পরিবর্তন চায় না পিসিবি

সামপ্রতিক সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বলার মতো কোন পারফরম্যান্স নেই। এর পরেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কোন উত্তেজনা সৃষ্টি করবে না। তাছাড়া অধিনায়ক মিসবাহ উল হক ও কোচ ডেভ হোয়াটমোরকে সরিয়ে দেয়ার কোন পরিকল্পনাও বোর্ডের নেই বলে জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ। একটি বার্তা সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে আশরাফ জানান, তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব আনতে চেয়েছেন। এক অথবা দু’টো সিরিজে দল খারাপ করলেই খুব বাজেভাবে সৃষ্টির পক্ষপাতি নন তিনি, ‘মিসবাহর নেতৃত্ব অথবা হোয়াটমোরের বিষয়ে আমি কোন হুমকি দেখছি না। গত এক বছর দল নিয়ে তারা ভাল করেছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মূল্যায়ন করার আগে আমাদের যে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।’ টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশ হলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করে তারা। এছাড়া তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ওয়ানডে সিরিজে ৩-২ ম্যাচে পরাজিত হয় উপমহাদেশের দলটি। সমালোচক ও সাবেকরা পরিবর্তন আনার জন্য উচ্চকণ্ঠ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় দলকে উজ্জীবিত রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় মিসবাহ ও হোয়াটমোর চাপের মধ্যে আছেন। ধীরগতির ব্যাটিং ও অধিনায়কত্বের জন্য মিসবাহ বিশেষভাবে সমালোচিত হচ্ছেন। আশরাফ বলেন, টেস্ট সিরিজে পরাজিত হওয়াটা হতাশাজনক। তবে তিনি দলকে স্থায়িত্ব ও আত্মবিশ্বাস দিতে চান, ‘আমাদের সঙ্গে হোয়াটমোরের দু’বছরের চুক্তি আছে এবং যথাসময়ে আমরা তার পারফরম্যান্স পুনর্মূলায়ন করবো। একইভাবে মিসবাহ ওয়ানডে সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে উদহারণ সৃষ্টি করেছে।’ অতীতে শুরুতেই পাকিস্তান ক্রিকেটে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হতো বলে উল্লে¬খ করেন তিনি, ‘এখনকার দিনে ক্রিকেট একটা বিজ্ঞানের মত এবং দল ও ম্যানেজমেন্টকে আমাদের আত্মবিশ্বাস দিতে হবে। আমরা তাদের জন্য সর্বোচ্চ পরিবেশ ও সুবিধাদি দিতে চেষ্টা করবো। তারপরই আমরা তাদের কাছ থেকে সেরকম পারফরমেন্স প্রত্যাশা করতে পারি।’ অতিদ্রুত দলে একজন স্থায়ী ব্যাটিং কোচ দরকার বলে অনুধাবন করছে বোর্ড। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এ ইস্যুটি নিয়ে ভাবছি এবং পাকিস্তান ও দেশের বাইরের প্রার্থীদের কাছ থেকে আমরা আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। আশা করছি পরবর্তী সফরের আগেই আমরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো।’ মিসবাহ যতদিন শতভাগ ফিট ও অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকবে এবং পারফরমেন্স করতে পারবে ততদিন বোর্ড তার কাছ থেকে ভাল আশা করবে বলেও পরিষ্কার জানিয়ে দেন তিনি। ‘অধিনায়কের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মিসবাহ সবকিছু ভাল ভাবেই সামাল দিয়ে আসছে এবং পারফরমেন্সও ভাল করছে। সে আবারো চমত্কার ফর্ম ফিরে পেয়েছে এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি সুপার এইট টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স চোখ ধাঁধানো।’ - বাসস ম্যাচ পাতানো বিতর্কে পাকিস্তান দলের টালমাটাল অবস্থার মধ্যে ২০১০ সালে পাকিস্তান টেস্ট দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মিসবাহ। এরপর ২০১১ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব নেন ৩৯ বছর বয়সী এ তারকা।