পানির চাহিদা মেটাতে চাপে ঢাকা ওয়াসা
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৩, ২১:০৪
জনবহুল ঢাকা শহরে নিরাপদ পানি সরবরাহ অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়ে যাওয়া নিরাপদ পানির চাহিদা মেটাতে চাপের সম্মুখীন হচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। উপরন্তু ঢাকা ওয়াসার পানির মূল্যের ওপর প্রচুর ভতুর্কি দিতে হয়। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ জনসাধারণকে পানি সরবরাহ করছে। মোট ভোক্তার ০.৬৪ শতাংশ নিম্নআয়ের মানুষকে সেবার পরিধির মধ্যে নিয়ে আসা ওয়াসার অন্যতম লক্ষ্য। ভতুর্কি হ্রাস ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঢাকাতে প্রোগ্রেসিভ পানি শুল্ক প্রবর্তনের সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। গতকাল নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘প্রোগ্রেসিভ ওয়াটার ট্যারিফ:প্রোটেনশিয়াল এন্ড চ্যালেঞ্জ ফর ঢাকা ওয়াসা’ শীর্ষক এক সংলাপে এই সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।
সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মো. শহিদ খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থপতি তাকসিন এ খান, সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এইচটি ইমাম বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের সাংবিধানিক অধিকার হলো জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সুবিধা পৌঁছানো। রাষ্ট্রের পক্ষে এ দায়িত্ব সরকার পালন করে। ওয়াসা, গ্যাস, বিদ্যুত্ নিয়ে সিটি কপোরেশন যাত্রা শুরু করে। আজও ঢাকাতে সব জায়গায় এই সুবিধাগুলো মানুষ পায় না। তবে ওয়াসা সুপেয় পানি সরবরাহে অনেক এগিয়েছে। অধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও সেবা নিশ্চিত এবং যত ব্যবহার তত ব্যয়ের ওপর জোর দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, অভিজাত এলাকার মানুষ বেশি পানি অপচয় করে তাই তাদের খরচ বেশি করতে হবে।
অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, নিরাপদ পানিতে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ধনীদের ব্যয় বাড়িয়ে দরিদ্রদের বিনামূল্যে নিরাপদ পানি সরবরাহের কথাও বলেন তিনি।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থপতি তাকসিন এ খান বলেন, গত চার বছরে ঢাকা ওয়াসা ১০ শতাংশের ওপর মিটার সংযোগে সক্ষমতা অর্জন করে,পানি সরবরাহ প্রণালীর ত্রুটি ১০ শতাংশের বেশি কমিয়ে আনে এবং রাজস্ব সংগ্রহ ২৯ শতাংশে উন্নীত করাসহ চালান ব্যয় ২৪ শতাংশ হ্রাস করে।