টেলিফোনে পাঠকের মতামত
আপনি কেমন আছেন কী ভাবছেন?
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২০:৩৮
এ দেশে সামাজিক অর্থনৈতিক নানা সংকটে জনগোষ্ঠীর এক বড় অংশ রয়েছে দারিদ্র্যের মধ্যে। এই অবস্থায় সরকারকেই সংলাপ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সর্বান্তকরণে এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রধান ভূমিকা নিতে হবে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে।
খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
রাজনৈতিক সংঘাত বাড়িয়ে তুলছে সামাজিক অস্থিরতা। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের কৃষক। আর সেই ক্ষতির প্রভাব এসে পড়ছে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর।
শিশির
আজিমপুর, ঢাকা
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিজেদের করণীর স্থির করতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য, দেশের অর্থনীতির জন্য, আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনজীবনে পড়েছে এক চরম বিরূপ প্রভাব। আমি এখন কোন দলেরই নই। একজন সাধারণ চাকরিজীবী মানুষ। তবে আমি বলবো দু’টি বৃহত্ দলের এই মুহূর্তে উচিত সংলাপে বসে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
কবিরহাট, নোয়াখালী
এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এমন অনেক শান্তিকামী সাধারণ মানুষ রয়েছেন যারা গণজাগরণ, জামায়াত, ১৮ দলীয় মহাজোট কোন জোটেরই অন্তর্ভুক্ত নন। তারা দেশকে ভালোবাসেন, পরিশ্রম করে রুটি-রুজি জোগার করতে চান। দেশকে এগিয়ে নিতে চান। তারা হরতাল চান না, পুলিশের নির্যাতনের স্বীকার হতে চান না। তারা ভালো নেই। তারা আজ ক্ষমতার লড়াইয়ের দ্বন্দ্বে হতাশ।
সুফিয়া রহমান
মোহাম্মদপুর, ঢাকা
আমি মহাজোটের সমর্থক। কিন্তু দেশের যে অবস্থা তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমস্যার মধ্যে আছি। এই প্রেক্ষাপটে সুধীমহল কী ভাবছেন জানি না তবে আমার মনে হয় একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন দরকার। পাশাপাশি যুব সম্প্রদায়দের ও সুধী সমাজের একটা অগ্রণী ভূমিকা নেয়া উচিত।
বশির উদ্দিন
ঢাকা
যে সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যথাযথ পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে সমগ্র দেশবাসী, যে সময় সরকারের হার্ডলাইন অবলম্বন দুর্ভাগ্যজনক। আমরা কোন পক্ষেরই নই। আমরা শান্তি স্বস্তি ও আন্তরিকতার মাধ্যমে দু’বৃহত্ দলের আলোচনা দেখতে চাই।
সানজিদা জামান
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
যতই দিন যাচ্ছে, দেশ ততই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে জাতিকে উদ্ধারের কোন তাগিদই লক্ষ করা যাচ্ছে না। দেশের মানুষ ভালো নেই আমরা জানি। সাধারণ মানুষ নানা কষ্টে আছে। তাই সকল দলের কাছে অনুরোধ সব সংঘাত বন্ধ করে সমঝোতার মাধ্যমে আলোচনা করুন কীভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সৈয়দা নাসরিন সুলতানা
স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
আমি নিজেকে একজন দেশপ্রেমিক বলে মনে করি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি ভীত ও শংকিত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার স্বচ্ছতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনের শান্তিপূর্ণ সমঝোতা প্রত্যাশা করি সকল দলের নেতাদের কাছে।
মো. ফখরুল ইসলাম বিপু
সেনবাগ, নোয়াখালী
আমরা গণজাগরণ নাকি জামায়াত, ১৮ দল নাকি মহাজোট এর মানেটা কী? জাতিকে ভাগ করা হচ্ছে কেন? যারা গণজাগরণ করছেন তারাও যেমন এ দেশের মানুষ, তেমনি জামায়াত যারা করছেন তারাও এদেশের মানুষ। জামায়াত এ দেশের একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। তেমনটি ১৮ দল কিংবা মহাজোট এরাও রাজনৈতিক জোট। দেশে এ মুহূর্তে বড় সমস্যা হলো আগামী নির্বাচন পদ্ধতি সুরাহা করা। আর আমরা কেমন আছি জানতে চান? ধরুন, আগের সরকারের সময় আয় ছিল ১০০ টাকা, ব্যয় ছিল ৮০ টাকা, কিন্তু বর্তমানে আয় হচ্ছে ২৫০ টাকা ব্যয় হচ্ছে ৩০০ টাকা। বুঝতে পারছেন আমরা কেমন আছি? আর প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
শাহী আলম খান,
সরল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে শাহবাগে যে গণজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু দিনের পর দিন রাজপথ আটকিয়ে রাখায় আমাদের রুট পরিবর্তন করে যাতায়াতের ফলে সময় ও অর্থের অপচয় হয়েছে। অন্যদিকে ১৮ দলীয় জোট বার বার হরতাল দিয়ে জনগণের ক্ষতি করছে। জনগণকে এভাবে জ্বালাতন করলে জনগণ ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
লুনা
গুলশান, ঢাকা
দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কোন ব্যক্তি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমার মনে হয় না। দলমত নির্বিশেষে একটা কথা বলা যায়, এদেশের শিক্ষার হার খুব কম, স্বশিক্ষিত মানুষের প্রচণ্ড অভাব, পাশাপাশি প্রগতিশীল মন-মানসিকতার মানব সংখ্যাও যথেষ্ট পর্যায় নয়। যারা রাজনীতি করেন তারা জনগণের কথা তথা দেশের জন্য যতটা ভাবেন তার চেয়ে বেশি ভাবেন ব্যক্তিস্বার্থ ও দলীয় গোষ্ঠীস্বার্থ নিয়ে। ফলে সত্যিকার অর্থে কল্যাণমুখী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যতটা হওয়া উচিত তার চেয়ে অনেক বেশি হয় অনৈতিক কর্মকাণ্ড, তারই ফলে দেশ যতটা এগিয়ে যাবার কথা ততটা এগিয়ে যেতে পারেনি। ‘৭১-এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে। দেশের দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আমাদের রাজনীতি একপ্রকার ব্যর্থই বলা যায়; আর সেজন্যই দেখা যায় এককভাবে কোন দল ক্ষমতায় যায় না। শরীক দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হয়। এখানেই বোঝা যায়, একক দল জনগণের সার্বিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ। আমরা মনে করি আমাদের রাজনীতিতে আদর্শগত এবং নৈতিকতার ব্যাপক প্রয়োগ কাম্য।
ওয়াহিদ মুরাদ
স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা ও দায়িত্বশীল আচরণ কোথায়? দেশের স্থিতিশীলতা দেখতে চাই। তাহলেই আমি মনে করি দেশের মানুষ শান্তি ও স্বস্তি পাবে।
মো. মিনহাজউদ্দিন
টঙ্গী, ঢাকা
নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সার্বিক অবস্থার নিরিখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রত্যেকে এগিয়ে গেলে সমাজ ও রাষ্ট্র অবশ্যই সঠিক পথে এগিয়ে যাবে। আমি জানি যে, গভীর নিস্তরঙ্গ সমুদ্রে ১টি ছোট্ট ঢিল ছুঁড়ে দিলে সমুদ্রের তলদেশে গভীর কোন আলোড়ন সৃষ্টি হবে না। কিন্তু প্রত্যেকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঢিল ছোঁড়ার ফলে এক সময়ে সমুদ্রের তলদেশে মহাআলোড়ন সৃষ্টি হতে বাধ্য।
নাছিরউদ্দিন সিদ্দিকী
শ্যামপুর, ঢাকা ১২০৪
ভালো নেই আমরা। ঘন ঘন হরতাল দেয়া হচ্ছে। তাতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। আমরা সবাই এ থেকে অতি শীঘ্রই পরিত্রাণ চাই।
ফারুক আলম
মালিবাগ, ঢাকা
খুব ভাল নেই। কারণ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ধর্মের দোহাই দিয়ে মুসলমানকে নাস্তিক বলা হচ্ছে ও অস্থিতিশীল রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা চলছে। ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতায় আসার প্রচেষ্টায় দুই দলই ব্যস্ত। দুর্নীতি ও অরাজকতা বাড়ছে বলে আমি মনে করি।
নাসির উদ্দিন ফুরকান
সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা
আমি ভালো আছি। আর ভাবছি কী করে প্রধান দুই দলের অসত্ রাজনীতিবিদদের অসত্ উদ্দেশ্যকে ঝাড়ুু পেটা করে সবাইকে নিয়ে ভাল থাকা যায়।
ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান
ধানমন্ডি, ঢাকা
আমি আল্লাহর রহমতে ভাল আছি এবং ভাবছি আগামী মুহূর্তটুকু কীভাবে কাটবে তা আল্লাহপাকই ভাল জানেন। তবে আমি গণজাগরণ মঞ্চ, জামায়াত, জোট, মহাজোট ইত্যাদি কারো কোন সদস্য নই। অর্থাত্ নির্দলীয় সাধারণ একজন ব্যক্তি। তবে জনগণের স্বার্থে তথা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থিমূলক কাজকর্ম পরিলক্ষিত হলে বা শুনলে তা বাস্তবতার নিরিখে আমরা সাধ্যমত তা সমাধানের জন্য নিরপেক্ষভাবে চেষ্টা করে থাকি মাত্র। বর্তমান দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সকলকে সততা, নিষ্ঠা ও ধৈর্য্যের সাথে হানাহানি, হত্যা, ইত্যাদিকে পরিহার করে সত্যের পথে এগিয়ে যেতে হবে বলে মনে করি।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী হিফজু
হাউজিং স্টেট, রাজশাহী
আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের সময় দেখেছি যারা দেশ স্বাধীন করবার জন্য নিজের জীবন দিয়েছিলেন তাদের বিপক্ষে ছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু তাদেরকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে পরবর্তী সময় অনেক রাজনৈতিক দল । তারা বোঝে না এ দলটি থাকলে দেশের কী ক্ষতি হয়। আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ অন্ধকার দেখছি। দুই জোটের মধ্যেই দেশপ্রেম নেই।
সৈয়দ হায়দার আলী
মহাখালী, ঢাকা
আসলে কি ভাল আছি? সবাইকে নিয়ে সবদিক দিয়ে ভাল থাকতে পারবো? আমার মতে অসত্ রাজনীতিকদের মতো বহুরূপীর চরিত্র বদলানো দরকার।
মো. লুত্ফুর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
আমি গণজাগরণ, জামায়াত, মহাজোট কিংবা ১৮ জোট কোনটাই না। আমি গণতন্ত্র সাম্যমৈত্রীর নিরপেক্ষ জোট। জনসংখ্যায় দেশটা গরম, দুর্ঘটনায় রাস্তা গরম, দ্রব্যমূল্যের মার্কেট গরম, চাকরির বাজারে ঘুষের গরম বলতে গেলে বাংলাদেশে আগুন পানি সবই গরম। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত সব নাটকের অবসান ঘটিয়ে প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে একটা সমাধানে আসা।
ফওজিয়া মুন্নী
পল্লবী মার্কেট, ঢাকা
মুক্তিযুদ্ধ আমার শ্রেষ্ঠ অর্জন ও অহংকার। আর তাই আমি গণজাগরণে। আমি ঘৃণা করি পরাজিত শক্তি জামায়াতকে, আমি ধিক্কার জানাই সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও উগ্র মৌলবাদী দল জামায়াতকে প্রশ্রয় দানকারী ১৮ দলীয় জোটকে। আমি শিহরিত হই পরাজিত শক্তির ঔদ্ধত্য আচরণে, আমি প্রত্যাশা করি জামায়াতের মতো হিংস্র পরাজিত শক্তি ও তাদের প্রশ্রয় দাতাদের আমাদের স্বাধীন দেশ থেকে চিরতরে উত্খাতের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির সর্বাত্মক প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনে একটি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ।
মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম
মিরপুর, ঢাকা
সাংবিধানিক মতে এদেশের প্রকৃত মালিক হচ্ছে জনগণ। আর রাজনীতিবিদরা হচ্ছে তাদেরই গোলাম। এজন্য সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমি মনে করি, বর্তমানে দেশের এই অরাজক, ধ্বংসাত্মক ও সহিংস ঘটনার জন্য দায়ী শীর্ষ দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রীর হিংসাত্মক মনোভাব। পরস্পরবিরোধী তাদেরই ভাষায় একদল ঐ কুখ্যাত স্বৈরাচার এবং অপর দল যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের সাথে জোট বেঁধে মহান স্বাধীনতার মূল চেতনার সাথে চরমভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। এজন্য তাদেরকে জনতার আদালতে উপস্থিত করা জরুরি বলে আমি মনে করি। কারণ একদলের ইশারায় পুলিশী পাহারায় হচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চ, আর অপর দলের ইন্ধনে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে হরতালে দেশবাসী অতিষ্ঠ। এই বাস্তবতায় আমরা কেমন আছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ক্ষেত্রে আমি ভাবছি আগামী জাতীয় নির্বাচন কোন সরকার পদ্ধতিতে হবে? এ নিয়ে জটিলতায় বিভিন্ন সিটি ও ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশের জেলা পরিষদগুলোতে চলছে তত্ত্বাবধায়কের মতো অনির্বাচিত প্রশাসকের শাসন এবং মহাজোট ক্ষমতায় এসেছে ঐ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচিত হয়েই। তাই জাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য আমার অভিমত হচ্ছে অতি দ্রুত রাজনৈতিক সংলাপ। এর জন্য রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সরকার প্রধানেরই উচিত উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে সংলাপের আয়োজন করা। যা সরাসরি আকাশ মিডিয়ায় প্রচার করলে তা দেখে সচেতন হয়ে দেশের জনগণই ৯ কোটি মোবাইলের মাধ্যমে ভোট করে জানিয়ে দেবে তারা কোন পদ্ধতির সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন চায়।
কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর
মুন্সীগঞ্জ
ঘন ঘন হরতালে দেশে সহিংসতা বাড়ছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে চারদিকে। কী করে ভালো থাকি? দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, অর্থনীতির স্বার্থে সর্বোপরি গণতন্ত্রের স্বার্থে বিরোধপূর্ণ ও প্রতিহিংসার মনোভাব ত্যাগ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা এখন খুবই জরুরি।
আইরিন সুলতানা সন্জু
ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
আমি কোন পক্ষেই নেই। বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি তাতে আমি মনে করছি সততা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার মধ্যদিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সহিংসতা বন্ধ হওয়া জরুরি।
নীলুফা আক্তার
টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা
আমরা কীভাবে ভালো থাকি আর? সবদিকে শুধু আজ সমস্যা। বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্যিকার অর্থে সরকার আমাদের বেঁচে থাকার জন্য কী করছেন সেটাই বিবেচ্য বিষয়।
কাউছার আকন্দ
মতিঝিল, ঢাকা
শুধু আমি একাই নই। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখন ভালো নেই।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট
হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও-এর রাজনীতি আর দেখতে চাই না। হরতাল মানেই ক্ষতি । এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে ২০১২ সালে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে হরতালে রোজকার ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস। বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি তাতে আমি বলবো দুই নেত্রী এক টেবিলে তাড়াতাড়ি বসুন।
মজিব
উত্তরা, ঢাকা
কী করে ভালো থাকি? দেশে রাজনৈতিক আন্দোলন নামের তাণ্ডবের আতঙ্কে আছি। আগুনে পুড়ছে দেশ। সর্বস্তরের মানুষ এ থেকে মুক্তি চায়। আমিও তাই চাই দেশ ভালো হোক, দেশের পরিস্থিতি শান্ত হোক।
বিপ্লব আলম
উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা
হরতাল, ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও, অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এসবের ভেতর কতটুকু আর ভালো থাকা যায়? যতই দিন যাচ্ছে আমরা কষ্টের সাগরে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। লাল কষ্ট, নীল কষ্টেরা ভিড় করছে আমাদের জীবনে। আসলে আমাদের দেশের উভয় বলয় কথা ও কাজে প্রায় একই রকম। মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
সুমন সিয়াদার
মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা
আমি ভালো নেই। লাগাতার হরতালে জনজীবন থমকে গেছে, স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনীতির চাকা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সর্বসাধারণকে। দেশব্যাপী সংঘর্ষ, সন্ত্রাস, হত্যা, গাড়ি পোড়ানো ও বোমা হামলায় সৃষ্টি হয়েছে এক ভীতিকর পরিবেশের। চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে প্রতিটি দিন। সেইসাথে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অব্যাহত গণতন্ত্র চর্চায় অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা বন্ধ করে অবিলম্বে প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহকে আলোচনার টেবিলে বসে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের পথ বের করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
আশফাকুজ্জামান চৌধুরী
আশা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
সত্যিকার অর্থে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কোন নাগরিকই ভাল আছে বলে দাবি করার অবকাশ নেই। আজ আমাদের জাতীয়তা মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে আমরা কে কোন দল বা গোত্রভুক্ত এবং কোন ধর্মালম্বী, যা কোনমতেই সুস্থ দেশপ্রেমের পরিচায়ক নয়। আমরা যদি গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষাবলম্বী হই তাহলে আমাদেরকে নাস্তিক ও মুরতাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে; জামায়াত হলে যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার ও রগকাটা হিসেবে; আওয়ামী লীগ হলে ভারতের দালাল ও র-এর এজেন্ট হিসেবে; বিএনপি হলে নব্য পাকিস্তানি ও আইএসআই-র এজেন্ট হিসেবে; মহাজোটের হলে সময়ে গণতন্ত্রী সময়ে সমাজতন্ত্রী এবং সময়ে স্বৈরাচারী হিসেবে; আঠার দলের হলে সময়ে বহুদলের প্রবক্তা, সময়ে মৌলবাদী ও সময়ে সামরিকতন্ত্রের পূজারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। আসলে আমাদের পরিচয় কী? উল্লিখিত পরিচয়ে আমাদেরকে আখ্যায়িত করার অধিকার কে আখ্যাকারীদের দিয়েছে? তার উত্তর খুঁজে পাওয়া দায়। নবী করিম হযরত মোহাম্মদ (সা) কে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনি কে? তিনি প্রতিউত্তরে বলেছিলেন, আমি একজন আরব। এভাবে পরপর তিনবার জিজ্ঞাসা করায় তিনি তিনবারই নিজেকে একজন আরব হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং চতুর্থবার জিজ্ঞাসা করায় তিনি নিজেকে একজন মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। অর্থাত্ আগে আরব এবং পরে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এতে তিনি তাঁর দেশপ্রেমের যে পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন তা থেকে আমরা কেন দূরে সরে আছি? ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে কেন আমরা খোলস পাল্টাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি? দেশপ্রেমিক হিসেবে পরিচিতি পেতে আমাদের বাধা কোথায়? মূলত সকল কিছুর ঊর্ধ্বে যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দেশ, জনগণ ও মানবতাকে স্থান দিতে না পারব, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রাখতে না পারব, পরমতসহিষ্ণুতার অবতার হতে না পারব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেখাতে কার্পণ্য বোধ না করব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি সুদূরপরাহত বলেই অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। তাই আসুন আমরা মানবতার জয়গান গাই এবং সমস্বরে বলে বেড়াই, “শুন হে মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য; তাহার উপরে নাই”।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ,
নোয়াখালী
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি কোন দলের পক্ষে বা বিপক্ষে যেতে পারি না। গণজাগরণ মঞ্চ কিংবা জামাত, মহাজোট কিংবা আঠারো দল সবার পরিচয় একটাই— সবাই বাংলা মায়ের সন্তান। ব্যক্তি হিসেবে সকলেই নির্দিষ্ট কোন মতাদর্শে বিশ্বাসী হতেই পারে। এটাই গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র। আবার দেশের স্বার্থে, দেশের সংকটপূর্ণ অবস্থায় দেশের উন্নতিতে সকল দল একাত্মতা প্রকাশ করবে এটাও দেশপ্রেমের মূল মন্ত্র। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা দেশের কোন বৃহত্তর স্বার্থে কখনো এক হয়ে কাজ করতে পারেনি। এটাই বোধহয় জাতি হিসেবে আমাদের অধঃপতনের মূল কারণ।
মাথাব্যথার জন্য তার চিকিত্সা করতে হবে কিন্তু তার জন্য মাথা কেটে ফেলা নিশ্চয় কোন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। অরাজনৈতিক বিবেচনায় স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে কারো কোন দ্বিমত থাকতে পারে না। কিন্তু তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা কি ঠিক হবে? একটি পরিবারের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য যেমন সকল সদস্যের অংশগ্রহণ প্রয়োজন, ঠিক তেমনি একুশ শতকের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য সকল দলের অংশগ্রহণের কোন বিকল্প নেই।
ডা. মর্জিনা আক্তার
বারিধারা পাইল্স কিউর সেন্টার
গুলশান, ঢাকা
মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশকে হানাদারমুক্ত করলেও যুদ্ধাপরাধী ও এর লালন পালনকারী বিএনপি-জামায়াত রাজাকারদের বাঁচানোর জন্যই চাঁদে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে দেখা গেছে বলে গুজব তুলেছিল। হরতাল করে দেশের ভেতরে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাচ্ছে। ১৪ দল ও মহাজোটের কেউ নয়— তারা বাংলাদেশের জনগণ। তাই আটক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
বর্তমান রাজনীতির যে অবস্থা তাতে দেশের মানুষ ভালো নেই। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা।
মো. সফিউল আলম
বিউবিটি, মিরপুর-২, ঢাকা
রাজনীতিতে সংকট নিরসনের কোন লক্ষণ না দেখে ভয়াবহ সংঘাত ও দুর্ভোগের কথা ভেবে আমাদের মত সাধারণ মানুষের জনমনে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে। সামনের দিনগুলোতে ১৮ দলীয় জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু ও গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে হরতাল-অবরোধসহ আরো কঠোর কর্মসূচি দেবে বিরোধী দল। এদিকে সরকারও অনুসরণ করছে হার্ডলাইন। এদিকে আগামী মাসেই মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহম্মদ কামরুজ্জামানের মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। আগের দুটি রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলাতে জামায়াত শিবির দেশ জুড়ে যে ভয়াবহ সহিংসতা চালিয়েছে, তাতে ভবিষ্যত্ রায়গুলোর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে জনমনে বিরাজ করছে আতংক। দেশের পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ রাজনৈতিক সমাঝোতা। তার জন্য দেশের সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, দাতাগোষ্ঠী এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে। এ বাস্তবতায় সরকারের উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসা।
দেলোয়ার হোসেন দেলু
নিউ খানপুর, নারায়ণগঞ্জ
কেন ভূমিখেকো, বনখেকো, সামগ্রিক অর্থে রাষ্ট্রীয় সম্পদ খেকোদের ছায়া-প্রচ্ছায়ায় তারুণ্যের দ্যুতি ম্লান হয়ে যাচ্ছে? অথচ তারুণ্যের প্রচণ্ড ধাক্কায় রাজনীতির বুড়ো খোকারা এক টেবিলে বসতে বাধ্য হতো, তা যদি না হয় তাহলে ভাববার যথেষ্ট অবকাশ আছে যে, এই গণজাগরণ ষোল কোটির না, এই জাগরণ ব্যক্তি বা দলের? আসলে সকলি গরল ভেল। তাই আমরা চোখ থাকতে অন্ধ। শত্রু-মিত্র চিনতে আমাদের ভুল হচ্ছে। বিভেদ আর বিভাজন সৃষ্টিকারীরা উর্বর শক্তির খোঁজ পেয়েছে? অতি আদর আর মমতামিশ্রিত সাধের বাংলাদেশ নামের ভূখণ্ডের শব ব্যবচ্ছেদ করতে?
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর
এমন কোন স্বদেশপ্রেম কেউ দেখাতে পারেনি যাতে কিনা আমরা স্থির কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছি। ধর্মের নামে যেমন ধোঁকাবাজি ভালো না তেমন ইসলাম পরিপন্থি কোন কিছুকে প্রশ্রয় দেয়াও উচিত নয়। আর রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হচ্ছে, দেশে দু’টি ধারা সৃষ্টি হয়েছে। যাদের কাজ পরস্পরকে দোষারোপ করা। আমি মনে করি, এখনও অনেক মানুষ আছে যারা ধীর স্থিরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দু’দলের কার্যক্রম। সময় হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে মানুষ ভুল করবে না। হয়তো ভবিষ্যতে আমরা এমন কিছু দেখতে পাবো।
মো. কাদিউল ইসলাম
সহকারী শিক্ষক,
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
দেশে যে গণজাগরণে বোধোদয় হয়েছে এতে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। ন্যায়বিচারের দাবি করে মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। এটাই শুভ লক্ষণ। যে দেশের রাজনীতি সুস্থ নয় যেখানে রাজনৈতিক দল সাধারণ নাগরিকের রক্ত নিয়ে হোলি খেলতে চায়। নির্বাচনের সময় ভোটের প্রয়োজনে নাগরিকদের স্মরণ করে। জীবনের মূল্য দেয় না মানুষের। এমন রাজনৈতিক জোটের সমর্থক হওয়া উচিত নয়।
আমি জ্বালাও-পোড়াও, নাশকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। আমি শান্তির সমর্থক। সেবামূলক কাজের সমর্থক। দেশবাসী শান্তিতে জীবনযাপন, পূজা পার্বন, ঈদপর্ব উদযাপন করুক এটাই চাই। দুই বৃহত্ রাজনৈতিক জোট একত্রিত মিলিত হয়ে হাতে হাত মিলিয়ে দেশের শান্তির জন্য রাজনীতি করুক, গণতন্ত্র রক্ষা করুক, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সুযোগ করে কর্মজীবীদের চলার পথে নিরাপদ সুন্দর ব্যবস্থা করুক— তবেই রাজনৈতিক দলসমূহ আমাদের মত সাধারণ লোকের সমর্থন পাবে।
আশা এলিজাবেত গোমেজ
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০