বোলারদের দুষলেন মুশফিক
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩০
পেসাররা যদি স্পিনারদের সহায়তা করতে পারতো, তবে সিরিজটি আমাদের অন্যরকম হতে পারতো। বিশেষ করে টেস্ট সিরিজটি। পেসারদের আমরা অনেক সুযোগ দিয়েছে কিন্তু সে অনুযায়ী তারা আমাদের কোন ফল এনে দিতে পারেনি।
বোলারদের উপরই ক্ষোভ ঝাড়লেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বোলিংয়ের কারণেই শ্রীলংকা পেয়েছে ১৯৮ রান। স্কোরবোর্ডে যখন প্রায় দুশো রানের চ্যালেঞ্জ চলে আসে, সেখান থেকে ম্যাচ বের করাটাই যে কোন দলের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে সেই কঠিন কাজটি করতে গিয়ে ১৭ রানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আর এর জন্য অধিনায়ক সব দায়ভার চাপালেন বোলারদের উপরই।
আজ দুপুরে একমাসের সফর শেষে দেশে ফিরে আসছে বাংলাদেশ। সফরের শেষ ম্যাচের পর অধিনায়ক পুরো সিরিজের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বারবার বোলারদের উপরই দোষ চাপিয়েছেন, ‘বোলারদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এখন তারা যে ধরনের অনুশীলন করছে, এটা যথেষ্ট নয়। আমি তাদের বিরুদ্ধে বলছি না, কিন্তু এই ম্যাচ হারার পেছনে টিম ম্যানেজম্যান্টও তাদের উপর দোষ চাপাবে’।
মুশফিকের ক্ষোভের কারণও আছে। শ্রীলংকার ১৯৮ রানের মধ্যে অতিরিক্ত থেকে এসেছে ২৬ রান! টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি অবশ্য বেমানান। পেসার শাহাদাত হোসেন রাজিবকে দিয়ে শুরু, ইনিংসের প্রথম ওভারে তিনি দিয়েছেন ১৪ রান। নিজের করা চতুর্থ ও শেষ ওভারে দিয়েছেন ২৪টি রান। চার ওভারে তিনি শ্রীলংকাকে দিয়েছেন ৫৬ রান। কম দেননি রুবেল হোসেনও। চার ওভারে তার থেকে প্রতিপক্ষ পেয়েছে ৪০টি রান। গত রবিবার রাতে বোলাররাই ম্যাচটি কঠিন করে দিয়েছিলেন। তাই ম্যাচ শেষে মুশফিক শুধু একজন নয়, ম্যাচ হারার জন্য সবার উপর দোষ চাপালেন, ‘আমি শুধু একজনকে দায়ি করতে চাই না। পেসাররা যদি স্পিনারদের সহায়তা করতে পারতো, তবে সিরিজটি আমাদের অন্যরকম হতে পারতো। বিশেষ করে টেস্ট সিরিজটি। পেসারদের আমরা অনেক সুযোগ দিয়েছে কিন্তু সে অনুযায়ী তারা আমাদের কোন ফল এনে দিতে পারেনি। সামনে আমাদের জিম্বাবুয়ে সফর রয়েছে। সেখানে কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই। আমাদের জন্য এটি একটি বড় সিরিজ, তাই সিদ্ধান্তও দ্রুত নিতে হবে’।
মাশরাফি বিন মুর্তজার ইনজুরির কারণে গত ১৮ মাস ধরে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। অভাবটা বড় হয়ে উঠছে যখন মাশরাফি ইনজুরিতে পড়ছেন। মাশরাফির পাশাপাশি শফিউল ইসলাম ও নাজমুল হাসানও ইনজুরিতে পড়েছেন এই সিরিজে। তাই শাহাদাত, রুবেল এবং রবিউল ইসলামদের দিয়ে বাংলাদেশকে পেস আক্রমণ সাজাতে হয়েছে। ভালোমানের পেসার উঠে আসছে না বিধায় এই বিভাগটি এখন মুশফিকের মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ‘টি-টোয়েন্টির জন্য আমাদের মূল বোলার প্রয়োজন। অন্যদের পাশাপাশি আবুল হাসানও ইনজুরিতে। তাই আমাদের কোন বিকল্প কিছু ছিল না। জিয়াউর রহমানকে নিয়েছিলাম, কিন্তু সে প্রথম ম্যাচে ভালো করার পর তৃতীয় ম্যাচে বল ও ব্যাটে ভালো করতে পারেননি’।
বোলারদের বাজে বোলিং ছাড়া পাল্লেকেলে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ চমত্কার ক্রিকেট খেলেছে। স্কোরবোর্ডে ১৯৮ রান উঠলে যে কোন দলের জন্য জয় পাওয়াটা চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে। মুশফিকদের বেলায়ও সেরকম ঘটেছে। তবুও ম্যাচ শেষে পরাজয়ের ব্যবধান কম হওয়ায় এই ম্যাচ থেকেও প্রাপ্তি যোগ করতে পারছে বাংলাদেশ। টেস্টে এক ইনিংসে ৬৩৮ রান তুলে টেস্ট ড্র করা। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচ হওয়া সত্ত্বেও তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র করা। আর সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে সমান তালে লড়াই করা- এক মাসের শ্রীলংকা সফরে এসব প্রাপ্তি মুশফিকদের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে যা আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরে কাজে দিবে। অধিনায়ক মুশফিকও মনে করেন, জিম্বাবুয়ে সফরটি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের হবে। কারণ, সেখানে তারা থাকবে ফেবারিট হিসেবে।
শ্রীলংকা সফরে দলগত পারফরম্যান্সে বাদেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে প্রাপ্তির খাতায় যোগ হবে অনেক অর্জন। মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি, মোহাম্মদ আশরাফুলের ১৯০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস, তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি, আর নাসির হোসেনের ফাইটিং স্কোর- এ সব অর্জন নিয়ে আজ বাংলাদেশ ঢাকায় ফিরবে।