বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দেশের ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দলের নেতারা যদি তাদের অনড় অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে তাদের প্রতিটি দলের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করে একসাথে আলোচনা করে ঠিক করেন যে, কোন্ পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে; তাহলে দেশের বর্তমান সংঘাতময়ী রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। কিন্তু কোন পক্ষই কাউকে তোয়াক্কা করছে না। যে যার মত করে বক্তব্য, সভা-সমাবেশসহ নানান প্রকার কথা বলে যাচ্ছেন। কিন্তু এর শেষ কোথায়? কোন দলই তা পরিষ্কার করছে না। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এর সঠিক সমাধান কি তা বলছেন না। তারা রাজনৈতিক সমস্যাসমূহ সমাধানের জন্য সংলাপের কথা বললেও তা সরকার এবং বিরোধী দল একে অপরের উপর ঠেলে দিচ্ছেন। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দলের যারা নিয়ন্ত্রক তারা কোন প্রকার আপোষে রাজি নন। এটাই কি তাহলে গণতন্ত্র? নাকি মনতন্ত্র? মনে হয়; বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা গণতন্ত্রের সংজ্ঞাও ভুলে গেছেন। তা না হলে বাংলাদেশের রাজনীতি কেন এত কলুষিত হবে। কেনই-বা এত লোভনীয় হবে। এর মূল কারণ হচ্ছে উদার গণতন্ত্রের অভাব। আমাদের দেশে যারা রাজনীতি করেন তারা মনে করেন যে, স্টেজে উঠে গলাবাজি করলেই রাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়া যায়। তারা জানেন না যে, উদার রাজনীতির জন্য প্রয়োজন সততা ও সঠিক রাজনৈতিক জ্ঞান। প্রয়োজন হয় রাজনৈতিক ইতিহাস জানা। গণতান্ত্রিক দেশকে উন্নতির শিখরে আরোহণের জন্য প্রয়োজন বিরোধী দলের সহায়তা। কিন্তু আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? যখনই কোন দল ক্ষমতায় আসেন তখনই তারা মনে করেন যে, বিরোধী দল বলতে কোন দল নেই। তারা বিরোধী দলকে কোন কিছুতেই ছাড় দিতে নারাজ। বিরোধী দল কী বলল না বলল তাতে সরকারি দলের কোন কিছু যায়-আসে না। মধ্যখানে আমরা যারা সাধারণ মানুষ আছি আমাদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। বাংলাদেশের রাজনীতি হিংসায় ও প্রতিহিংসায় পরিণত হয়েছে । এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন তরুণ প্রজন্মকে সঠিক গণতন্ত্রের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে; বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করা। সঠিক গণতন্ত্রকে চর্চা করে জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করে বিরোধীদলকে তাদের মতামতের জন্য সুযোগ করে দিতে হবে। তাহলেই দেশের সকল প্রকার রাজনৈতিক অরাজকতা হতে দেশের মানুষ রক্ষা পাবে। মো. সফিউল আলম (টিপু) বি.এস.এস, শেষবর্ষ, পল্লবী ডিগ্রি কলেজ, ঢাকা এখনই সময় সংলাপে বসার.... উদার গণতন্ত্র সবসময় দেশের ও জনগণের কল্যাণ বয়ে আনে— কারণ মানুষ স্বাধীনভাবে তার মত প্রকাশ করতে পারে এবং এতে জনমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশের পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। কারণ পাকিস্তানের সামরিক সরকারগুলো আমাদের শুধু শোষণই করেছে। স্বাধীনতার পর আমাদের গণতন্ত্র বারবার স্বৈরশাসকদের বুটের তলায় পিষ্ট হয়েছে। কেউ কেউ গণতন্ত্রের যাত্রাকে একেবারে স্তব্ধ পর্যন্ত করে দিয়েছে। স্বাধীন দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আমাদের করতে হয়েছে অনেক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন, দিতে হয়েছে অনেক তাজা প্রাণ। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর আমাদের গণতন্ত্র ফিরে অসলেও রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে মাঝে মাঝেই সেই যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। দেশে বর্তমানে রাজনীতির যে ধারা বর্তমান তাতে ভবিষ্যতে (যেটা খুব বেশি দূরে নয়) দেশের গণতন্ত্র আবার বিপন্ন হবার সম্ভাবনা খুব বেশি বলে মনে হয়। দেশের বড় দুইদল এখনও একমত হতে পারেনি যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন্ নিয়মে অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকারের বোঝা উচিত আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর একের প্রতি অন্যের বিশ্বাস শূন্যের কোঠায়। সুতরাং যতদিন একের প্রতি অন্যের বিশ্বাস ফিরে না আসে, ততদিন একটি রাজনৈতিক সরকারের অধীনে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। সুতরাং সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমরা এক মহামারি সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি বলা যায়। তাছাড়া সরকার ও বিরোধী দল একে অন্যকে যেভাবে নগ্নভাবে দোষারোপ করে সেটা সমীচীন নয়। পরস্পর পরস্পরের প্রতি দেশের ও মানুষের স্বার্থে নমনীয় হওয়া উচিত। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখছি রাষ্ট্রীয় বাহিনী বিরোধী দলগুলোর সমাবেশ ও কর্মসূচিতে যেভাবে হস্তক্ষেপ করছে সেটা ভবিষ্যত্ সংঘাতের বহিঃপ্রকাশ এবং উদার গণতন্ত্র বিপন্নের একটি আগাম সংকেত। উদার গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো স্বাধীনভাবে তাদের মত জনগণের কাছে প্রকাশ করবে এবং সরকার তাদের সহায়তা করবে, তাদের মতামত বিবেচনা করবে। আমাদের দেশের উদার গণতন্ত্রের আরেকটি খারাপ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কথিত বিদেশিদের হস্তক্ষেপ। বৃহত্ দুই দল একে অপরকে বলেন, তারা বিদেশিদের দোসর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশিদের হাত আছে, এটা প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য অতি দুঃখজনক ও লজ্জাজনক ব্যাপার। এরকম যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে সবচেয়ে বেশি দুঃখ পাবেন আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা, যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলো দেশকে পশ্চিমা তাঁবেদারির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। সরকার ও বিরোধী দল এভাবে অনড় অবস্থানে থাকলে আমাদের গণতন্ত্র আবার খাঁচায় বন্দি হতে পারে, তৃতীয় কোন শক্তির উত্থান হতে পারে। মোল্যা শিহাব উদ্দিন পালি ও বুদ্ধিষ্ট স্টাডিজ বিভাগ এম, এ (মাস্টার্স, দ্বিতীয় সেমিস্টার) ৫০৮, স্যার এ এফ রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে উদার রাজনীতি চর্চা করুন যেকোন দেশের জন্য উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকল্প নাই। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি আমাদের দেশে চর্চা নাই বলে দেশ এখন ঐতিহাসিক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। আতংক বিরাজ করছে দেশের সকল মানুষের মধ্যে কখন কার কি অঘটন ঘটে যায়। আজ সাধারণ মানুষ পর্যন্ত হয়রানির শিকার। শুধু তাই নয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি, নষ্ট হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ। মূলত এসব ঘটনার জন্য দায়ী সরকারি দল এবং বিরোধী দল। দেশে রাজনীতি যেভাবে চর্চা হচ্ছে মনে হয় এক দল আরেক দলকে শেখাচ্ছে সরকারে গেলে বিরোধী দলকে কিভাবে জুলুম-নির্যাতন করে শায়েস্তা করতে হয় এবং বিরোধী দলে গেলে কিভাবে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয়। এসব রাজনীতি দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে দেশে এখন প্রতিশোধের রাজনীতি চলছে। এ রাজনীতির ফলে বিভিন্ন দলের বড় বড় নেতারা গুম, হত্যা ও পঙ্গুত্ববরণ করছে এবং আরো কত ঘটবে। রাজনীতি যেভাবে লালন করা হচ্ছে তার ফল তারা সেভাবে পাচ্ছে। কথা হচ্ছে কেউ সরকার দল করুক আর বিরোধী দল করুক তারা আমাদের দেশের মানুষ। এসব পাগলামি ছেড়ে দেশের কথা চিন্তা করুন দেশের মানুষের কথা চিন্তা করুন—এতে নিজেরা রাজনীতি করে ভাল সুফল পাবেন এবং দেশের জনগণও আপনাদের পাশে থাকবে। তাই সবার উচিত নিজের দলের স্বার্থে সহিংসতা না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করে প্রশান্তির রাজনীতিতে ফিরে আশা। মো. এরশাদ আলী, ২য় বর্ষ কম্পিউটার সায়েন্স, নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ