স্বা ধী ন তা কা প ফু ট ব ল
জামাল রাসেলের
শিরোপা লড়াই আজ
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩১
এদেশের ফুটবলের স্বর্ণযুগের মতো এখন আর কোন টুর্নামেন্টের ফাইনাল মানেই আবাহনী-মোহামেডানের লড়াই নয়। তাই সমর্থকদের আগ্রহেও ভাটা পড়েছে। সমর্থক না থাকায় উত্তেজনার পারদও আগের মতো নেই। তাছাড়া সামপ্রতিক সময়ে শক্তির বিচারেও বেশ পিছিয়ে পড়েছে এক সময়ের মাঠ কাঁপানো এবং দর্শকধন্য দল দুটি। এবারের স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের ফাইনালই তার প্রমাণ। ফেডারেশন কাপের মতো মোহামেডান ও আবাহনীকে পেছনে ফেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র মুখোমুখি। সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে খেলাটি।
শেখ জামাল ও শেখ রাসেল সমর্থকপুষ্ট দল না হলেও দুই শিবিরে রয়েছে ভালো খেলা উপহার দেয়ার মতো তারকা। সমঝদার ফুটবল দর্শকদের যারা মাতিয়ে তুলতে পারেন। অক্টোবরে ফেডারেশন কাপ ফুটবল ফাইনাল খেলেছিল শেখ রাসেল ও শেখ জামাল। অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে পিছিয়ে থেকেও ২-১ গোলে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শেখ রাসেল। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল দেখেছেন ফুটবল দর্শকরা। আজ আবার সেই দুই দলের কুশীলবরা ফাইনালের মঞ্চে। এ কারণে কোনো পার্থক্য দেখছেন না শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হক। শুধু দিন তারিখটাই পার্থক্য-বললেন মারুফ। সাথে যোগ করলেন সেমিফাইনালের আগের কথাটি, ‘দিন শেষে আমরাই জিতব।’
তার এতোটা আত্মবিশ্বাস কী কারণে, এমন প্রশ্নের জবাবে মারুফ জানালেন তার খেলোয়াড়দের কথা, ‘দলের ছেলেদের শরীরি ভাষা, টেকনিক, টেকনিক্যাল দিক এবং পারফরম্যান্স আমাকে বিশ্বাস এনে দিয়েছে। তারপরও অনেক সময় সব দিন ভালো যায় না। কিন্তু আমি আশাবাদী। কারণ আমার দলের রয়েছে পাসিং এবং প্রেসিং ফুটবল।’ কোচ মারুফ চাইছেন ৯০ মিনিটের খেলায় রেজাল্ট বের করে আনতে। অতিরিক্ত সময় খেলা গড়ালে তাদের জন্য ভালো হবে না। কারণ? ‘পাঁচ দিনে তিন ম্যাচ খেলেছে আমার দল। ক্লান্তির ব্যাপার আছে’-বললেন মারুফ।
শেখ রাসেলের রয়েছে জাতীয় দলের আধ ডজন ফুটবলার। এদের মধ্যে যে কেউ চোখের পলকে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। মাঝ মাঠে মামুনুল ইসলাম সেমিফাইনালে আবাহনীর বিরুদ্ধে কর্নার থেকে গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন। সেমিফাইনালে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হাইতির সনি নর্দে দারুণ গোল করে ফাইনালের টিকিট এনে দিয়েছেন। এরাই শেখ জামালের নাইজেরিয়ান কোচ যোশেফ আফুসির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠবেন। এ কথা শুনে আফুসি এক চিলিক হাসি ছড়ালেন। এই মানুষটি যে কোনো পরিস্থিতিতে সব সময় হেসেই কথা বলেন। কালও তাই করলেন। তবে প্রতিপক্ষের যারা মাথা ব্যথার কারণ, তাদেরকে থামিয়ে দিতে গোপন কৌশলের কথা প্রকাশ করেননি আফুসি। বললেন ‘আপনি মাঠে আসুন, সেখানে দেখবেন।’ শেখ রাসেলের আক্রমণে শক্তিশালী খেলোয়াড় আছে। তেমনি জামালেরও আছে। নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার আলফ্রেড এরই মধ্যে নিজের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, হ্যাটট্রিক করেছেন। গোল করা অসাধারণ ক্ষমতা আছে এই ফুটবলারের। সাথে আছেন আরেক নাইজেরিয়ান সানডে।
ভালো খেলা হলে ম্যাচ জিতবে শেখ জামাল, জানালেন ক্লাবের সভাপতি মঞ্জুর কাদের। ভালো খেলার জন্য তিনি চাইলেন ভালো রেফারি। কারণ ফেডারেশন কাপের ফাইনালে রেফারির কারণেই নাকি হেরেছে তার দল।
শেখ রাসেলের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীও পাল্টা জবাবে স্মরণ করিয়ে দিলেন পেশাদার লিগে শেখ জামাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রেফারির কল্যাণে। ‘জামালের খেলোয়াড়দের চাপে রেফারি তৈবি হাসান বাবু পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। এটাও ইতিহাস হয়ে আছে।’ রেফারি প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আজকের ফাইনালে কোনো সহযোগিতা আমাদের কাম্য নয়। আমরা কারো আশির্বাদ চাই না। যোগ্যতা নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’
ফাইনালের মঞ্চে নাই বা থাকুক মোহামেডান আবাহনী। তবুও এটি ফাইনাল। শিরোপার জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তার উপর বঙ্গবন্ধুর পরিবারের দুই পুত্রের নামে গড়া দল মাঠে মুখোমুখি হবে। বাড়তি উত্তেজনা তো থাকবেই। যে দলই শিরোপা জয় করুক, নামের দিক থেকে ঘর একটাই। তারপরও ফুটবল অনুরাগীদের চাওয়া মাঠে ফাইনাল হোক ফাইনালের মতো।