প্র জ ন্ম মু খ
চিকিত্সা সেবাই যার ব্রত
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০১৩, ১৮:৪৩
চিকিত্সা সেবাকেই নিজের ব্রত করেছিলেন শাহ মো. জহিরুল ইসলাম। মানব সেবায় অংশগ্রহণের প্রবল ইচ্ছা নিয়েই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লুবানা জেনারেল হসপিটাল। এই তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন মুহম্মদ নজরুল ইসলাম
মানুষ বেঁচে থাকার জন্যই স্বপ্ন দেখে। আর নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য শ্রম দেয় প্রয়োজন অনুসারে। তেমনি একজন স্বপ্নচারী মানুষ শাহ মো. জহিরুল ইসলাম। চিকিত্সা সেবার ব্রত নিয়ে তিনি উত্তরাস্থ রবীন্দ্র সরণি থেকে ২০০৫ সালে লুবানা জেনারেল হসপিটালের প্রথম-এর কার্যক্রম শুরু করেন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আজ সেই হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের গরিবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউতে সাত তলা ভবনে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যেখানে বিগত প্রায় ২ বছর ধরে আরও উন্নত ও আধুনিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে চিকিত্সা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিত্সক এবং উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে। একই সাথে রোগীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ভিত্তিতে দেশের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে পার্শ্ববর্তী ভবনে শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে—কার্ডিয়াক সেন্টার। আর এ সমস্ত কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে উদ্যোক্তা জহিরুল ইসলামের অদম্য আত্মবিশ্বাস। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিটি মানুষেরই সর্বোন্নত চিকিত্সা সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আর এই সর্বোন্নত চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করতেই তিনি কাজ করে চলেছেন।
হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডাক্তারদের সেবার মান নিয়ে মানুষের মাঝে নানারকম প্রশ্ন রয়েছে—এই বিষয়টি নিয়ে তার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে শাহ মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা অনস্বীকার্য সত্য যে, কিছু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা তথা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয় দূর করতে প্রয়োজন জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে প্রয়োজন, হাসপাতাল-ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের উন্নত ও সঠিক চিকিত্সা সেবা দানে আন্তরিকতা। পাশাপাশি এটাও অনস্বীকার্য যে, প্রাইভেটাইজেশন পলিসি’র সাফল্যের দিকে তাকালে একমাত্র মেডিকেল সেক্টর বাদে সর্বত্রই হতাশাজনক চিত্র চোখে পড়বে! একটু খোলা মন তথা দৃষ্টিতে যদি আমরা দেখি, তাহলে এটাও বলতে হয়, আমাদের দেশেই এখন অনেক বড় বড় জটিল কিছু অপারেশন তথা চিকিত্সা বেশ সাফল্যের সাথেই সম্পন্ন হচ্ছে।’
লুবানা হসপিটালে কতজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত আছেন, এদের নিয়োগের পর আপনাদের নিরীক্ষণ পদ্ধতি তথা রোগ নির্ণয়ে কী বড় কোনো পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন কি? উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখানে কর্মরত ল্যাব টেকনিশিয়ান, নার্স, ব্রাদার প্রায় সকলেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ও সনদ প্রাপ্ত। আমরা শুরু থেকেই এখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ও মেধাবী ল্যাব টেকনিশিয়ান ও নার্স-ব্রাদারদের নিয়োগ দিয়েছি। ফলে প্রথম থেকেই আমরা এর সুফল পেয়ে আসছি। নির্ভুল রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সার জন্য দক্ষ ল্যাব টেকনিশিয়ান ও নার্স, ব্রাদারদের কোনো বিকল্প নেই।’ তরুণ প্রজন্মের প্রতি প্রবীণদের দায়বদ্ধতা তথা করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উদ্যম-স্পৃহা-চ্যালেঞ্জ—এসব মিলিয়েই নতুন তথা তরুণ প্রজন্ম। তরুণরাই কাজের মাধ্যমে জয় অর্জন করে, দেশকে গর্বিত করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের ভবিষ্যত্ কিংবা বর্তমান প্রজন্মের সামনে কোনো কর্মক্ষেত্র নেই, নেই এ নিয়ে বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনাও। ফলে আমাদেরকে শুধু মুখে বা বক্তৃতা-বিবৃতিতে নয়, কার্যতই নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে হবে যুগোপযোগী নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরির দিকে। এখন সারা বিশ্বে, বিশেষ করে ঘন বসতিপূর্ণ দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা খাতে চিকিত্সকদের তুলনায় বরং দক্ষ টেকনিক্যাল হ্যান্ড তথা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের চাহিদা আকাশচুম্বী! কারণ, চিকিত্সা সেবা খাতটি কেবল চিকিত্সকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শুধু ডাক্তারদের কাজের মধ্যেই পুরো চিকিত্সা ব্যবস্থা আবদ্ধ নয়, এখানে যেমন সেবিকাগণ কাজ করেন তেমনি ল্যাবে বসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টগণ। সঠিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে এদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সাথে জড়িয়ে আছে প্রকৃত রোগ নির্ণয় তথা সুচিকিত্সা প্রাপ্তির বিষয়টি। তাই আজকাল প্রায় সব হাসপাতাল-ক্লিনিকই গুরুত্ব দিচ্ছে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের বিষয়টিতে।’