পেস অ্যাটাক নিয়ে যত সমস্যা

টস জয়; বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিক বললেন, ‘কতো রান করলে টি-টোয়েন্টিতে নিরাপদ থাকা যাবে সেটা কেউ বলতে পারবে না। তবে, আমরা তাদের ১৬০ রানের মধ্যে আটকে ফেলতে চাই।’ কিন্তু এর মধ্যে আটকাতে হলে তো শুরুতেই উইকেট দরকার। কিন্তু বাংলাদেশ দলে নতুন বলে উইকেট নেয়ার মতো বোলার কোথায়! অনেক সফলতার এক সফরের কাল ছিল শেষ ম্যাচ; সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি। আর এই ম্যাচেও গোটা সফরের মতো বাংলাদেশকে ভোগালো দলের পেস অ্যাটাক। সাথে যুক্ত হলো বাজে ফিল্ডিং। ওয়ানডে সিরিজে তিনটি ম্যাচেই দলে ছিলেন জিয়াউর রহমান। তাকে বসিয়ে রেখে খেলানো হল শাহাদাত হোসেন ও রুবেল হোসেনকে। টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও ব্যর্থ হলেন এই পেসার। তার হাফ ভলি বল তুলে মারতে খুব বেশি বেগ পেতে হল না কুশাল পেরেরাকে। ওভারের শেষ বলটি হয়তো বাউন্ডারি ছাড়া হতো না; কিন্তু নাসিরের ফিল্ডিং মিসে প্রথম ওভারে রান আসলো ১৪। ওয়ানডে সিরিজে দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে ওভার প্রতি পাঁচ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছিলেন জিয়া। এর পরেও দলে নেই তিনি। তার জায়গায় আসলেন রুবেল। খরুচে বোলিংয়ের ক্ষেত্রে তিনিও খুব বেশি পিছিয়ে ছিলেন না। প্রথম দুই ওভারে রান দিলেন ২০। মাশরাফি বিন মুর্তোজার অভাব ভাল ভাবেই টের পেল বাংলাদেশ। মাঝে স্পিনাররা চেষ্টা করেছিলেন রানের ধারায় বাঁধ দিতে। আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজি, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ প্রত্যেকে একটি করে উইকেটও পেয়েছিলেন। কিন্তু এর পরেও প্রায় দুশ ছুঁই ছুঁই স্কোর গড়লো স্বাগতিক শ্রীলংকা। ১৭ তম ওভারে ২০ রান দেন আগের ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিয়ে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট নেয়ার কৃর্তী গড়া রাজ্জাক। বাংলাদেশি বোলারদের ভালোই ভুগিয়েছেন লংকান ব্যাটসম্যান কুশাল পেরেরা। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বলে আউট হওয়ার আগে ৪৪ বলে ৬৪ রান করেন এই ওপেনার। দলের স্কোর তখন ১০০। ইনিংসের বাকিটা সময় লংকানদের পথ দেখান ওয়ানডে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (২৭ বলে অপরাজিত ৩০) ও থিসারা পেরেরা (৭ বলে অপরাজিত ২২)। তাদের তোপটা সবচেয়ে বেশি সহ্য করতে হয় দলের দুই পেসারকেই। ৪ ওভারে শাহাদাত দিয়েছেন ৫৪ রান। আর রুবেল দিলেন ৪ ওভারে এক উইকেট নিয়ে ৪০। ১৭ থেকে ১৯ এই তিন ওভারে আসলো ৫৬ রান! ম্যাথিউস অবশ্য এর আগেই আউট হয়ে যেতে পারতেন। হলেন না সোহাগ গাজির বলে ক্যাচ তুলে দিয়েও সেই যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। এখানেও ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হচ্ছে নাসিরকেই। শেষ পর্যন্ত শ্রীলংকা গড়লো পাঁচ উইকেটে ১৯৮ রান। টস হারের পর অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালের আশা ছিল ১৫০-১৬০ রান করা। তিনি হয়তো পেস আক্রমণে বাংলাদেশের দুর্বলতার কথা আমলেই নেননি!