পার্সির ভাবনায় শুধু ইউনাইটেড

খুব বেশিদিন হয়নি আর্সেনাল থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসেছেন; আর এর মধ্যেই নিজেকে নতুন করে মেলে ধরতে শুরু করেছেন। সময়টা দারুণ যাচ্ছে নেদারল্যান্ডসের তারকা খেলোয়াড় রবিন ফন পার্সির। চলতি মৌসুমেও অসাধারণ খেলছেন তিনি। এমন মধুর সময়ে তার মনে হলো দলটির সাথে থেকে গেলেই বোধহয় ভাল হয়! ডাচ আন্তর্জাতিক ফরোয়ার্ড আশা করছেন, রেড ডেভিলদের সাথে ক্যারিয়ার শেষ করতে পারবেন। বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার চলতি মৌসুমের শুরুতে আর্সেনাল থেকে ইউনাইটেডে যোগ দেন। ইতিমধ্যেই সে ওল্ড ট্রাফোর্ডে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফন পার্সি চলতি মৌসুমে ১৯ গোল করেছেন। গোলদাতাদের তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। ২২ গোল করে শীর্ষে রয়েছেন লিভারপুলের লুইস সুয়ারেজ। পার্সি ছন্দময়তায় ইউনাইটেডও ২০তম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দিকে ধেয়ে ছুটছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ইউনাইটেড এখন ১৫ পয়েন্টে এগিয়ে। লিগের এখনো নয়টি ম্যাচ বাকি থাকলেও সিটির শিরোপা আশা অনেকটাই ধূসর হয়ে গেছে। প্রিমিয়ার লিগে পার্সি গোল করেছেন এবং সুযোগও তৈরি করে দিয়েছেন। লিগে এখন পর্যন্ত আটটি গোলে তার অবদান রয়েছে। ইউনাইটেডে দীর্ঘ সময় ধরে খেলছেন রায়ান গিগস (৩৯) এবং পল স্কোলস (৩৮)। পার্সিরই সতীর্থ তারা। আর পার্সিও হাঁটছেন তাদের পথেই। ডাচ ম্যাগাজিনে ভোয়েটবল ইন্টারন্যাশনালে পার্সি নিজের ইচ্ছের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক বছর আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেই থাকতে পারি- হতে পারে দীর্ঘদিনের জন্য। ইউনাইটেড হতে পারে আমার শেষ ক্লাব। আপনি ইউরোপের কয়েকটি ক্লাবে দেখবেন যেখানে জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রা ভাল কিছু খুঁজে পেতে পারে। যেখানে তাদের মূল্যায়ন করা হয়। আজ আপনি জুভেন্তাস, এসি মিলান এবং ম্যানচেস্টার ইউটেডের ভাল উদাহরণ দিতে পারেন। তাই কে বলতে পারে কতদিন আমি এই ক্লাবের সাথে থাকবো।’ ইউনাইটেডে নিজের উন্নতিও দেখছেন পার্সি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউনাইটেডে প্রতিদিনই নতুন চ্যালেঞ্জ আমার জন্য। আমার উন্নতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ আর্সেনাল থেকে এসে তিনি তার ফর্ম খুঁইয়ে ফেলেননি। বরং উদ্ভাসিত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পার্সি বলেন, ‘আপনার মনে অতিরিক্ত কিছু করার প্রবল ইচ্ছে আসবে যখন চারিপাশে নতুন কোচ এবং সতীর্থ থাকবে। সবারই নিজস্ব ধারণা রয়েছে। পুরোপুরিই নতুন পরিবেশ।’ পার্সি গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপ ২০১৪ বাছাই ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে রোমানিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। একটি মাইলফলক অতিক্রম করেছেন সেদিন পার্সি। তারই স্বদেশী কিংবদন্তি খেলোয়াড় ইয়োহান ক্রুইফের আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলের রেকর্ডকে পেছনে ফেলেন তিনি। সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে ক্রুইফ ৪৮ ম্যাচে ৩৩ গোল করেছিলেন। ৭৪ ম্যাচে সেখানে পার্সি করেছেন ৩৪ গোল। ২০০৫ সালে এফএ কাপ বাদে আর্সেনালের হয়ে অন্য কোন শিরোপার দেখা পাননি পার্সি। তবে, তাই এখন পর্যন্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি স্পর্শ করা হয়নি তার। ব্যবধান ধরে রাখলে হয়তো এবার সেই স্বপ্নও পূরণ হবে পার্সির।