স্মার্টঘড়িতে সরগরম প্রযুক্তি বিশ্ব
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৬
হাতঘড়ি আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি যন্ত্রই বটে। সময় দেখার জন্য হাতঘড়ির ব্যবহার শতবর্ষের পুরোনো। একটা সময়ে এসে ফ্যাশনেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত এই হাতঘড়ি। তবে আধুনিক এই সময়ে এসে হাতঘড়ি যেন সম্পূর্ণ নতুন জীবন পেয়েছে। সব ক্ষেত্রে যেমন লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া, হাতঘড়িও বাদ পড়েনি সেই তালিকা থেকে। স্মার্ট এই যুগে এসে হাতঘড়িও পরিণত হয়েছে স্মার্টঘড়িতে। গত কয়েকমাসে টেক জায়ান্ট অ্যাপল’র ঘড়ি নিয়ে চলছে প্রযুক্তি বিশ্বে তুমুল আলোচনা। পরে জানা গেল, অ্যাপল’র চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংও আনছে এমনই স্মার্টঘড়ি। সর্বশেষ খবর, আরেক টেক জায়ান্ট গুগলও বসে নেই, স্মার্টঘড়ি তৈরিতে চলছে তাদের প্রজেক্ট। জানুয়ারির কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক শো-তেও হাজির ছিল এরকম কয়েকটি স্মার্টওয়াচ। এর কয়েকটির কথা তুলে ধরা হলো এখানে।
কোকো ওয়াচ
খুব মৌলিক ধরনের একটি স্মার্ট হাতঘড়ি কোকো ওয়াচ। এটি দেখতেও অনেকটাই সাধারণ হাতঘড়ির মতোই। আর এর ভেতরেও রয়েছে একটি সাধারণ হাতঘড়ি। সময় দেখা ছাড়া একে সংযুক্ত করা যাবে আইফোন কিংবা আইপ্যাডের সাথে। সিনক্রোনাইজ হয়ে গেলে এসব ডিভাইসের আপডেট পর্যবেক্ষণ করা যাবে ঘড়ি থেকেই। ফেসবুকও চেক করা যাবে এর মাধ্যমে। এর অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণও খুব দ্রুতই বাজারে আসবে বলে জানিয়েছে নির্মাতারা। আর এই ঘড়িটি ওয়াটারপ্রুফও বটে।
আই’ম ওয়াচ
ডিজাইনের দিক থেকে আই’ম ওয়াচকে পছন্দ করেছেন প্রযুক্তি পণ্যের সমালোচকরা। টাচস্ক্রিনের এই স্মার্টঘড়ি আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সাথে সংযুক্ত হতে সক্ষম। আর এসব ফোনের কল বা টেক্সট রিসিভ করা, ইমেইল পাঠানো, ফেসবুক চেক করাসহ নানা ধরনের কাজ করা যায় এর মাধ্যমে। এতে বিল্ট-ইন অ্যাপ্লিকেশন আছে বেশ কিছু। মূলত এটি আপনার স্মার্টফোনের এক্সটেনশন হিসেবেই কাজ করবে। ১.৫৫” ডিসপ্লে’র এই স্মার্টঘড়িতে রয়েছে ৪ জিবি বিল্ট-ইন স্টোরেজ।
মারশিয়ান
হ্যান্ডস ফ্রি ভয়েস কমিউনিকেশন যুক্ত করায় মারশিয়ান স্মার্টঘড়ি মূলত ভবিষ্যত প্রজন্মের স্মার্টঘড়ি—এমনটাই দাবী এর নির্মাতাদের। এর মাধ্যমেই ফোন করা, ফোন গ্রহণ করা কিংবা টেক্সট করা ও গ্রহণ করার কাজ করা যায় অনায়াসেই। ব্লুটুথের মাধ্যমেই একে অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইফোনের সাথে সংযুক্ত করা যাবে। আর ভয়েস অ্যাপ্লিকেশনগুলোও ব্যবহার করা যাবে এই ঘড়িতে। এর চেহারাটা অবশ্য প্রচলিত ঘড়ির মতোই। তবে মারশিয়ান ঘড়ির স্ক্রিনে নিচের দিকে রয়েছে ডিসপ্লে।
বেসিস সায়েন্স
স্মার্ট হাতঘড়িতে আরেক সংযোজনের নাম বেসিস সায়েন্স। তবে এটি একদিক থেকে ব্যতিক্রমও বটে। এর মূল কাজটা হচ্ছে শরীরের দেখাশোনা করা। ফিটবিট বা নাইকি ফুয়েল ব্যান্ডের মতোই এতে রয়েছে বিশেষ সেন্সর, যার মাধ্যমে হূদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, ঘুমের প্যাটার্ন প্রভৃতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। শুধু তাই নয়, শরীর সুস্থ রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিশ্রম আপনি করেন কি না, সেটিও হিসাব রাখতে পারে এই বেসিস সায়েন্স নামের স্মার্ট হাতঘড়ি।
পেবল
স্মার্ট হাতঘড়ির আলোচনায় অলরাউন্ডার বলা যায় পেবল নামের স্মার্টঘড়িটিকে। ফিটনেস অ্যাপ্লিকেশন থেকে শুরু করে ফেসবুক—সবই ব্যবহার করা যায় পেবলে। বিল্ট-ইন হিসেবেই এতে রয়েছে ইনকামিং কলার আইডি, ইমেইল, এসএমএস, ফেসবুক, টুইটার, ক্যালেন্ডার, ওয়েদার, ভাইব্রেটিং অ্যালার্ট প্রভৃতি। রানিং বা সাইক্লিং এবং স্মার্টফোনের গান নিয়ন্ত্রণও করা যায় এর মাধ্যমেই। ডিজাইনেও এতে রয়েছে প্রচুর বৈচিত্র্য।