শিশুর যত্ন

সন্তানের সৃজনশীলতা বাড়াতে

বাচ্চাদের সৃজনশীলতা নিয়ে অনেক মা-বাবাই থাকেন বিব্রত। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে বাচ্চাদের কাজ কিংবা তাদের কথার মধ্যেই থাকে সৃজনশীলতার আভাস। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বাচ্চাদের এইভাবে নিজেকে প্রকাশ করার ব্যাপারটিই হলো ক্রিয়েটিভিটি। আর সন্তান প্রথমে বাবা-মায়ের কাছ থেকেই শেখে। তাদের সঠিক পরিচর্চার মাধ্যমে সন্তান হয়ে উঠতে পারে সৃজনশীল। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মা-বাবাই সন্তানের সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেন না। তারা বাচ্চার পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। এতে শিশুদের সৃজনশীলতা শৈশবেই হারিয়ে যায়। পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানের সৃজনশীলতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অনেকেই ভাবেন, আমার সন্তানের সৃজনশীলতা নেই। সে কার্টুন দেখা আর দুষ্টুমি করতেই পছন্দ করে। এ ক্ষেত্রে মা-বাবা চাইলেই শিশুকে সৃজনশীল কোনো বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে পারেন। সব শিশুরই একটা না একটা ভালো লাগার জায়গা থাকে। মা-বাবার দায়িত্ব সেই জায়গাটা খুঁজে বের করা। আপনার সন্তানের পছন্দ জেনেই তার সৃজনশীলতা গড়ে তুলুন। পড়াশোনার বাইরেও যে শিশুদের অনেক কিছু করার আছে তা মা-বাবাকে বুঝতে হবে। শিশু যে বিষয়ে আগ্রহী সে বিষয়ে তাকে উত্সাহিত করুন। সম্ভব হলে তার সঙ্গে নিজেও যুক্ত হন। শিশু গান ভালোবাসলে তার সঙ্গে নিজেও গান করুন। তাকে ভালো গানের স্কুলে ভর্তি করে দিন। আবার ছবি আঁকতে ভালোবাসলে তার সঙ্গে বসে পড়ুন ছবি আঁকতে। সম্ভব না হলে অন্তত তার পাশে থেকে তাকে উত্সাহ দিন, অনুপ্রাণিত করুন। কখনোই সন্তানের ওপর খুব বেশি চাপ তৈরি করবেন না। কিংবা নিজের পছন্দ সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। ওর কাছে সেটা বাড়তি বোঝার মতো মনে হবে। জোর করে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বা সেখানে ভালো একটা ফল না পেলে বকাঝকা করা একেবারেই ঠিক নয়। সৃজনশীলতা সম্পূর্ণই শিশুর নিজের বিষয়। এখানে কোনো বাধ্যবাধকতার জায়গা নেই। কোনো সমস্যার কথা সন্তানকে বলুন, জানতে চান কীভাবে সেটার সমাধান পাওয়া যাবে। দুটো বিষয় তাদের বোঝান, কোনো সমস্যাই এমন বড় হতে পারে না যা থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব হয়। শুধু সমস্যাগুলোকে মোকাবেলা করার পন্থা বদলাতে হয়। দ্বিতীয়ত, ‘ফেলিওর’ এমন একটা টার্ম যার সাথে মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু কিছু পরিস্থিতি মানুষকে হতাশার মাঝে নিয়ে আসে। তবে সেই পরিস্থিতি বুদ্ধিমত্তার সাথে মোকাবেলা করা সম্ভব। সর্তকতা সৃজনশীলতা যেন পড়াশোনার ক্ষতি না করে তা মা-বাবাকেই লক্ষ রাখতে হবে। পড়াশোনার বাইরে কিছুটা সময় শিশুকে আলাদা করে দিন। তবে বাধ্যবাধকতা নয়। সেই সাথে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে শিশুর সৃজনশীলতাকে আটকে রাখা ঠিক নয়। সে যা যা করতে ভালোবাসে তা-ই করতে তাকে উত্সাহ দিন। মডেল অরণী ছবি দীপঙ্কর দীপু