‘জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমেই স্বাধীনতা বিরোধীদের মোকাবিলা সম্ভব’
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২২:০৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতন্ত্র ছাড়া দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়। অথচ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাতি যখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে তখন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশকে অশান্ত করে তুলেছে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবেলা সম্ভব।
শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে নস্যাত্ করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমেই কেবল এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা সম্ভব। এ বিচারের জন্য জাতিকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে মৌলবাদীদের প্রতিহত করতে হবে। অথচ অনেকে এ বিচার নিয়ে অস্থির হয়ে পড়েছেন। যেন সবকিছু এক চোটে হয়ে যাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রখ্যাত সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুরি বোর্ডের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রশংসাবচন পাঠ করেন জুরি বোর্ডের সদস্য ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান উপদেষ্টা নওয়াজিশ আলী খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের প্রয়াণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জুরি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনের জন্য ২০১২ সালে বজুলর রহমান স্মৃতিপদক লাভ করেন দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক শরিফুজ্জামান পিন্টু। আর এটিএন বাংলার সাংবাদিক রাহাত মিনহাজ। তাদের ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয় অনুষ্ঠানে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিগত পাঁচ বছরের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নির্বাচিত প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ ও ডিভিডির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আরো বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য এবং এ বিচারের পক্ষে জনমত তৈরিতে আমাদের গণমাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতি সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দৃঢ় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সে জন্যই গণমাধ্যমে প্রসারতায় সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। তবে স্বাধীন গণমাধ্যম যেন স্বেচ্ছাচারী হয়ে না ওঠে সে ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গত আমলে বেসরকারি খাতে ইলেকট্রনিক মিডিয়া স্থাপনের দ্বার খুলে দেয়া হয়। আজ দেশে প্রায় দুই ডজনের বেশি বেসরকারি টেলিভিশন এবং রেডিও সম্প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তথ্য অধিকার আইন ও তথ্য কমিশন গঠন করে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করেছি।
প্রয়াত বজলুর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষে, মানুষের পক্ষে তিনি কথা বলেছেন। কোন রক্তচক্ষুর কাছে, প্রলোভনের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তার সমালোচনা আমি সবসময় মাথা পেতে নিতাম। পর্দার আড়ালে থেকে সত্ পরামর্শক হিসেবে তিনি আমাকে পথনির্দেশ করেছেন।