পতাকার গল্প
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫২
সবুজের সমারোহ আর লাখো বাঙালির রক্তকে বুকে ধরে রেখেছে যে পতাকাটি, সেটিই আমাদের জাতীয় পতাকা। আমাদের প্রাণের পতাকা। হাজারো ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত এই পতাকা আমাদের চোখের সামনে নিমিষেই তুলে ধরে আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে। যে জন্মভূমিকে আমরা প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। জন্মভূমির প্রতি এই ভালোবাসা মানেই আমাদের জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত হওয়া। কারণ, লাল-সবুজের এই পতাকা আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক,
আমাদের বিজয়ের প্রতীক
জাতীয় পতাকার নির্ধারিত মাপ
বিভিন্ন জাতীয় দিবসে যেহেতু জাতীয় পতাকার প্রয়োজন এবং চাহিদা বেড়ে যায়, তাই এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে পতাকা তৈরি করা হয়ে থাকে। তবে, যারা পতাকা তৈরি করেন তারা অনেকেই এর নির্ধারিত মাপ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না। অথচ এ ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। ১৯৭২ সালের নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হবে ১০ ঃ ৬। এ অনুপাতে পতাকার লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ২। পতাকার দৈর্ঘ্য যদি ১০ ফুট হয়, তার বাঁ দিক থেকে সাড়ে ৪ ফুট দূরত্বে বৃত্তের কেন্দ্রের অবস্থান হবে। পতাকার প্রস্থ ৬ ফুট হলে বৃত্তের কেন্দ্র হবে মাঝামাঝি অবস্থানে। অর্থাত্ তিন ফুট দূরত্বে। যেখানে যেমন পতাকা প্রযোজ্য এবং মানানসই, সেখানে ঠিক তেমন পতাকাই ওড়াতে হবে।
ওড়ানোর নিয়ম-কানুন
জাতীয় পতাকা ওড়ানোর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭২ সালে প্রণীত (২০০৫ সালের জুলাই মাসে সংশোধিত) জাতীয় পতাকা ওড়ানোর সাধারণ নিয়মগুলো হলো—
যানবাহন ছাড়া যেকোনো জায়গায় পতাকা ওড়াতে হবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে, বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় রাতের বেলাও পতাকা ওড়ানো যেতে পারে।
মোটরযানে পতাকা ওড়ানোর ক্ষেত্রে এর সামনে থাকা দণ্ডায়মান রেডিয়েটর ক্যাপে বেঁধে ওড়াতে হবে।
পতাকা এমনভাবে ওড়াতে হবে যেন এতে কোনো দাগ বা চিহ্ন না লাগে।
নিয়মবহির্ভূতভাবে পতাকার ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি এর কোনো নিয়ম পরিবর্তনও করা যাবে না। তবে, স্থানভেদে এর ব্যবহারে পরিবর্তন আসবে।
পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী এবং বিমান বাহিনীর জন্য সরকার কর্তৃক নির্দেশিত কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। তারা সেই অনুযায়ী এটি ব্যবহার করবে।
প্রাপ্তিস্থান
জাতীয় দিবসগুলোকে সামনে রেখে ঢাকা শহরে অবাধে বিক্রি হয় জাতীয় পতাকা। ফেরিওয়ালা থেকে শুরু করে অনেক ভ্রাম্যমাণ দোকানেও পতাকা বিক্রি করা হয়। তবে যারা রেডিমেড পতাকা না কিনে নিজের পছন্দসই পতাকা চান, তারা ফরমায়েশ দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন। তবে, কিনুন কিংবা রেডিমেড বানিয়ে নিন, পতাকার দাম কিন্তু নির্ভর করবে আয়তনের উপর। যেমন—৬ ফুট পতাকার দাম পড়বে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ৫ ফুট পতাকার দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, সাড়ে ৩ ফুট ৬০ থেকে ৭০ টাকা, আড়াই ফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, দেড়ফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা, এক ফুট ২০ থেকে ২৫ টাকা, আধা ফুট ১০ থেকে ১৫ টাকা। কাগজের তৈরি প্রতি ১০০টি পতাকার দাম পড়বে ১৫ থেকে ২০ টাকা। যেকোনো ধরনের পতাকা পাওয়া যাবে সদরঘাট হকার্স মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, গাউসিয়া মার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানে। আর ফেরিওয়ালাদের পাওয়া যাবে শাহবাগ, গুলিস্তান, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমীর সামনের এলাকাসহ ঢাকা শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলোতে।