অনন্য উচ্চতায় রাজ্জাকের রাজত্ব
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২১:২৭
মুশফিক এখন দাবি করতে পারেন, তিনি আসলে ভবিষ্যত্ দেখতে পেয়েছিলেন। ভবিষ্যত্ দেখতে পেয়েছিলেন বলেই নিজে না এসে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে পাঠিয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাককে। রাজ্জাকও সংবাদ সম্মেলনে এসে জোর গলায় বলে গিয়েছিলেন, উইকেট যেমনই হোক বাংলাদেশি স্পিনাররা আটকাতে পারবে শ্রীলঙ্কানদের। ব্যাটসম্যানদের আটকানো হয়তো যায়নি; কিন্তু রাজ্জাক নিজে কথা রেখেছেন। ইতিহাস গড়েই মাঠ ছেড়েছেন বাংলাদেশের এই বাহাতি স্পিনার।
দেশের সফলতম ও অভিজ্ঞতম ওয়ানডে বোলার রাজ্জাক কাল শ্রীলঙ্কান ব্যাটিং তাণ্ডবের মধ্যেও ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো তুলে নিলেন ম্যাচে ৫ উইকেট। শ্রীলঙ্কা ৫০ ওভারে করল ৩০২ রান; রাজ্জাক ৬২ রানে নিলেন ৫ উইকেট। এই ৫ উইকেট হয়ে গেল তার নিজের ও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। কারণ এই পঞ্চম উইকেট শিকারের ভেতর দিয়েই বাংলাদেশের প্রথম এবং বিশ্বের ৩৪তম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেট শিকার করে ফেললেন রাজ্জাক!
শ্রীলঙ্কান তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান; বিশেষ করে তিলকরত্নে দিলশানের আরও একটা মারকাটারি সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতেই পথ হারিয়ে ফেলেছিল। সেই দলকে পথে তোলার মতো যেটুকু কাজ, তা রাজ্জাকই করেছিলেন। পরপর তিনটে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। তারপরও রানের পাহাড় গড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংসের শেষ ওভারেই গড়লেন ইতিহাস।
শেষ ওভারের প্রথম বলে কুলাসেকেরাকে আউট করে পৌঁছে গেলেন রাজ্জাক ১৯৯-এ। পরের বলেই বোল্ড সেনানায়েকে। শ্রীলঙ্কান এই বোলার একটা কথা ভেবে খুশি থাকতে পারেন; তার নামটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে লেখা থাকবে। সেনানায়েকেই হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম ২০০তম উইকেট! আর সেই কাজটা করে জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো হ্যাটট্রিকও করার সামনে দাঁড়িয়ে পড়লেন রাজ্জাক।
তৃতীয় বলটা বাক নিয়ে লাসিথ মালিঙ্গার পায়ে লাগল। প্রবল আবেদন করলেন রাজ্জাক। রিপ্লেতে মনে হল, ধারাভাষ্যে যাকে বলা হয়—গুড সাউট। কিন্তু আম্পায়ার আবেদনটাকে যথার্থ মনে করলেন না বলে ওয়াসিম আকরাম, সাকলায়েন মুশতাক, চামিন্দা ভাস এবং এই মালিঙ্গার পর আরেক বোলার হিসেবে দুই হ্যাটট্রিক করা হল না রাজ্জাকের।
হ্যাটট্রিক না হলেও রাজ্জাক নিজেকে সফলই মনে করতে পারেন। অন্তত পেসাররা যেভাবে শুরু করলেন; তাতে শ্রীলঙ্কার আরও বড় স্কোরও খুব অসম্ভব ছিল না। শাহাদাত হোসেন, জিয়াউর রহমানকে কার্যত অচল করে দিয়ে দুই শ্রীলঙ্কান ওপেনার কুশল পেরেরা ও দিলশান ১০ ওভারেই বিনা উইকেটে ৬৩ এবং ২০ ওভারে বিনা উইকেটে ১০৯ রান তুলে ফেললেন। দলীয় ১১৬ রানে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করে মাহমুদউল্লাহর শিকার হয়ে ফিরলেন কুশল। এরপর ফর্মের তুঙ্গে থাকা সাঙ্গাকারাকে নিয়ে ৮৭ রানের জুটি গড়লেন দিলশান; মানে ১ উইকেটে শ্রীলঙ্কা ২০৩।
এখান থেকেই নিজের পরপর চার ওভারে শ্রীলঙ্কার ৩টি উইকেট তুলে নিলেন রাজ্জাক। সঙ্গে সোহাগ গাজী ও জিয়াউর রহমানও হাত লাগানোতে ৩৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকেই পড়ে গেল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থিরিমানের অপরাজিত ২৫ রানের ঝড়ে ঠিকই ৩০০ রান পার করে ফেললো শ্রীলঙ্কা।
ম্যাচে হয়তো বাংলাদেশ তখনই পিছিয়ে পড়ল। কিন্তু রাজ্জাক এগিয়ে গেলেন ক্রিকেটেরই বিবেচনায়।