অন্য তারুণ্য

যুক্তির সৌন্দর্যে

খুব ছেলেবেলায় একটু অন্য রকম ছিলেন। সবকিছুতেই ছিল আগ্রহ, কোথায় কী ঘটছে জানা চাই তার। গুনগুন করে গাইতে গাইতে গানেও আগ্রহ জন্মালো। শুরু করলেন গানের চর্চা, জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতাতেও তার অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। মাধ্যমিকে পা রাখতেই যুক্তির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিতর্কের প্রতি ভালোলাগার জন্ম। আগ্রহ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন, সেখানেও কেউ তাকে আটকে রাখতে পারল না। এভাবেই এগিয়ে গেছেন উম্মে সালমা নাবিলা।‘২০১২ সালের শুরুর দিকে আমি ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের সাথে যুক্ত হই এবং এরপর থেকে শুরু হয় বিতর্ক অঙ্গনে আমার পথ চলা। গত বছর রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীতে চ্যানেল আই একটি রবীন্দ্র বিতর্কের আয়োজন করে এবং এই বিতর্কে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ-বিডি)-এর সিনিয়র কয়েকজন বিতার্কিকের সাথে কুমুদিনী চরিত্র নিয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য আমার হয়। বর্তমানে আমি এনডিএফ-এর চট্টগ্রাম ডিভিশনের যুগ্মমহাসচিব পদে রয়েছি এবং একজন সক্রিয় সাংগঠনিক হিসেবে কাজ করছি। চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে আমরা স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরকে বিতর্কে উত্সাহিত করি এবং যার ফলশ্রুতিতে অনেক স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী যুক্তিকে ভালোবেসে যোগ দিয়েছে বিতর্ক অঙ্গনে। এনডিএফ বিডি এই জাতীয় বিতর্ক সংগঠনটি চট্টগ্রাম ডিভিশনে আজ যে অবস্থান তৈরি করেছে সে অবস্থান অর্জনের পেছনে যে কয়জন মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে আমি তাদেরই একজন’, এভাবেই নিজের এগিয়ে যাওয়ার গল্পটা শোনালেন নাবিলা। নাবিলা মনে করেন প্রতিটা মানুষই সম্ভাবনাময়। প্রত্যেকের মাঝেই সৃজনশীলতা আছে। নিজেকে তাই বুঝতে চেষ্টা করতে হবে, যেটা করছি সেটা মন থেকে করতে হবে। আর সেই পথে নিজেকে ধরে রাখতে হবে। খুব সুন্দর করে সুস্মিতা কথাটা এভাবে বললেন, ‘যে কাজটা করছি, মনে করতে হবে এটাই পৃথিবীর কেন্দ্র। নিজেকে তখন আবিষ্কার করা যায়, সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়।’ তিনি আরও মনে করেন, সবকিছু থেকেই শেখা যায়। যদি অনেক বেশি দেখা, শোনা, আর পড়া যায়, নিজেকেই নিজে ছাপিয়ে যাওয়া যায়। আর সবকিছুই করতে হবে নিজের জীবনচরিত ঠিক রেখে। সবশেষে তার পরিবার নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম, ‘বর্তমানে আমি ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)-এ ব্যবসায় শাখায় (বিবিএ) ২য় বর্ষের ছাত্রী। একজন স্বাবলম্বী এবং আত্মনির্ভরশীল নারী হয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে চাই। বড় হয়েছি যৌথ পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই ছিলাম শান্ত প্রকৃতির। আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং মা একজন গৃহিণী। ছোট ভাই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় শাখার ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত এবং ছোট বোন কাপাসগোলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। নাবিলার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এই যে পড়াশোনার পাশাপাশি এতকিছু, কোনো সমস্যা হয় কি না। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আসলে সময়টা আমাদের জন্য অনেক। ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলেই হয়। অনেকেই একসাথে অনেক কিছু করছে, কই আমার তো মনে হয় এতে বরং আরও লাভ। আপনি অনেক কিছু আগে থেকেই শিখতে পারছেন, জানতে পারছেন।’ তাই এতকিছুর মাঝে কোনো অসুবিধা হয় বলে মনে করেন না তিনি। আর তিনি নিজেই সেটা প্রমাণ করেছেন। নাবিলা বলেন, ‘স্বপ্ন দেখি এমন একটি বাংলাদেশের যে দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে। গড়তে চাই এমন একটি যুক্তিবাদী সমাজ যে সমাজ হবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনমুক্ত, যে সমাজের মানুষ হিন্দি দেখা বন্ধ করে বাংলাকে গ্রহণ করবে। তরুণ সমাজের প্রতি আমার আনুরোধ তারা যেন সাংস্কৃতিক আগ্রাসণে গা ভাসিয়ে না দেয়, তারা যেন এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং তারা যেন অবশ্যই যুক্তিকে ভালোবাসে।’