ফ্যাশন
গরমে আরামের বসন
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৩২
গ্রীষ্মের তাপের সঙ্গে ভাব জমিয়েছে বৈশাখী হাওয়া। প্রচণ্ড গরমের আঁচ এসে আছড়ে পড়ছে শরীরে। গ্রীষ্মের এই দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে সময়োপযোগী আরামদায়ক পোশাক বেছে নিচ্ছে সবাই। কেমন হতে পারে এই সময়োপযোগী আধুনিক আরামদায়ক পোশাক? এ ক্ষেত্রে সুতি কাপড়ের তুলনা হয় না। সুতি কাপড়ের তৈরি পোশাক শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং এ সময়ের জন্য মানানসই। সুতি পোশাক সহজে ঘাম শুষে নেয়। তা ছাড়া প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি বলে মসৃণও হয়। কৃত্রিম তন্তুর তৈরি কাপড়ের পোশাক এ সময় একেবারেই বাদ দেওয়া ভালো। কারণ গরমের সময় এ কাপড় পরলে ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। তা ছাড়া এ কাপড় ঘাম শুষে নিতে পারে না, ফলে পোশাকটা শরীরে চিটচিটেভাবে লেগে থাকে; যা অস্বস্তি সৃষ্টির পাশাপাশি দৃষ্টিকটুও। গরমের সময় ব্যবহারের জন্য সুতি কাপড়ই সেরা।
আমাদের চোখের শান্তি বলে একটি কথা আছে। যে পোশাকটা দেখতে ভালো লাগে, সেটা পরেও আরাম। তাই এ সময়ের পোশাকের রং হবে হালকা যেমন—হালকা নীল, সাদা, গোলাপি, লেবু রং, হালকা বেগুনি, আকাশি। সুতি, ভয়েল ও সুতি অ্যান্ডি কাপড়ের ওপর ছাপা ও হালকা কারুকাজ করেছেন এবার। নরসিংদীর তাঁতের তৈরি পোশাকগুলো খুব আরামদায়ক হবে।
পোশাকের কাটছাঁটে হালফ্যাশন
গরমের পোশাকের ধরনেও এসেছে নানা বৈচিত্র্য। তরুণীরা পছন্দ করছে ছোট হাতার লম্বা ফতুয়া, হাতাকাটা কামিজ বা ছোট হাতার শার্ট। সালোয়ারের ক্ষেত্রে ধুতি ও প্যান্ট-ধাঁচের সালোয়ারটা বেশ পছন্দ করছে সবাই। সুতির ছাপা কামিজও খুব চলছে এ সময়।
গরমে পরার শাড়ির ক্ষেত্রেও সুতির ছাপা শাড়ি, ব্লক, অ্যাপ্লিকের শাড়ি বেশ চলছে। ব্লাউজের গলাটা পেছনদিকে বড় ও ম্যাগি হাতা হলে বেশ আরাম পাওয়া যাবে। ফতুয়া, কামিজ, ব্লাউজ—সবকিছুর ক্ষেত্রেই উঁচু গলা এই সময়ে তেমন দেখা যাচ্ছে না। বরং চারকোণা, পানপাতা ও ভি-আকৃতির গলা চলছে। পোশাকে হাতাকাটা, ছোট হাতার ম্যাগির সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে ঘটি হাতা। ব্লকের কাপড়ের সঙ্গে বাটিক বেশ আরামদায়ক। তাই বাটিকের কাপড় বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ছাড়া পোশাকে এক রঙের কাপড়ে চিকন লেইসের ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। শুধু প্রতিদিনের ব্যবহারে সুতি পোশাক নয়, এখন বিভিন্ন উত্সবে ও অনুষ্ঠানে সুতির রাজত্ব চলছে। সে ক্ষেত্রে একটু হালকা কারুকাজটা পছন্দ করছেন অনেকেই। তা ছাড়া সুতি অ্যান্ডি কাপড়ের তৈরি পোশাকে বেশ অভিজাত দেখায়। জমকালো অনুষ্ঠান উপলক্ষেও পরা যায়।
পোশাকের সঙ্গে অনুষঙ্গ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মায়া রহমান। তিনি এ সময় পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা চটি পরার পরামর্শ দেন। হাতে কাঠের বালা বা সুতোর চুড়ি পরতে পারেন। কানে পরতে পারেন পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে ছোট দুল। গরমে ধাতুর তৈরি গয়না না পরাই ভালো। এর বিকল্প হিসেবে পরতে পারেন প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি দুল, চুড়ি বা বড় মালা।
ব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ঝোলা ধরনের ব্যাগ। তার ভেতরে রাখতে পারেন একটি রোদ-চশমাও।
মডেল অদ্রি