তিনি ইমরুল হাসান ইমন। যারা গানের জগতে আছেন, তাদের অনেকেরই প্রিয় এই মানুষটা বিনয় দিয়ে জয় করে নিয়েছেন সবার মন। আর সব ভাইবোনেরা বিদেশ পাড়ি দিলেও তিনিই একমাত্র থেকে গেলেন দেশে, মাটির টানে। শুরুটা মূলত ব্যান্ড মিউজিক দিয়েই, ফেইথ নামে একটা ব্যান্ড দিয়ে তার যাত্রা শুরু। গান বাজনার শখেই একসময় যোগ দেন শ্রুতি রেকর্ডিং স্টুডিওতে। কাজ করা শুরু করেন। একটানা আট বছর কাজ করে সাউন্ডের আদ্যোপান্ত জানা হলো তার। আর সেটা যেকোনো স্টুডিও নয়, প্রখ্যাত শিল্পী খান আতার শ্রুতিতে কাজ করার স্বপন দেখতেন তখন অনেকেই। টোন অ্যান্ড টিউন নামে একটা স্টুডিওতে কাজ করেছেন ইমন। ইমনের অর্জনের তালিকা বেশ দীর্ঘ। এ পর্যন্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক ব্যান্ডের মিউজিক ডিরেকশন দিয়েছেন ইমন। সে তালিকায় রয়েছে এলআরবি অথবা নগরবাউল। ইমনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমাদের এখানে কাজের সুযোগ কেমন একজন সাউন্ড ডিজাইনারের? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আসলে স্টুডিওভিত্তিক চর্চাটা এখন কম। প্রত্যেকেরই নিজের অনেক কাজ করার জায়গা তৈরি হয়েছে, স্বাধীনভাবে কাজ করছেন অনেকেই। রেডিও টিভিতেও রয়েছে কাজের বড় একটা সুযোগ। আর আমাদের দেশে এখন বিশ্বমানের সাউন্ড নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, এর জন্যই সেরাটা জানা দরকার,সেই সাথে শুনতে হবে অনেক দেশি-বিদেশি গান। ইমনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেউ যদি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আসতে চায় তাকে কী করতে হবে? তিনি বলেন, আসলে সংগীতের মূলটা শিখে আসতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষারও দরকার রয়েছে। তবে আমাদের দেশে যেহেতু এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি, কাজ করতে করতে শেখার প্রয়াসটাই চলে আসছে।’ ইমরুল ব্যক্তিজীবনের পুরোটা সময় গানের পেছনে দিয়ে এসেছেন। মিউজিশিয়ান হিসেবে ছিলেন ১০০-র মতো অ্যালবামে। মিউজিক ডিরেকশন দিয়েছেন ৩০টিরও বেশি অ্যালবামে। এ ছাড়া কয়েক হাজার অ্যালবামের সাউন্ড ডিজাইনার ইমরুল হাসান ইমন। বেস্ট সাউন্ড রেকর্ডের জন্য ২০০৩ সালে দেশ মাটি ও মানুষ পুরস্কার আর সেরা সাউন্ড ডিজাইনার হিসেবে ২০০৪ সালে বাচসাস পুরস্কার পান ইমন। ছয় ভাই বোনের বিশাল পরিবারে ইমরুল সবার চেয়ে ছোট ছিলেন। সে জন্যই অনেক ভালোবাসা পেয়ে বড় হয়েছেন তিনি। যদিও ভাইবোনদের সবাই এখন দেশের বাইরে। বাবা কিছুদিন আগে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তিনি যেখানেই আছেন সেখান থেকেই সন্তানের সাফল্যে খুশি আছেন হয়তো। আর এখন স্ত্রী নাজনীন হাসান এবং দুই কন্যা তাসফিয়া হাসান আর আশফিয়া হাসানকে নিয়েই কেটে যায় তার সারাবেলা। কন্যারা যেন তাদের কাছে কথা বলা পুতুল। এর বাইরে শখের বসে বন্ধুরা মিলে একটা ব্যান্ড করেছেন এখন। সব মিলিয়ে সুখেই আছেন তিনি, এই পথ ধরেই থাকতে চান অনেকদিন।
ইমরুল হাসান ইমন
ডাকনাম :ইমন
মায়ের নাম :হোসনে আরা ইসলাম
বাব্বার নাম :মাজেজুল ইসলাম
জন্মতারিখ ও স্থান :২৭ অগাস্ট, কুমিল্লা
প্রিয় মানুষ :মা-বাবা
প্রিয় উক্তি :ট্রাই টু বি সিম্পল।
প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট
প্রথম স্কুল :কুমিল্লা মিশনারিজ স্কুল
অবসর কাটে যেভাবে :মিউজিক করে
সাফল্যের সংজ্ঞা :একাগ্রতা থাকলে সফলতা আসবেই।
----
সু শা ন্ত কু মা র স র কা র
সিনিয়র সাউন্ড প্রডিউসার, ঢাকা এফএম
সময়টা ছিল ২০০৭, তখন সুসান্ত কুমার সরকার একটি বায়িং হাউজে চাকরি করেন। আর বাসায় টুকটাক মিউজিক কম্পোজিশনের কাজ করেন। হঠাত্ করে তার বড় দাদার জুনিয়র বন্ধু নুরে আলম মিলন (ঢাকা এফএম প্রোগ্রাম হেড) তাকে প্রশ্ন করেন যে, এফএম-এ (রেডিও টুডে) সাউন্ড এডিটর হিসেবে কাজ করবেন কি না? প্রশ্ন শোনার সাথে সাথে রাজি হয়ে যান তিনি। কারণ তার বড় দাদা মিউজিকের সাথে জড়িত থাকায় তিনি আর বায়িং হাউজে মন বসাতে পারছিলেন না। মনে প্রাণে চাচ্ছিলেন মিউজিক রিলেটেড কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে। আর তখন থেকেই তার এফএম ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িয়ে পড়া সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত রেডিও টুডেতে, এরপর ২০০৮ সালের জুলাই থেকে ২০১০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এবিসি রেডিওতে, আর বর্তমানে ঢাকা এফএম-এ সিনিয়র সাউন্ড প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন। এই চাকরি জীবনের মাঝে অনেক ভালো ভালো মানুষের সান্নিধ্য ও ভালোবাসা পেয়েছেন। এইটাই তার বড় পাওয়া।
সুশান্ত কুমার সরকারের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার পাথরঘাটা গ্রামে।
সেখান থেকে প্রাইমারি ও হাইস্কুল লেভেল পার করেন তিনি। তারপর পুরো পরিবারের সঙ্গে রংপুরে চলে যান এবং সেখান থেকে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেন। বাবা ছিলেন একজন বড় মাপের ফুটবলার আর মা ছিলেন সু-গৃহিণী। ছিলেন বলতে বাবা-মা দুজনেই স্বর্গীয় হয়েছেন। চারভাই দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট সুশান্ত। তার সেজো দাদা ছিলেন একজন সান্তুুর বাদক। এবং তিনি বাংলাদেশ বেতারে চাকরি করতেন। আর এখন বড় দাদা ও মেজো দাদা বাংলাদেশ বেতারে চাকরি করছেন এবং মিউজিক ডিরেকশনেরও কাজ করছেন। সুশান্তের মা তাকে সংগীত শিল্পী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। বর্তমানে স্ত্রী দৃষ্টি ও একমাত্র মেয়ে সম্পূর্ণাকে নিয়ে সুখের জীবন অতিবাহিত করছেন সুশান্ত।
তার কাজের পরিধি সম্পর্কে জানতে চাইলে সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকা এফএম-এ সিনিয়র সাউন্ড প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছি। আমাদের এখানে স্টেশন আইডি-বাম্পার, প্রোগ্রাম আইডি-বাম্পার, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক, প্রোগ্রাম প্রোমো তৈরি করা হয়। এবং তার সাথে লাইভ মিউজিক্যাল প্রোগ্রাম ব্যালেন্স ও এফএম ব্রডকাস্ট সফটওয়্যার অডিও ভোল্টে সিডিউলিং করতে হয়। এবং কিছু কিছু মিউজিক কম্পোজিশনেরও কাজ করতে হয়। আমরা এখানে মিউজিক সফটওয়্যার লজিক, প্রোটুলস, নিউওন্ড এবং কিছু রিদোমিক সফটওয়্যার ও ভিএসটি প্ল্যাগিন্স-এর দ্বারা কাজ করে থাকি ’
পেশা হিসেবে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার কতটুকু সময়োপযোগী উত্তরে তিনি বলেন, ‘চাকরি জীবনের স্বল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় আমার মনে হয় বর্তমানে আমাদের দেশে এই কাজটা যথেষ্ট উপযোগী ও সম্ভাবনাময়। বর্তমানে মিউজিক সফটওয়্যারগুলো যথেষ্ট হেলফফুল হওয়ায় অনেকে এখন ভালো কাজ করছে। আমার মনে হয় যারা এই কাজে আগ্রহী তারা এটিকে প্রফেশন হিসেবে বেছে নিতে পারে।
সবশেষে, ভবিষ্যতে তার স্বপ্ন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংকে ঘিরেই, সাথে তার মায়ের ইচ্ছা পূরণ অদম্য প্রচেষ্টা তো রয়েছেই।
সুশান্ত কুমার সরকার
ডাকনাম :সুশান্ত
জন্ম তারিখ ও স্থান :২৯ আগস্ট, জয়পুরহাট
মায়ের নাম :সাবিত্রী রানী সরকার
বাবার নাম :সুরেন্দ্রনাথ সরকার
প্রথম স্কুল :পাথরঘাটা প্রাইমারি মিশন স্কুল
প্রিয় ব্যক্তি :আমার বাবা-মা
প্রিয় উক্তি :আর্ট ইজ লং, লাইফ ইজ শর্ট
প্রিয় পোশাক :শার্ট, জিন্সের প্যান্ট
সাফল্যের সংজ্ঞা :নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে শ্রম দিলে জীবনে সাফল্য পাওয়া প্রায় সম্ভব।
----
পী যূ ষ ঘো ষ
সাউন্ড এডিটর, রেডিও আমার
খুব ছেলেবেলায় একটু অন্যরকম ছিলেন পীযূষ ঘোষ। সবকিছুতেই ছিল আগ্রহ, কোথায় কী ঘটছে জানা চাই তার। গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে সেদিকটাতেও আগ্রহ জন্মালো। শুরু করলেন গানের চর্চা, আর গানের থেকেই আগ্রহটা চলে এলো সাউন্ডের দিকে। উচ্চ মাধ্যমিকে পা রাখতেই গানের সাউন্ডের নানা বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হয়ে নিজেরই ট্র্যাক তৈরির প্রতি ভালোলাগার জন্ম। আগ্রহ নিয়ে জড়িয়ে পড়লেন এ কাজে, এখানেও কেউ তাকে আটকে রাখতে পারল না। দেশের নানা জেলায় গানের খাতিরে ঘোরা হয়েছে তার। বাংলাদেশের জনপ্রিয় রেডিও চ্যানেল রেডিও আমারে সহকারী সাউন্ড এডিটর হিসেবে কাজ করছেন তিনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তরের পূর্বেই যোগ্য একজন সাউন্ড ডিজাইনার হিসেবে নিজের নাম পোক্ত আপন আলোয় উদ্ভাসিত এই তরুণ আমাদের তার পথচলার গল্প শুনিয়েছেন। পীযূষ যখন স্কুলে পড়েন তখন নিয়মিত চর্চা ছিল গান আর বিতর্কের। সেই সময় থেকেই গান করেছেন। এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। সব মিলিয়ে গানের জগতের এক স্বচ্ছন্দ পদচারক তিনি। আর গানের মানুষ হিসেবেই সাউন্ডের প্রতি ভালোলাগা। তিনি বলেন, ‘কেউ চাইলেই এখন এটাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখনও সেভাবে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা না থাকলেও কাজ করতে করতেই অনেকে অনেক কিছু শিখছে। আর সাউন্ডের মূল বিষয় হলো, এটা নিয়ে খেলতে জানতে হবে। খেলার মতো করে ভাবলে অনেক সৃজনশীল কিছু করা যায় এর থেকে। সেটা করতে পারবে যারা, তারাই সফল হবে। সফলতার সংজ্ঞাটাও এ ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। গান শুনতে শুনতেই অভিজ্ঞতাটা বাড়ে। যারা সাউন্ড নিয়ে কাজ করতে চান, তাদের অনেক গান শুনতে হবে, প্রচুর মুভি দেখতে হবে। আর এর থেকে ভালো জিনিসগুলো বুঝতে পারলেই সেটা আপনাআপনিই নিজের মাঝে বাড়তে থাকে।’ তিন ভাই-বোনের মাঝে পীযূষ সবার চেয়ে ছোট, তাই সবার ভালোবাসা পেয়েছেন সব সময়। বাবা ছিলেন বিদ্যুতের প্রকৌশলী, আর মা গৃহিণী। বগুড়ায় তার বেড়ে ওঠা, সেখানেই স্কুল-কলেজ। বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ান স্কুল থেকে তার এসএসসি আর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি দেন তিনি। এখন পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা-মা এখনও বগুড়াতেই থাকেন। এর মাঝেই ঢাকাতে নিজের অনন্য এক ক্যারিয়ার নিয়ে পথ চলেছেন তিনি। এ পথ ধরে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তার। পথ তো অনেক, তার মনে হয় সঠিক পথেই আছেন। গানকে ভালোবাসেন বলেই এই জগত্টাও তাকে ভালোবেসে আপন করে নিয়েছে। প্রজন্মের এই সাউন্ডের কারিগরের লক্ষ্য চলচ্চিত্রের কাজ করবেন। এখন শুধু সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাওয়া। নতুনদের বরাবরই এ পেশায় স্বাগত জানিয়ে পীযূষ বলেন, ‘পেশাটা আনন্দের। ভালোলাগা নিয়ে করতে পারলে অনেক দূর যাওয়া যায়। কাজ করার সুযোগও অনেক রয়েছে। শৈশবে খুব দুরন্ত ছিলেন পীযূষ, এখনও সে দুরন্ত শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যান কোনো অলস দুপুরে। এর মাঝেই অনিন্দ্য সুন্দর এক আগামীর স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই দিনটাতে আমাদের দেশ নিয়ে কেউ খারাপ কিছু ভাবতে পারবে না, সেই সময়টাতে আমরা কেবল সমৃদ্ধির কথা ভাবব। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, ‘যার যার জায়গা থেকে একটু সচেতন হলেই বদলে দেওয়া সম্ভব অনেক কিছু।’ তিনি তার জায়গায় থেকে স্বপ্নময় সেই বাংলাদেশ গড়ায় অংশীদার হতে চান। মেধায় মননে আর যোগ্যতায় সেই সাথে অবশ্যই সততায় এগিয়ে যাবেন তিনি অনেক দূর, এই প্রজন্মের শুভকামনা রয়েছে তার সাথে সার্বক্ষণিক।
ছবি :দীপঙ্কর দীপু
পীযূষ ঘোষ
মায়ের নাম :সবিতা ঘোষ
বাবার নাম :প্রফুল্ল ঘোষ
জন্মতারিখ ও স্থান :১৫ ডিসেম্বর, বগুড়া
প্রিয় উক্তি :বন্ধুত্বের বন্ধন চিরকালের।
প্রিয় পোশাক :জিন্স টি-শার্ট
প্রিয় মানুষ :বাবা-মা
অবসর কাটে যেভাবে :গান বাজনা করে
সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম।