এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ
বাংলাদেশকে বাদ দিলো এএফসি
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২১:২৭
এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের মানুষ, এশিয়ার ফুটবল খেলুড়ে দেলগুলো; সবাই জানে, এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের মূল পর্বে খেলছে বাংলাদেশ। এই জানানোর কাজটা করেছিল এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এএফসি) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। আবার সেই এএফসিই গতকাল বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশের জায়গা হয়নি চ্যালেঞ্জ কাপের মূলপর্বে। রাতারাতি হিসাব বদলে ফেলার এই ভুল বা নগ্ন কাজ করার ভেতর দিয়ে দৃশ্যত শেষ হয়ে গেল মালদ্বীপে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের মূলপর্বে খেলার বাংলাদেশের স্বপ্ন।
বাংলাদেশের ফুটবলাররা পর্যন্ত এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের মূলপর্বে খেলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছিলেন। ফুটবল ফেডারেশনও সে লক্ষেই অন্তত প্রস্তুত হচ্ছিল। কিন্তু গতকাল বিকালে এএফসি থেকে একটি চিঠি এসেছে বাফুফেতে। তাতে চ্যালেঞ্জ কাপের মূলপর্বের দলগুলোর নাম বলা হয়েছে; সেখানে বাংলাদেশ নেই। গতকালই বিকালে এএফসির ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি দিয়েছে এশিয়ান ফুটবলের এই সর্বোচ্চ সংস্থা। বিবৃতিতে বাইলজ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, লাওস ও তুর্কমেনিস্তান সেরা দুই রানার্সআপ হিসেবে খেলবে মূলপর্বে।
এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাফুফেকে না জানালেও আগের দিন রাত পর্যন্ত এএফসির ওয়েবসাইটে খবর ছিল—সেরা রানার্সআপ হিসাবে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ। কিভাবে পাচ্ছে সেটিও উল্লেখ ছিল।
কিন্তু এখন বাইলজের অজুহাত দিয়ে উল্টোটা বলা হচ্ছে। চ্যালেঞ্জ কাপের বাইলজে আছে কোনো গ্রুপে দল কম থাকলে বাকি গ্রুপগুলোর রানার্সআপ দলের সঙ্গে চতুর্থ হওয়া দলের ফলাফল বিবেচ্য হবে না। ‘ই’ গ্রুপ থেকে ব্রুনাইর নাম প্রত্যাহার করায় বাইলজ অনুসারে নর্দান মারিয়ানার বিপক্ষে বাংলাদেশের পাওয়া ৪-০ গোলের জয়টি বিবেচনায় আসেনি। যে কারণে সেরা রানার্সআপ হওয়ার নিয়মে বাংলাদেশের পয়েন্ট থাকে তিন এবং গোল পার্থ্যক্য +১। এই নিয়মে বাংলাদেশকে টপকে উপরে অবস্থান করছে লাওস, তুর্কমেনিস্তান ও ভারত।
কিন্তু বুধবার রাত পর্যন্ত এএফসির ওয়েবসাইটে ই-গ্রুপে ব্রুনাইয়ের বিরুদ্ধে অন্য তিন দলকে ৩-০ গোলে জয়ী দেখানো হয়েছিল। কারণ, ব্রুনাই শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করায় ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছিল। যার অর্থ বাংলাদেশের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত। গতকাল রাত পোহালেই পয়েন্ট টেবিলের চিত্র পাল্টে যায়। গতকাল থেকে এএফসির ওয়েবসাইটে ব্রুনাইয়ের নামটিই উধাও হয়ে যায়।
বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ অবশ্য একটা কাজ করেছেন। প্রমাণ রেখে দিয়েছেন। আগের রাতের সাক্ষ্য হিসাবে সবার সামনে প্রমাণপত্রও তুলে ধরলেন সাধারণ সম্পাদক।
এএফসির মতো একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান এমন তেলেসমাতি কাণ্ড ঘটিয়ে সবাইকে হতবাক করেছে। কী কারণে বাংলাদেশের নাম আগেই তাদের ওয়েব সাইটে উঠেছিল। আর কেনই বা গতকাল থেকে নাম পরিবর্তন করে অন্য দেশকে নেয়া হলো তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। প্রশ্ন উঠেছে বাইলজ অনুসারেই সিদ্ধান্ত হলে কেনই বা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবার জন্য বাংলাদেশকে টানা একটি সপ্তাহ অনিশ্চিয়তার মধ্যে রাখা হলো।
এমন অপেশাদারি আচরণ বাংলাদেশের ফুটবল প্রিয়দের হতাশ করেছে, মর্মাহত করেছে। তাদের এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছে বাফুফে। এখন বাফুফে পরিষ্কার করে এএফসির কাছে জানতে চাইবে কি কারণে এমনটি করল তারা।