ডায়েট

বয়স্কদের উপযোগী ডায়েট

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক কর্মক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। সাধারণ সুস্থ, সুন্দর জীবন যাপনের জন্য এই সময়ে খাওয়া-দাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। এতে করে শারীরিক জটিলতাগুলো খুব সহজে এড়ানো যায় এবং সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা যায়। একটু যত্নশীল হলে বয়সজনিত যেসব সমস্যা হয় সেগুলো অনেক আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। খাবারের তালিকাতে যা যা রাখতে পারেন কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম এবং যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার রয়েছে এমন খাবার, যেমন—গম, লাল চাল বয়স্কদের জন্য খুবই ভালো। এগুলো খেলে পেট ভালো থাকে। ফল ও সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এগুলোর অভাব পূরণ করা খুবই জরুরি। ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’-সমৃদ্ধ সবজি—গাজর, মিষ্টি আলু, টমেটো, পালংশাক, ছোলার বীজ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রতিদিন খাবারের তালিকাতে রাখুন এবং খান। হাড়ের সুস্থতা বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে। ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার, যেমন—তিল, ডুমুর, ছানা, টক দই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। সকালে খালি পেটে একটা আমন্ড খাওয়া যেতে পারে। ফ্যাটজাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে না খাওয়াই ভালো। অলিভ অয়েল, সরষের তেলে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরের পক্ষে খুবই ভালো। আখরোট, তৈলাক্ত মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাট অ্যাসিড রয়েছে, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বাদামজাতীয় খাবার, যেমন—পেস্তা, আমন্ড, আখরোট হার্টের জন্য খুবই ভালো। ড্রাই ফ্রুটসের মধ্যে ডুমুর, খেজুর, কাজুবাদাম মাঝেমধ্যে খাওয়া যেতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে নানা কারণে অনেকের অ্যানিমিয়ার সমস্যা দেখা যায়। ড্রাই ফ্রুটস সেই সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ‘সি’-সমৃদ্ধ খাবার ডায়েটে রাখা খুবই জরুরি। কারণ, ভিটামিন ‘সি’ আয়রন অ্যাবজর্ব করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে হাঁটা শরীরের জন্য খুবই ভালো। কারণ, প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ মিনিটি রোদের সংস্পর্শে থাকা খুবই দরকার। যা ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করার জন্য খুব ভালো কাজ করে। বয়স্করা একসঙ্গে অনেক বেশি খাবার খেতে পারে না। কিন্তু এ জন্য যেন খাওয়াদাওয়ার প্রয়োজনীয় পুষ্টির কোনো ঘাটতি না হয় সেদিকে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। বয়স্কদের জন্য রান্না ছোলার বীজ, সিদ্ধ ছোলা দিয়ে মুড়ি। সবজি, চিকেন দিয়ে তৈরি ব্রাউন ব্রেড স্যান্ডউইচ। ছাতু দিয়ে তৈরি হাত রুটি বা ছাতুর শরবত। আপেল, শসা ও টক দই দিয়ে তৈরি রায়তা। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে ভুলবেন না।