প্র জ ন্মে র এ ক জ ন

ফ্ল্যাশ দিয়ে গেম বানালেন ক্রেইগ উইলমার

অ্যানিমেশন, ওয়েবসাইট, ব্যানার, দ্বিমাত্রিক গেম ইত্যাদি তৈরির জন্য ফ্ল্যাশ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সফটওয়্যার। আমাদের দেশেও প্রচুর ডেভেলপার রয়েছেন যারা ফ্ল্যাশে কাজ করেন। ফ্ল্যাশ দিয়ে ডেক্সটপ প্লাটফর্মে বেশ ভালো রুচিশীল কাজ করা সম্ভব। আর সেই কাজ করে দেখিয়েছেন ক্রেইগ উইলমার নামের এক তরুণ। তার কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ভেনেজুয়েলার কারাকাস শহরে জন্ম নেন এই প্রতিভাবান গেম ডিজাইনার। শৈশবেই ছোট ভাইয়ের সাথে গেম খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ‘স্লিউথ’ নামের একটি গেম অনেক বেশি পছন্দ ছিল তার। তিনি মনে করতেন গেমটির সাথে গেমারের ইমোশন মিশে আছে। তার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বাবা প্রথম কম্পিউটার ঘরে নিয়ে আসার পর থেকেই এই জিনিসটির প্রতি আগ্রহ জাগে ছোট্ট কেলির। অল্প বয়সে তিনি মাকে হারান। তার বয়স যখন ১৮, তারা সপরিবারে নিউইয়র্কে চলে যান। এরপর তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি অ্যামেচার থিয়েটারের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এরপর মাস্টার্স ডিগ্রি নেওয়ার জন্য তিনি লস অ্যাঞ্জেলসে যান ২০০৭ সালে। প্রথমে তার ইচ্ছে ছিল থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু তার এ ধারণা পাল্টে যায় সেকেন্ড সেমিস্টারে উঠে গেম ডেভেলপমেন্ট সাবজেক্টের সাথে পরিচিত হওয়ার পরপরই। এ বিষয়টি তাকে ভিডিও গেম ডিজাইন বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন এ বিষয় নিয়েই পড়াশোনা করবেন। সেখান থেকেই মূলত তার ‘ক্লাউড’ গেম ডিজাইনের সাথে জড়িয়ে পড়া। আর সেই পথ ধরেই আজ তিনি একজন সফল গেম ডিজাইনার। বেশ কিছুদিন আগে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ২৪তম গেম ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড। সেই অনুষ্ঠানে পুরস্কার জিতলেন ক্রেইগ। মাত্র ২৩ বছর বয়স তার, এই বয়সেই গেম ডিজাইনার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছেন তিনি। ইলেক্ট্রনিক আর্টস নামের একটি গেম তৈরির কোম্পানি রয়েছে। সেই কোম্পানির সাথে কাজ করার প্রথম শর্ত হলো, সৃজনশীলতার প্রমাণ দেখাতে হবে। কোম্পানিটি কর্মীর সন্ধানে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আর এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে মেধাবী তরুণ-তরুণী এসে নাম লেখায়। ইলেক্ট্রনিক আর্টস তাদের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সুদক্ষ ডিজাইনার হিসেবে গড়ে তোলে। এমনই এক প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসেন ক্রেইগ। গেম ডেভেলপারদের পাশাপাশি বর্তমানে গেম ডিজাইনারদের চাহিদাও অনেক বেশি। হাই গ্রাফিক্স মানের গেম বানাতে গেলে প্রয়োজন বুদ্ধি আর দক্ষতার। ভেনেজুয়েলা থেকে আসা ২৩ বছর বয়সী ক্রেইগ একজন ভিডিও গেম ডিজাইনার হিসেবে সেই বুদ্ধি ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সফল এই গেম ডিজাইনারের পথ চলাটা খুব সহজ ছিল না। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই পার হতে হয়েছে তাকে। তার ভাষ্যে, ‘আমরা যেভাবে চাই সেভাবেই আমাদের জীবন কাটে। আমরা অনেকেই জীবনের না-পাওয়া নিয়ে আফসোস করি। কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি যে, আমাদের চাওয়াগুলোকে পাওয়ায় রূপ দিতে আমরা কতটা পরিশ্রম করেছি। আমরা অনেকেই জীবনের নানা প্রতিকূলতার দোহাই দিয়ে থাকি। অথচ চারপাশে তাকালে আমরা বুঝতে পারব, সফলরা কখনোই জীবনের নেতিবাচক পরিস্থিতিকে এড়িয়ে যাননি। বরং এ ধরনের অবস্থাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। আর তাই তারা সফল হয়েছেন। আমি আমার জীবনটাকেও ঠিক এভাবেই দেখতে চাই।’ সত্যিই তাই, ক্রেইগ জীবনকে দেখেছেন একজন চ্যালেঞ্জারের চোখে। পড়াশোনা করেছেন আর্টস নিয়ে কিন্তু তার বর্তমান ক্যারিয়ার গড়ে ওঠেছে প্রযুক্তি খাতে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যে কাজটি করতে ভালোবাসি, তা-ই করতে চেষ্টা করি। আর এই ভালোবাসাই আমাকে সাহায্য করেছে গেম ডেভেলপিং বিষয়ে কাজ করতে। আমার বিশ্বাস ছিল আমি আমার ভালোবাসার প্রতিদান পাবো। গেম ডেভেলপিং আমাকে আজ অনেককিছুই দিয়েছে।’ আসলেও তাই ঘটেছে তার জীবনে! গেম খেলার প্রতি তীব্র আগ্রহ থাকার ফলে তিনি ভিডিও গেমস ডিজাইনিংয়ের সাথে জড়িয়ে পরেন খুব সহজেই। ‘ক্লাউড’ গেমটির ডিজাইনার হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন। প্রথমে একটা এক্সপেরিমেন্টের অংশ ছিল এটি। সেই সময়কার অন্যান্য গেমের চেয়ে ভিন্ন ধাঁচের গেম ছিল ক্লাউড। তাই খুব সহজেই গেমিং জগতে জায়গা করে নিতে পেরেছে গেমটি। মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম মাসের মধ্যে ৪ লাখ ডাউনলোড করা হয় গেমটি। বলা যায়, তার জন্য এটি ছিল সফলতার সিঁড়ির প্রথম ধাপ। এরপর তিনি যোগ দেন ইলেক্ট্রনিক আর্টস কোম্পানিতে। এই গেম স্টুডিওর প্রথম দুটি গেমের ডিজাইনার তিনি। মূলত ‘ফ্লো’ ও ‘ফ্লাওয়ার’ নামের এ গেম দুটি দিয়েই যাত্রা শুরু করে কোম্পানিটি। প্রথম দুটি গেমই তাদের বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় তারা ‘জার্নি’ নামের নতুন গেম প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছে কোম্পানিটি। যথারীতি এই গেমটিরও ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন ক্রেইগ। ইতোমধ্যে গেমের বাজারেও তাদের কোম্পানি ইলেক্ট্রনিক আর্টস একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। আর এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের নেপথ্যের মানুষটি ক্রেইগ।