[ রা জ নী তি ]

কৃষ্ণ আবরণে দেশ কোনদিকে চলছে?

বাংলাদেশ বর্তমান সময়ে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ‘সময়’ পার করছে। এখানে সময়ের স্থলে ‘এগিয়ে’ চলছে বলতে পারলাম না এইজন্য যে, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি পেছনে ধাবিত হচ্ছি, তা স্পষ্ট নয়। সবকিছুতেই কৃষ্ণ আবরণ। চারদিকে অস্থিরতা, স্থবিরতা আমাদেরকে এক অশুভ আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকগণ দেশে বর্তমানে তিনটি সরকারের অস্তিত্বের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন। এর মধ্যে একটি সরকারের ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব নেই। অপর দু’টি সরকারের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রয়েছে। একটি জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত। অপরটি নির্বাচিত সরকারের মদদে পরিচালিত। চাঁদের যেমন নিজস্ব আলো নেই, সূর্যের আলোয় সে আলোকিত, ঠিক তেমনি নির্বাচিত সরকার কর্তৃক আরেকটি প্যারালাল সরকার অতি সম্প্রতি ক্রিয়াশীল রয়েছে। এই সরকারটি নির্বাচিত সরকারের ন্যায় আদেশ, উপদেশ, নির্দেশ দিচ্ছে। আলোচনার শুরুতে এ তিনটি সরকারের স্বরূপ তুলে ধরা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিরোধী দলকে ‘ছায়া সরকার’ বলা হয়। রাজনীতি বিজ্ঞানের তাত্ত্বিকতায় বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ছায়া সরকার হলেও প্রশাসনের ওপর তাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই। ইচ্ছে বা অভিপ্রায় বাস্তবায়নের কোনো ক্ষমতা নেই বিধায় বিএনপির কথা প্রশাসনের কেউ শোনে না, মান্য করে না। গণতন্ত্রের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্যে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি ছায়া সরকার হলেও তাদের সেই মর্যাদা দেয়া হয়নি। এটি শুধু এবারই নয়; বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশে সেই মর্যাদা কোনো বিরোধী দলকেই কোনো সময়ই দেয়া হয় না। এখন আরো যে দু’টি সরকার রয়েছে তার একটি হলো আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এবং আওয়ামী লীগের মদদে, পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠা ডা. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বাধীন শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সরকার। ভোটের রাজনীতিতে এককভাবে পিছিয়ে থাকা আওয়ামী লীগকে সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ যেসব কর্মসূচি বা রাজনৈতিক এজেন্ডা হাতে নিয়ে এগুচ্ছে, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সরকারও অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের ব্রত নিয়েছে। ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর ৪ শতাংশেরও বেশি ভোট রয়েছে। এখন যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীকে যদি নিষিদ্ধ করা যায় এবং এ দলের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেয়া সম্ভব হয়, তবে আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার অপরিবর্তিত থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন আঠারদলীয় জোটের ভোটের হার কমে যাবে। আবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান তার সিদ্ধান্তে দৃঢ় না হলেও এক প্রকার নিশ্চিত বলা যায় যে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকালে তিনি মহাজোটে থাকবেন না। কেননা, আওয়ামী লীগ বিগত সংসদ নির্বাচনে এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এরশাদের কপাল পুড়েছে। এরশাদ আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার খায়েশ প্রকাশ করলেও নির্বাচনোত্তর এ নিয়ে দেন-দরবার করার সুযোগই পাননি। এই দুঃখের ঝাল এরশাদ মেটাবেন আসছে নির্বাচনের সময় মহাজোট ত্যাগ করে। ধারণা করি, শেখ হাসিনা বাস্তব এ আগামটি বুঝতে পেরেছেন। এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী হিসেব কষে জামায়াত নির্মূলে নেমেছে। আর এই জামায়াত নির্মূলে রসদ যোগাচ্ছে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের ডা. ইমরান এইচের সরকার। বস্তুত দেশবাসী অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করছে যে, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সরকার যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই বলে গলা ফাটিয়ে ফেলছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হোক এটা সবাই চায়। বেগম খালেদা জিয়াও বলছেন তারাও যুদ্ধাপরাধের বিচার চান। এক্ষেত্রে তিনি বলেছেন, সকল দলের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানের যেন হয় এবং শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতার বিষয়টিও তুলে ধরা হোক। কিন্তু নিরপেক্ষতার স্বার্থে একবারের জন্যও শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে তারা উচ্চারণ করে নাই ‘পদ্মা সেতু যারা ডুবিয়েছে, আবুলসহ সবার গ্রেফতার চাই, বিচার চাই। শেয়ারবাজার, হলমার্ক, রেলের কালো বিড়াল এবং জনসাধারণের টাকা আত্মসাত্কারীদের গ্রেফতার ও শাস্তি চাই। নিরীহ, নিরস্ত্র লিমনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অপরাধীগোষ্ঠীর বিচার চাই। বিরোধী দলের অফিসে পুলিশি হামলা, নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, ডাণ্ডাবেড়ি পরানো, রিমান্ডে নেয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবির সঙ্গে যদি এসব দাবি একবারের জন্যও করতো, তবে জাতির কাছে আরও ব্যাপকভাবে তারা সাদৃত হতো। অতএব, ইমরান সরকার যে আওয়ামী লীগের নতুন সংস্করণ, তা সকলের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে বিএনপিসহ আওয়ামীবিরোধী গ্রুপ বিরুদ্ধাচরণ করছে। এর ফলে ইমরানরা এখন স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সভা-সমাবেশ করছে। বর্তমানে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকে দলীয়করণ করা হয়েছে বলে জনগণ অভিহিত করছে। তারই প্রতিধ্বনি দেখা যায় গত ২৫ মার্চের ড. কামাল হোসেন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর বিবৃতিতে। বিবৃতিতে তারা শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকে দলীয়করণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্ব রাজনীতিতে সরকার সমর্থক মঞ্চের জয়গান নেই। তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে স্থান পেয়েছে। সরকারবিরোধী মঞ্চ মানুষের হূদয়ে স্থান করে নিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিউনিশিয়া থেকে আরব বসন্তের যে সূচনা হয়েছিলো, তা ছিলো সরকারের বিরুদ্ধে। সরকারবিরোধী ওইসব আন্দোলন, সমাবেশ ‘আরব বসন্ত’ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। শাহবাগ আন্দোলন বাংলাদেশের বসন্ত নয়। বিএনপি তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে ‘আসল উদ্দেশ্য’ বুঝতে পেরে সরকারের ব্যর্থতায় আবারও সোচ্চার হয়। আদালতের নির্দেশনার অজুহাতে নির্বাচনকালীন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার পদ্ধতি বাতিল করে শেখ হাসিনা স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নে বিভোর। বিএনপিসহ অপরাপর বিরোধী দল নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার দাবিতে অটল। এ লক্ষ্যে গত ১১ মার্চ বিএনপি তাদের পল্টন অফিসের সামনে যখন সমাবেশ করে, তখন কতিপয় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ছুতায় পুলিশ বিএনপি অফিসে ঢুকে যেভাবে দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়, মিথ্যা মামলা দেয়া, জামিন না দিয়ে রিমান্ডে পাঠায় তা নজিরবিহীন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরকারের এই কলুষিত রূপ তুলে ধরলে পরের দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ কয়েকজনকে ছেড়ে দেয়া হলেও অন্যরা এখনো জেলে। মিথ্যা মামলায় এখন আদালতকে প্রভাবিত করে ১৫১ জনকে জামিন না দিয়ে উল্টো সংগ্রামী এ সমস্ত নেতাকে নজিরবিহীনভাবে রিমান্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে। ইতিহাস পঠনে তিন ধরনের শিক্ষার কথা বলা হয়। এক. মানুষ অপরজন থেকে শুনে শিক্ষা গ্রহণ করে। দুই. অপরজনকে দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং তিন. নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। অতীত ইতিহাস এই সাক্ষ্য দেয় যে, শেষোক্ত অর্থাত্ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে। বস্তুত এই শিক্ষাটি খুব ‘পেইনফুল’। যেমন, বিশ্বাসঘাতকতার জন্য কিংবা নিপীড়নের জন্য যদি কারো মৃত্যু হয়, সে তো আর শোধরানোর জন্য জীবন ফিরে পাচ্ছে না। তেমনিভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের ইচ্ছে বা অভিমতের বাইরে গিয়ে সরকার যদি কোনো কিছুতে অনড় থাকে এবং এক্ষেত্রে যদি সরকারের পতন হয়, সেক্ষেত্রে পুনর্বার সরকারের দায়িত্বে আসা তার পক্ষে বেশ কঠিন বৈকি। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির অস্থিরতার মধ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনের দাবিটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের দাবি। অথচ শেখ হাসিনা সরকার এটি জেনে-বুঝেও মানতে চাইছে না। অধিকন্তু শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভা- সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাকে এবং তাকে জেলে পুরেছিল। তার দুই সন্তানকেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার জেলে পুরেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার ক্ষমতায় এলে তিনি কী পার পাবেন? তাকে আবারও জেলে যেতে হতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের কথা এর আগেও অনেক বলেছেন। বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে কী তাকে চ্যাংদোলা করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে?’ ২৭ মার্চের সমাবেশে তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানে চলে যেতে বলেছেন। এ ধরনের কথাবার্তা কী প্রধানমন্ত্রীর মুখে মানায়? সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার কথা ‘প্রধানমন্ত্রীর কথা’ হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর কথা কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে তার অপরাপর দেশের প্রধানমন্ত্রীর কথা, চালচলন সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখা উচিত। আমরা বলতে চাই, আদালত সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের মতের ঊর্ধ্বে নয়। আদালত থেকেও এবার থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং সাজেদা চৌধুরী যখন আরো একাধিকবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বহাল রেখে সংবিধানের খসড়া সংশোধনী নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন, তখন শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনতে নির্দেশ দেন। আমরা যদি বিস্মৃতিপরায়ণ না হই, তবে এটি ভুলে যাওয়ার কথা নয়। দেশে চলমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি এড়াতে সরকার বলছে, বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করতে ইচ্ছুক। দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসার জন্য মাননীয় আদালতও রুল জারি করেছে। কিন্তু আলোচনা হবে কী এজেন্ডা নিয়ে? বিএনপি কী চায়? সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বিএনপি এই দাবি নিয়েই তো আন্দোলন করছে। তাহলে অবশ্যই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পদ্ধতির বিষয় এজেন্ডা নির্ধারণ করেই আলোচনায় বসা উচিত। অন্যথায়, আলোচনা কোনো ফল বয়ে আনবে না। শুধু আলোচনার জন্য আলোচনা স্বস্তিদায়ক কোনো কিছু আনতে পারে না। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা আশার আলোও দেখা যায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান মৃত্যুবরণ করার পর বেগম খালেদা জিয়া যে শোকবাণী দিয়েছেন, দলীয় আন্দোলনের কর্মসূচি স্থগিত এবং ঢাকায় হরতাল প্রত্যাহার করেছিলেন, দলীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে নিজে শোক জ্ঞাপনের জন্য বঙ্গভবনে ছুটে গেছেন তা বিএনপির এবং বেগম খালেদা জিয়ার উদারতার পরিচয় বহন করে। অথচ সেদিনই নিম্ন আদালত বিএনপির নেতাকর্মীদের জামিন না দিয়ে ৮ দিনের রিমান্ডে পাঠায়। সরকার বিএনপির চলমান আন্দোলনকে দেশে আবারও ওয়ান ইলেভেন তৈরির চেষ্টা বলে প্রচার করছে। সরকারের এ কথার যে ভিত্তি নেই, তা কী বিশদ আকারে বলবার প্রয়োজন আছে? সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের একটি দাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে এবং এজন্য প্রধান বিরোধী দলসহ অন্য দলগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকারই বরং পুলিশকে অধিকমাত্রায় দলীয় কর্মী হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশকে জনসাধারণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আরেকটি ওয়ান ইলেভেন পরিস্থিতি এড়ানোর দায়িত্ব সরকারের হাতে। এখন সরকার যদি পরিস্থিতি বুঝেও না বুঝার ভান করে, উল্টো শক্তি প্রদর্শন করে তবে এর দায় সরকারের ওপর বর্তায়। এখন যে অমাবস্যার মধ্য দিয়ে দেশ চলছে, আমরা এর অবসান চাই। শুক্ল পক্ষের প্রতীক্ষায় আছি। পূর্ণিমার চাঁদে সব আলোকিত হবে, আমরা স্বচ্ছ পরিবেশ দেখতে চাই। এই পরিবেশ- পরিস্থিতি সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের। সরকার বাস্তবতায় ফিরে আসুক, এটাই সবার কাম্য। লেখক :সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় e-mail: drshamsulalamgp@gmail.com