আবার হাসি কেড়ে নিলেন সাঙ্গাকারা

মূলত ব্যাটসম্যান। দলের নিতান্ত প্রয়োজনে নিরীহ অফস্পিন করে থাকেন। সেই নাসির হোসেন কাল ‘পেস বোলার’ হয়ে গেলেন। বেশ ভালো অ্যাকশনে দৌড়ে এসে তার করা বলে কয়েকবার পরাস্তও হলেন ‘ব্যাটসম্যান’ নুয়ান কুলাসেকেরা। নিজের বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়ে নিজেই হাসতে হাসতে অস্থির নাসির হোসেন! নাসিরের সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল যেন বাংলাদেশের সব খেলোয়াড়ের মুখে। কাল কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরু আর শেষে এমন হাসি লেগে ছিল বাংলাদেশি ফিল্ডারদের চোখে-মুখে। কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময় জুড়ে সেই হাসিটা কেড়ে নিয়ে ম্যাচে অনেকখানি শ্রীলঙ্কান আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে দিলেন বাংলাদেশের সবসময়ের কঠোর ‘হন্তারক’ সেই কুমার সাঙ্গাকারা ও তরুণ দিনেশ চান্দিমাল। এই দু’জনের জোড়া সেঞ্চুরিতেই দিন শুরুর ধাক্কা কাটিয়েও ৬ উইকেটে ২৯৪ রান তুলে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা। দিনের শেষ সময়ে এসে রুবেল জোড়া উইকেট তুলে নিয়েও পুরোপুরি হাসতে পারছেন না। কারণ উইকেটে রয়ে গেছেন ১২৭ রান করা সাঙ্গাকারা। তবে সাঙ্গাকারার এই প্রবল দাপটের পরও বাংলাদেশের হয়ে দিনশেষে জোড়া উইকেট তুলে নেয়া রুবেল হোসেন বলছেন, এমন কিছু খারাপ অবস্থায় নেই বাংলাদেশ, ‘একটা বড় জুটি হয়েছে। টেস্টে এটা হবেই। তারপর আমরা আবার খেলায় ফিরে এসেছি। ওই জুটির জন্য একটু হতাশাজনক মনে হচ্ছে। কিন্তু আসলে আমরা খুব খারাপ অবস্থায় নেই। সাঙ্গাকারাই এখন আমাদের একমাত্র দুশ্চিন্তা।’ সে দুশ্চিন্তার কারণটা বুঝতে বিজ্ঞানী হতে হয় না। বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই নিয়ে গত পাঁচটা ইনিংসে সাঙ্গাকারার রানটা একবার ফিরে দেখুন—২০০*, ২২২*, ১৪২, ১০৫, ১২৭*! এই পাঁচটি ইনিংস তো আছেই; সবমিলিয়ে সাঙ্গাকারা বাংলাদেশকে পেলেই যেন একটু বেশি বেশি জ্বলে ওঠেন। এই নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৩তম টেস্ট খেলছেন; এখনই রান ১২৫০ হয়ে গেছে; বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটাই। বাংলাদেশের বিপক্ষের এই রেকর্ড ছাড়াও আরও ছোট-খাটো রেকর্ড ভাঙতে ভাঙতে এগোচ্ছেন সাঙ্গাকারা। এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি, বিশ্বের নবম সর্বোচ্চ রান হয়ে গেছে। হয়ে গেছেন দু’বার টানা তিন বা ততোধিক সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান। তবে এসব রেকর্ড সাঙ্গাকারার গতকালকের ইনিংসটা তাত্পর্য বোঝাতে পারছে না। উইকেটে এসেছিলেন টেস্টের প্রথম দিন শেষ বেলায়; ওপেনার দিলশান কোনো রান না করে আউট হওয়ার পর। কাল সকালে যখন ব্যাট করতে এলেন; তার চোখের সামনেই ছোট-খাটো একটা বিপর্যয় ঘটে গেল। দ্রুত তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে খেলায় দারুণভাবে ফিরে এলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার রান তখন ৪ উইকেটে ৬৯। সকালে তিনটি উইকেট তুলে নিলেন রবিউল, আবুল ও সোহাগ। রবিউল আগের দিন নিয়েছিলেন দিলশানের উইকেট। বাংলাদেশ তখন লিড নেয়ারও স্বপ্ন দেখতে পারে। উইকেটে তখন সাঙ্গাকারার সঙ্গী গল টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া চান্দিমাল। এই সময়ই তিনি কেন গ্রেট; এটা প্রমাণ করে দিলেন। পঞ্চম উইকেটে চান্দিমালকে নিয়ে ১৯৫ রান যোগ করলেন। চান্দিমাল রুবেলের শিকার হয়ে ফিরে গেলেও এখনও উইকেটে আছেন সাঙ্গাকারা। রুবেল চান্দিমালকে ফেরানোর পাশাপাশি মাত্রই উইকেটে আসা আরেক তরুণ ভিতাঙ্গেকেও আউট করে ফিরিয়েছেন। সাঙ্গাকারার এই মূর্তি রুবেলরা নিয়মিতই দেখে থাকেন। তাই বিশ্লেষণও করতে সুবিধা তার। রুবেলই ব্যাখ্যা করলেন, কেন সাঙ্গাকারা গ্রেট, ‘ও কখনোই আপনাকে তেমন চান্স দেবে না। বাজে শট ব্যাপারটাই নেই ওর। প্রতিটা শট মনে হয়, ওই বলের উপযুক্ত শট। সে যেমন বাজে বলের জন্য অপেক্ষা করে, চান্সলেস খেলে; এরকম খুব একটা দেখিনি আমি। সে সত্যিই গ্রেট।’ আর উইকেটে এই গ্রেট আছেন বলেই নির্দিষ্ট করে আজ নিজেদের লক্ষ্যটা কী হবে, তা বলতে পারলেন না রুবেল। বলছেন, দ্রুত শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে দায়িত্বটা আসলে ব্যাটসম্যানদেরই নিতে হবে, ‘আমরা চেষ্টা করবো দ্রুত ওদের ইনিংসের শেষটা ছেঁটে ফেলতে। তারপর আসল কাজটা ব্যাটসম্যানদেরই করতে হবে। উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো আছে। সাঙ্গাকারার মতো আমাদের একজন দাঁড়িয়ে গেলেই হবে।’