হেলথ টিপস

রোদ থেকে অসুখ

প্রচণ্ড গরমে ঘামের সঙ্গে শরীরের লবণ-পানি বেরিয়ে যায়। এ জন্য ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ কারণে রক্তের চাপ কমে যায়, প্রশ্রাব কমে যায়, শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অর্থাত্ শরীরে দেখা দেয় নানা সমস্যা। ডিহাইড্রেশন বা পানিস্বল্পতা দূর করতে হরতকি, আমলকী ও বহেরা অর্থাত্ ত্রিফলা ভেজানো পানি খুব উপকারী। ভ্যাপসা গরম, জীবনযাত্রায় আমরা যেন ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন গরম বা হিটজনিত নানা অসুখে। ছোট থেকে বৃদ্ধ কেউ রেহাই পাচ্ছে না। ঘাম থেকে ঘামাচি, ডিহাইড্রেশন থেকে ইলেক্ট্রোলাইটস ইমব্যালান্স বা দেহে লবণের ঘাটতি এমনকি কিডনি বিকল হওয়া, দূষিত পানি থেকে ডায়রিয়া, টাইফয়েড এবং নানা ধরনের চুলকানি এ সময়ের প্রধান সমস্যা। তবুও সুস্থ থাকা চাই জীবনের প্রয়োজনে। ওষুধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি কিছু ভেষজ এ সময় আমাদের উপকারে আসতে পারে। অবসাদগ্রস্ততা দূর করতে লবণ ও পানির শরবত বা স্যালাইন উপকারী। এখন যারা শুধু গরমে কাজ করেন তারাই নয়, সবারই স্যালাইন খাওয়া ভালো। এ ছাড়া অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত বাসি খাবার খাওয়া এখন পরিহার করতে হবে। শরীর ঠাণ্ডা রাখার জন্য করলা, উচ্ছে, নিমপাতা ভাজা, পাট শাক খাওয়া যায়। ভ্যাপসা এ আবহাওয়ায় হাত-পা ও চোখ জ্বালাপোড়া করা কিংবা মাথায় গরম ভাপ হওয়া বিচিত্র নয়। এ থেকে মুক্তির জন্য কালোমেঘ, পটল পাতা ও ধনে ভেজানো পানি নিয়ম অনুযায়ী চিকিত্সকের পরামর্শে পান করতে হবে। তীব্র গরম থেকে সর্দি-কাশি কিংবা গলা বসে যেতে পারে। এ থেকে মুক্তির সহজ উপায় কাঁচা পেঁয়াজ আগুনে পুড়িয়ে বা কাঁচা আম খেলে এ থেকে পরিত্রাণ মেলে। ভিটামিন ‘সি’ অর্থাত্ টক ফল নিয়মিত খেলে এ সমস্যার সমাধান হয়। খাদ্যের বিপাকজনিত অসুবিধা থেকে মুক্তির জন্য হেলেঞ্চা, গিমা, কলমি, পাট শাক থেকে পিত্তের সমস্যা কমে যায়। দেহকে আরাম দিতে ঝিঙ্গা, পটল, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, ছোট মাছের তরকারি বা পাতলা ঝোল খাওয়া যায়। আমাদের ত্বকে রয়েছে মেলানিন। এর কাজ হচ্ছে ত্বকের রং সৃষ্টি করা। যখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ওপর সরাসরি পরে তখন মেলানিন অধিক রং সৃষ্টি করে। ফলে ত্বকের ওপর এক প্রকার আস্তরণ সৃষ্টি হয়। ফলে মুখের আবৃত অংশের চেয়ে অনাবৃত অংশগুলোকে বেশি কালো দেখায়। যাকে আমরা সানবার্ন বা রোদে পোড়া বলি। রোদে পোড়া ভাবকে দূর করতে ত্বকের বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন। বিভিন্ন রকম ফেসিয়ালের সাহায্যে এই সানবার্ন রিমুভ করা সম্ভব। এ ছাড়া এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই সানব্লক বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। সানস্ক্রিনের ব্যবহারের কিছু নিয়ম আছে। ত্বকের রং, পোড়া ভাবের বা কালো দাগের গভীরতা বুঝে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হয়। তৈলাক্ত বা শুষ্ক ত্বকের জন্য আলাদা সানব্লক রয়েছে। উপরের এই সমস্যাগুলোর সমাধানে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে রোদ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। মডেল পিয়া