শিশুদের বন্ধু

‘ছোটবেলা থেকেই কবিতা শিখতাম আর জেলা থেকে শুরু করে বেশ কয়েকবার জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। বন্ধুরা যখন খেলা আর গেমস নিয়ে ব্যস্ত তখন আমি ভাবতাম কীভাবে আমার মতো শিশুদের নিয়ে কাজ করা যায়, যারা লেখাপড়া করতে পারে না , যাদের মত প্রকাশের কোনো অধিকার নেই, যারা আমার বন্ধুদের মতো গেমস খেলতে পারে না, ভাবতে পারে না নতুন কিছু। আর এ ভাবনা থেকেই সংগঠনে আসা। তখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র। ২০১১-এর দিকে আমি জাতীয় সংগঠন ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ)-এর বরিশাল জেলার সাধারণ সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করি। এর পর থেকেই আমার সংগঠন জগতে পথচলা। ১ম দিন যেদিন সংগঠনে আসি সেদিন আমার বাবা সাথে ছিলেন। এর পর নিজেই কাজ শুরু করে দিই বরিশালের শিশুদের সাথে। একই সাথে বরিশালের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি। তবে এর পিছনে আমার ভাবনা এবং আগ্রহ বেশি ছিল। কীভাবে নতুন কিছু করে এ দেশের শিশুদের পরিস্থিতি বদলে এক সম্ভাবনাময় উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া যায়। আর এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকি আমি। সারা বাংলাদেশ জুড়ে এনসিটিএফ-এর কাজ বিস্তৃতি যার ফলে শিশুদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে আমি এবং আমার সংগঠন কাজ করে যাচ্ছি। কারণ আমি মনে করি প্রতিটি শিশুর মধ্যেই রয়েছে অসংখ্য সম্ভাবনা। তাই প্রতিটি শিশু তার অধিকার সম্পর্কে জানা উচিত যাতে করে আমরা প্রমাণ করতে পারি শিশুরা শুধুমাত্র ভবিষ্যত্ না, বর্তমানেও ভূমিকা রাখতে পারে।’ নিজের এগিয়ে যাওয়ার গল্প এভাবেই শোনালেন ফয়েজ বেলাল। ২০১২-তে শিশুদের জন্য সরকার যে প্রতিবেদন জাতিসংঘে জমা দিয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে শিশুরা যে বিকল্প প্রতিবেদন জমা দিবে তাতে এনসিটিএফ সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে, যার ফলে উক্ত প্রতিবেদনে ফয়েজ যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছেন যাতে বাংলাদেশে শিশু অধিকার বাস্তবায়নে সরকার আরও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিছুদিন আগে চাইল্ড পার্লামেন্টের ১১তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানেও চাইল্ড পার্লামেন্ট কোর কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ফয়েজ এতকিছু করছেন তাতে পড়াশোনার সমস্যা হচ্ছে না তো? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা সবার জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর কোনো বিকল্প নেই তাই আমি যা কিছু করি না কেন পড়াশোনা ঠিকমতো করি আর তাই আমার বাবা-মায়েরও আমার প্রতি যথেষ্ঠ বিশ্বাস আছে যার ফলে আমার তেমন কোনো অসুবিধা হয় না। আর সময়ের সত্ ব্যবহার করা প্রতিটি মানুষের উচিত, আর আমি তা করার চেষ্টা করি।’ বর্তমানে ফয়েজ বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের ব্যবসায় শাখার একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। ছাত্রজীবনে শিশুদের পাশে থেকে প্রমাণ করতে চান সমাজে ছাত্ররা কত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যৌথ পরিবারের মধ্য থেকেই বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই মিশুক প্রকৃতির তিনি। তার মা গৃহিণী আর বাবা ব্যবসা করেন। বড় বোন ন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটিতে ৩য় বর্ষের ছাত্রী। ছোট ভাই তামিম বরিশাল জিলা স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। সজিব খন্দকার তার পথচলায় অনেক সহযোগিতা করেছেন। বন্ধুদের সাথে আড্ডার সময় বিতর্ক করতে খুব বেশি পছন্দ করেন। ‘যেহেতু ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পাশে থেকে কাজ করছি সামনেও করব। বর্তমানে শিশুদের জন্যে শিশুতোষ কিছু ফিল্ম করার পদক্ষেপ চলছে। আর স্বপ্ন দেখি এমন একটি দেশের যেখানে সব শিশুরা সমান অধিকার পাবে সমানভাবে নিজের মতো করে কথা বলতে পারবে। আর তাই সবশেষে শিশু বান্ধব বাংলাদেশ গড়তে সকলের ঐক্য বদ্ধভাবে কাজ করার আশা প্রকাশ করছি’, বললেন ফয়েজ বেলাল।