শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

আমি মনে করি নির্বাচন অবশ্যই হবে বাংলাদেশে আর মাত্র কয়েক মাস পর জাতীয় নির্বাচন। আগামী নির্বাচনের জন্য এখন দেশের পরিবেশ হওয়ার কথা ছিল সম্পূর্ণ নির্বাচনমুখী, নির্বাচনী আমেজে শান্তিপূর্ণ। অথচ বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক চরম সংঘাতময় অবস্থা বিরাজ করছে। একদিকে সরকারি দল পুলিশি নির্যাতনের মাধ্যমে সারাদেশে গণহত্যা চালিয়ে দেশকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের মধ্যেও অনেক নেতাকর্মীকে উদ্বিগ্ন করেছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। সেক্ষেত্রে সকলকে আন্তরিক হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি দলপ্রেমিক না হয়ে দেশপ্রেমিক হন, যদি দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে আসেন, দেশ ও জনগণকে কিছু দেয়ার জন্য রাজনীতি করেন, বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ বিসর্জন দেন, তাহলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আমি মনে করি। যা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সহায়ক হবে। দেশের স্বার্থে রাজনীতিবিদরা শুভবুদ্ধির উদয় ঘটিয়ে স্ব স্ব স্থান থেকে ভূমিকা রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশের মানুষ সংকট উত্তরণ করতে জানে। পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সংকট উত্তরণে সবাই এগিয়ে আসবে। এক্ষেত্রে সরকারকে বেশি উদ্যোগী হতে হবে। এ সংকট উত্তরণে বিরোধী দলের ভূমিকাও কম নয়। তাদেরও যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মেহেদী হাসান মাসুদ বি,টি,আই,এস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। সঠিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সকল রাজনীতিবিদকে রেষারেষি দূর করে একমত হতে হবে আজকে আমাদের এ রাজনীতি আবারো বিভক্তির পথে। এর কারণ একটাই আমাদের রাজনীতিবিদরা আজ তাদের মতামতকে মিলাতে পারছে না। আর এমন যদি হতে থাকে তাহলে আমরা যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ’৭১ সালে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা আদৌ সম্ভব হবে না। আজ দেশ ব্যর্থতার দিকে ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে। ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ, আগামী শান্তিপূর্ণ অবাধ নির্বাচন, শান্তিপূর্ণ, স্ব্চ্ছ, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান পরিত্যাগ করে সঠিক সংলাপে বসলে আজ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে আশা করা যায়। একজন ব্যক্তি যে কোন দলকে সমর্থন করতে পারে। এটি কোন অপরাধ কারণ নয়, এটি তার অধিকার। আর এ সমর্থনকারীদেরকে দমন করার জন্য বিভিন্ন নির্যাতন, নিপীড়ন করা হয়। মনে রাখা দরকার, যখন কোন দল বা ব্যক্তির প্রতি জুলুম, নির্যাতন চালানো হয় তখন সেই দল বা ব্যক্তি আরো বিদ্রোহী হয়ে উঠে। নির্যাতন বা চাপ প্রয়োগ করে কোন দল থেকে ফিরিয়ে রাখা যায় না। তাই আর কোন জেল, জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন নয়। আসুন সবাই সবার সহযোগী হয়ে যাই। আর এভাবে যদি প্রতিহিংসামূলক নির্যাতন চলতে থাকে তাহলে দেশে কখনো সঠিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। আর তাই ছোট, বড় সকল রাজনীতিবিদ যদি যাবতীয় রেষারেষি, হিংসা, বিদ্বেষ দূর করে একমত হতে পারে তাহলে আশা করা যায় দেশে সঠিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। আমাদের ১৬ কোটি মানুষের এটাই প্রাণের দাবি। মনিরুল ইসলাম নাঈম ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, প্রথম বর্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়। আসন্ন নির্বাচনের শান্তিপ্রিয়তা নিয়ে মানবমনে এখনই উত্কণ্ঠার রেশ চলছে গণতন্ত্রে বহুল প্রচলিত একটি কথা আছে- Democracy is a government of the people, by the people, for the people. এই গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচন পরম আরাধ্য বিষয়। কেননা, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটে নির্বাচনের মাধ্যমে। তাদের স্বপ্নসদৃশ এক একটি ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন পাঁচ বছরের জন্য। নির্বাচন তাই ক্ষমতার পালাবদলের একক হাতিয়ার। নির্বাচনহীন গণতন্ত্র অনেকটাই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অকল্পনীয়। স্বাধীনতা পূর্বকাল থেকেই গণতন্ত্রের অনুগত পূজারী হিসেবে বাংলাদেশের খ্যাতি সমাদৃত দিকে দিকে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে নির্বাচন পন্থায় সওয়ার হয়েই মোটামুটি এগিয়েছে দেশের গণতন্ত্র। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন নিয়েও সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করেছে অনেকের মনেই। সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সকলেই চায়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসের সাম্প্রতিক কলঙ্ক কালিমাখ্যাত এক এগারোর সৃষ্ট পরিস্থিতি কেউ ভোলেনি। বছরের শেষদিকে সম্ভাব্য নির্বাচন তাই কলহমুক্ত হবে কি না সন্দেহ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় নিয়ে যে বিদ্বেষের দামামা বেজেছে তাদের অনুসারীদের মধ্যে, নির্বাচনকালীন যে প্রতিশোধপরায়ণ কোন ধ্বংসলীলা চলবে না, তার কোন নিশ্চয়তাও দেয়া যায় না। এক্ষেত্রে, দল মত নির্বিশেষে ঐকমত্যের কোন বিকল্প নেই। সরকার-বিরোধী দলের সংলাপসুলভ আলোচনা, জনগণের সজাগ চিন্তা-চেতনার পরস্ফুিটন এবং শেষতক কৌশলী রাজনৈতিক পদক্ষেপ— কেবলমাত্র উভয়ের যুগপত্ মিলবিন্যাসে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের উপলক্ষ সৃষ্টি হতে পারে। খাইরুল ইসলাম তাজ এলএলবি (অনার্স) ৪র্থ বর্ষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন হবে কিনা তা বলা কঠিন গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে জনগণ আজ শংকিত। এক এক রাজনৈতিক দল এক এক মত প্রকাশ করছে। একদল চাচ্ছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আর একদল বলছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। এনিয়ে দেশ আজ চরম সংকটে। যে দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে সে নির্বাচনকে আমরা গণতান্ত্রিক নির্বাচন বলতে পারি না । একদলীয় নির্বাচন এদেশের মানুষ আশা করে না। জনগণ চায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে করে তারা তাদের পছন্দমত দলকে ক্ষমতায় বসাতে পারে। আর তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উদারতা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য আবশ্যক। আমাদের দেশ সেদিন উন্নত ও মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হবে, যেদিন রাজনীতিকরা উদারতার পরিচয় দেবে। সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও মুক্ত গণতান্ত্রিক নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারবে। আমানুল¬াহ আবির বিএ অনার্স, ১ম বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।