[ রা জ নী তি ]

জাতির উদ্দেশে ভাষণ কিংবা ‘ট্র্যাঙ্কুলাইজার’-এর মর্মকথা

জর্জ ছোট বুশ যখন ৯/১১-এর হামলার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়েছিলেন, অবশ্যই টেলিভিশনের সামনে, তখন তাঁর পর্দা উপস্থিতি খেয়াল না-করে পারেননি ‘জাতি’র কেউই। সম্ভবত, এমনিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট-এর জাতির আয়তন ভীষণ রকমের বড়। জনসংখ্যা ভূখণ্ড ইত্যাদি বিচারেই বিপুল। নানান জাতি মিলে পুরো রাষ্ট্রটা এমন একটা আদল ধারণ করেছে যে ‘জাতি’ পদটি অপ্রতুল হয়ে পড়ে এর জন্য। হয়তো মহাজাতি আরও কার্যকরী ভাবনা। কিন্তু কেবল তাই তো নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকুল তামাম দুনিয়ার পতি হিসাবে নিজেদের ভাবতে কর্তব্য বিবেচনা করেন, ঐতিহাসিকভাবে। মানে আসলে অধিপতি। বিশ্বব্যাপী পুঁজিতন্ত্র ও সমরতন্ত্রের বাস্তবতায় জগত্বাসীর পক্ষেও সেই কর্তব্যবোধকে উপেক্ষা করার বিশেষ উপায় থাকে না। ফলে জগত্বাসীও সেই অধিপতিত্ব বা আধিপত্য স্নেহ হিসাবে গ্রহণ করে থাকেন। অধীশ্বর জাতির রাষ্ট্রপতি তখন প্রায় প্রত্যেক মানুষের পতির মতো অন্তরে বিরাজমান থাকেন। তামাম জগত্বাসীই তখন প্রজারূপ জাতি। সেভাবেই চলে আসছে। বিশেষ, টেলিভিশন বিশ্বায়নের কারণে প্রজাকুল বসে থাকতেও পারেন অধিপতির সম্মুখে। টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হতে-হতে অধিপতিও জানেন জগত্বাসী প্রজাবত্ তাঁকে শুনছেন, দেখছেন তাঁর মুখচ্ছবি আর হাবভাব। বলছিলাম ছোট বুশের ৯/১১ হামলা পরবর্তী ভাষণের কথা। ছোট বুশের একান্ত ভক্ত রিপাবলিকানদের মধ্যেও কতজন তাঁর পর্দা-উপস্থিতিতে খুশি বোধ করতেন সেটা ঠিক আমার জানা নেই। তবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিমান রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে ৮ বছর কাটানোর পরও তাঁর যে পাবলিক-ইমেজ সেটা বিশেষ দুঃখজনকই মানতে হবে। হামলার পর তিনি যখন টেলিভিশনে হাজির হলেন তখন তাঁকে দেখাছিল এক অনির্বচনীয় অনুভূতি। কায়ক্লেশে যে সপ্রতিভতা আনতে সদাসজাগ ছিলেন তিনি, সেই সপ্রতিভতা আনার কোনো চেষ্টাই তেমন করছেন না। ওরকম একটা হামলার পর সেটা কঠিন বটে। কিন্তু তাঁকে দেখে বড়জোর মনে হচ্ছিল কাঁচা ঘুম থেকে তুলে কোনো বাচ্চাকে বাসায়- বেড়াতে-আসা মেহমানের সামনে কবিতা আবৃত্তি করতে দেয়া হয়েছে। যে ডকুমেন্টটি তিনি সামনে রেখে ভাষণ দিচ্ছিলেন সেটির গুণাগুণ বিষয়বস্তু নিয়ে বিশেষ জ্ঞাত, কিংবা কৌতূহলী, কোনোটাই মনে হচ্ছিল না তাঁকে। তিনি ঠিক ঢুলছিলেনও না, আবার বিশেষ জাগ্রত ছিলেন তাও মনে হচ্ছিল না। বুশ সাহেবের দুনিয়াব্যাপী সমালোচকদের কারো মাথায় এসে থাকবে যে তাঁকে ‘ট্র্যাঙ্কুলাইজার’ বা সঞ্জীবনী ওষুধ দিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে। সেটা নাও হতে পারে। বড়জোর মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে তামাশা করবার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তার একটা লক্ষণ হিসাবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু বিষয়টা, বুশ সাহেবের ভঙ্গি ও উপস্থিতি, অতো গুরুতর দুর্ঘটনার পরও, বিশেষ মজাদার। ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ’ পদমালা হিসাবে আমাদের অঞ্চলে বিশেষ সুপরিচিত। ঠিক এই অনুভূতি বা অর্থটি মনে হয় না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা ধারণ করেন। ‘জাতির উদ্দেশে’ প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বাংলাদেশে দুর্দান্ত এক উত্তেজনা তৈরি করে। তাতে সেই রাষ্ট্রনায়কের প্রতি শ্রোতাদের যত বিভিন্ন অনুভূতিই থাকুক না কেন। বিশেষত, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার চালু হবার পর এবং রাষ্ট্রপতিসমূহ কোনো না কোনো ভাবে সমরনায়কদের একজন হবার পর সত্তরের শেষভাগ থেকে এই ভাষণ বা সম্ভাষণ শুনবার জন্য মানুষজন ব্যাকুল হয়ে থাকতেন। এক চ্যানেলের টিভির ভিস্যুয়াল কালে সঙ্গে থাকত সরকারি রেডিও। সব কিছু মিলে এক মহা উত্তেজনার বিষয়। কোনো সন্দেহ নেই যোগাযোগ ব্যবস্থার ভৌত পাটাতনের সঙ্গে এই উত্তেজনার নিবিড় যোগাযোগ আছে। যতই দৈনিক পত্রিকায় রাষ্ট্রনায়ককে দেখা যাক না কেন তাঁকে সচল দেখার জন্য আগ্রহটা সমীচীন। একগাদা পত্রিকা কম্প্যুটিং প্রযুক্তিতে মুদ্রিত যে হতো না সেটাও একটা গূঢ় বাস্তবতা। এর পরে একগাদা স্যাটেলাইট প্রাইভেট টেলিভিশন প্রায় যেকোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজকর্ম নিয়ে প্রতিবেদন করবার জন্য প্রচুর পরিমাণ কর্মী নিয়োগ করলো। রাষ্ট্রনায়ক ও নেতাদের নানাবিধ কর্মকাণ্ড-কথামালা-চালচলন-ভাবভঙ্গি প্রতিদিন বারবার জনদরবারে হাজির হয়। ফলে উত্তেজনা কিছু কমতে থাকবে সেটা সঙ্গত। তারপরও রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের কথা শুনবার জন্য আলাদা করে ‘জাতির জন্য ভাষণ’-এর অপেক্ষা মানুষজন করতে থাকেন। এটির গুরুত্ব একেবারে রাজনৈতিক। ঈদ বা পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা বার্তা সরকার প্রধান সম্প্রচার মাধ্যমে যে জানাবেন এটা মানুষজন আশা করেন না। কোনো একটা পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে কিনা, কোন ঘটনাবলীর জরুরিত্ব সরকার কীভাবে নিরূপণ করছেন, কোনো একটা সঙ্কটকে কীভাবে মোকাবিলা করবার অভিপ্রায় ও পদ্ধতি—এসব বিষয় বুঝবার জন্য, আশ্বস্ত হবার জন্য মানুষজন সরকার প্রধানের ভাষণের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। সরকার প্রধানের ভাষণ, যদি আর কোনো কারণে নাও হয়, জনগণের জীবনযাপনের অজস্র কারণ ও সঙ্কটের প্রতি একটা শাসকসুলভ সৌজন্যের অনুশীলন। বিস্ময়ের না যে, সামরিক শাসকেরা একই সঙ্গে ভাষণ দেবার জন্য ব্যাকুল হতেন আবার উত্কণ্ঠায় ভুগতেন। ব্যাকুল থাকতেন কারণ এই জনসংযোগটুকু তাঁদের আত্মপ্রসাদের জন্য নিবিড়ভাবে জরুরি ছিল। উত্কণ্ঠায় থাকতেন, কারণ দেশব্যাপী অপেক্ষমান মানুষের সন্তোষবিধানের জন্য বলবার বিষয় তাঁদের সামান্যই থাকত। ময়দানের বক্তৃতা কিন্তু অন্য জিনিস। সেখানে পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মীর বাইরে যাঁরাই আসেন তাঁরা রাষ্ট্রনায়ককে দেখতে আসেন। মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাঁরা শাসককে আশ্বস্ত করেন তাঁদের আনুগত্য। বারবার হাত উঁচিয়ে তাঁরা নেতার ভাবনাচিন্তা, অনুসিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানাতে থাকেন। এমনকি নেতার ক্রোধ কিংবা প্রতিপক্ষতার প্রতিও। এই ধরনের জমায়েত রাষ্ট্রনায়ক বা সরকার-প্রধানের জন্যও দারুণ উল্লাসের। একটা স্টুডিওর মধ্যে বসে সামনে উল্লাসরত ভক্তদের অনুপস্থিতিতে কথা বলবার সময় অনেক বাড়তি দায়-দায়িত্ব নিতে হয়। কেবল গড্ডলিকার অভিব্যক্তি দিয়ে কাজ চলে না। এই কথাগুলো মাথায় এলো একটা রূঢ় বাস্তবতার মধ্যদিয়ে। যুদ্ধাপরাধী হিসাবে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় হয়ে গেছে কমবেশি তিন সপ্তাহ। সরকার প্রধান একটি বারের জন্য ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ’ দেননি। যদি আগের সপ্তাহগুলোকে গৌণ মনে করাও হয়, যদিও মনে করার সুযোগ খুবই কম, তাহলেও এই রায়ের পর সারা বাংলাদেশে হিংস্রতা, প্রতিপক্ষতা আর নির্যাতনের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেটাকে গুরুত্ব না-দেবার কোনো কারণ নেই। সরকার ও মিডিয়ার মুখ্য অংশ বলছে যে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রত্যক্ষ মদদে দেশজুড়ে তাণ্ডব শুরু হয়েছে এবং সেটা সামলাতে গিয়ে পুলিশের হাতে মানুষ মারা যাচ্ছেন। এই বিবরণীটি আমরা জানি। এই বিবরণীর যথার্থ প্রমাণ করবার সুযোগও আমাদের রয়েছে মুখ্য ধারার সংবাদমাধ্যমের বাইরে জনপদের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিভিন্ন প্রান্তে বসে মানুষজন সেটার চেষ্টা করে চলেছেনও বটে। মোটামুটি গত এক সপ্তাহ কাল ধরে এই বিবরণীতে একটা গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন এসেছে- তা হলো বিএনপি’র অন্তর্ভুক্তি। বিরাজমান সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির জন্য জামায়াত-শিবিরের পাশাপাশি বিএনপি’কেও এখন ‘দায়ী’ ভাবা হচ্ছে। কোনো সন্দেহ নেই যে বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরে আসবার পর বিএনপি’র কর্মসূচির বৈশিষ্ট্য খোদ এই ধরনের মার্কামারা পরিস্থিতির কারণ। তবে এতেও সন্দেহ নেই যে ভোটের হিসাব-নিকেশে এবং ঐতিহাসিক ভূমিকার বিচারে বিএনপি একদম তাই-ই করেছে যা তার করবার কথা। কিন্তু আমার বলবার জায়গাটি অন্যত্র। সরকার ও সরকার-প্রধানের ভূমিকা। বিস্তারশীল একটা সংঘর্ষের খলনায়ককে আবিষ্কার করতে পারলেই সরকারের দায়িত্ব ফুরিয়ে যায়? সরকার-প্রধানের দায়িত্ব পালন হয়? আক্রান্ত মানুষজনের জন্য আর কোনো বার্তা দেয়ার দরকার পড়ে না? কিংবা আক্রমণকারী মানুষজনের প্রতি? আধুনিক রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থায় সঙ্কটের মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক একটা বার্তা দেবার যে প্রচলন আছে সেটির লঙ্ঘনকে আমরা কীভাবে পাঠ করব? সরকার বা সরকার-প্রধানের সন্ত্রস্ত মনোভাব হিসাবে? জনগণকে উপেক্ষা হিসাবে? সময়ক্ষেপণ কৌশল হিসাবে? রাজনৈতিক চালিয়াতি হিসাবে? কোনো হিসাবে দেখলেই কি আমাদের কিছুমাত্র আরাম নিশ্চিত হয়? আমাদের উত্কণ্ঠা বোধ করবার আরও কারণ আছে। সেটি কেবল সরকার-প্রধানের আনুষ্ঠানিক নিশ্চুপতার কারণে নয়, কিংবা বলা উচিত নিরবতার আনুষ্ঠানিকীকরণের কারণে নয়। উত্কণ্ঠাটি হলো সরকার ও সরকার-প্রধানের নানাবিধ অভিব্যক্তি পাবলিক হচ্ছে নিরন্তর এবং সেগুলোর কোনোটিকেই ধর্তব্যের মধ্যে আনার ঝুঁকি নেয়া যাচ্ছে না যেহেতু সেগুলো সেই প্রাতিষ্ঠানিকতার শর্তটুকু মানছে না। সেই অভিব্যক্তিগুলো সরকারি হয়ে উঠছে সামান্যই, সরকারি দলের থাকছে নিয়মিত—আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে চলেছেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে চলেছেন, প্রেসিডিয়াম সদস্যবৃন্দ বলে চলেছেন, আর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বিশেষভাবে তাঁর বলাবলির জন্যই প্রখ্যাত। তাঁরা বলছেন স্থানীয় জনসভায়, সংবাদ সম্মেলনে, ঢাকায় কিংবা প্রান্তে। অধুনা মিডিয়া কালে তাঁদের কথা ও বার্তা দুই-ই সুলভ। বাস্তবিকভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অতিথি হিসাবে তিনি সেই অনুষ্ঠানের মূলভাবের বাইরে ‘দেশের অবস্থা’ নিয়ে আলোকপাত করছেন। উত্কণ্ঠাটা হচ্ছে তাঁরা কেউই খেয়াল করছেন না সরকার একটি স্বতন্ত্র সংগঠন এবং আওয়ামী লীগের চেয়ে আরও বড় জমিনের দাবিদার। তাঁদের কেউই দেশবাসীর জন্য সরকারের চিন্তা-ভাবনা, কর্মপদ্ধতি ও বিপদে আশ্বস্তিপ্রদানের একটা সাধারণ বাণীমালা তৈরি করবার তাগিদ দেখাচ্ছেন না। কেউই তাঁরা বলছেন না যে খুব শিগগির সরকারের প্রধান একটা আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা আপনাদের সম্মুখে হাজির করতে যাচ্ছেন। এই আনুষ্ঠানিকতার গুরুত্ব তাঁরা আধুনিক গণতন্ত্রে বোঝেন না তা কিন্তু আমাদের মনে হয় না। আমাদের উত্কণ্ঠাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বুশ সাহেবের সঞ্জীবনী ওষুধ লেগে থাকুক কিংবা নাই থাকুক, তাঁকে পেরেশান দেখাচ্ছিল, জেরবার দেখাচ্ছিল। লেগে থাকতেই পারে। তা সে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের দুশ্চিন্তায় হোক, গোয়েন্দা পক্ষের জটিল হিসাব-নিকেশের কারণে হোক, আর বিশ্বব্যাপী প্রজারা তাঁকে শুনছেন সেই সম্ভাবনার চাপে হোক। এদফা সরকার প্রধানকে আমাদের একবারও পেরেশান লাগেনি। তাঁর এই মানসিক সামর্থ্য সাধারণভাবে আমাদের জন্য খুবই ভরসাজনক হবার কথা। তাছাড়া টিভি খুবই প্রতারক যন্ত্র। সব সময়ে তা পাত্র-পাত্রীর মানসিক অবস্থার দলিল হাজির করতে পারে না বটে। কিন্তু নানা রকম পর্যালোচনায় মনে করা যায় যে সরকার প্রধান দুর্যোগে খেই-হারা হবার মতো নেতা নন। এই দুর্যোগে মানসিক শক্তি ধরে রাখতে পারছেন যিনি সেই সরকার প্রধানকে দিশেহারা জনগণের খুবই প্রয়োজন ছিল। জনসাধারণের জানার দরকার ছিল তিনি ঠিক কী ভাবছেন, কীভাবে পরিত্রাণ সম্ভব বলে মনে করেন, ‘দুর্বৃত্ত’দের মোকাবিলার একটি পদ্ধতি ঠিক করা হয়েছে কিনা নাকি তা অবস্থা-বুঝে-ব্যবস্থার মতো শিথিল, পুলিশ বাহিনীর আতঙ্ক দূর করার উপায় নেয়া হয়েছে কিনা, ‘সংখ্যালঘু’দের লঘুত্ব বিষয়ে আরও মানসিক প্রস্তুতি রাখার দরকার আছে কিনা, রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ দিচ্ছেন যেসব পার্টিকর্মী এবং সাধারণ নাগরিক তাঁদের মনোজগতের খোঁজ তিনি রাখেন কিনা, প্রপাগান্ডা-রাজনীতি চলছে কিনা, চললে সেসব বিষয়ে রাষ্ট্রের করণীয় আছে কিনা। আসলে বিস্তর বিষয়ে সরকারের উপলব্ধি জানার প্রয়োজন ছিল মানুষজনের। আসলে অধিকার আছে তাঁদের। রাষ্ট্রবাসীরা ভীষণরকম বিভাজিত এই মুহূর্তে। এটা বোঝার জন্য বেশি কসরত্ করতে হয় না। ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ’ বলতে রাষ্ট্রবাসীদের সম্মুখে বক্তব্য পেশ করাই বোঝায়। সেই কাজটা দলীয় কর্মীদের হুকুম করার থেকে খানিক ভিন্নই বটে। যখন সরকার প্রধান গণতন্ত্রের এই মামুলি আনুষ্ঠানিকতাটা করেন না তখন তাঁর মানসিক সামর্থ্য নিয়ে যতই গৌরব বোধ করার সুযোগ থাকুক না কেন, উত্কণ্ঠা মাথা থেকে যায় না। জনপদে নিরাপত্তাহীনতার উত্কণ্ঠা নয় কেবল। রাষ্ট্র ও সরকারের ভিতর জনগণ নিয়ে অনুভবের উত্কণ্ঠা সেটা। লেখক :জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক