জিম্বাবুয়ে সফরে ফিরছেন সাকিব
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৫
পরপর দুটো ওয়ানডে সিরিজ ও একটা টেস্ট সিরিজ খেলে ফেললো বাংলাদেশ দেশের সেরা ক্রিকেটারকে ছাড়াই। ফল বিবেচনায় বাংলাদেশের খুব আফসোস করার সুযোগ নেই। সাকিব আল হাসানকে ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে এবং শ্রীলংকার বিপক্ষে শ্রীলংকায় গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ড্র করে এসেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এই ফলাফলে আশ্বস্ত হচ্ছে না বাংলাদেশ। সাকিবের জন্য অপেক্ষা চলছেই। অবশেষে জিম্বাবুয়ে সফরে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডার।
ডান পায়ের কাফ মাসলের ব্যথা অনেকটাই সেরে গেছে সাকিব আল হাসানের। নিয়মিত ব্যাটিং ও বোলিং করে যাচ্ছেন প্রতিদিন। লক্ষ্য জিম্বাবুয়ে সফরে জাতীয় দলের সঙ্গী হওয়া। নির্বাচকরাও আশা করছেন জিম্বাবুয়ে সফরে সাকিব ফিরবেন।
একদিকে সাকিব যখন দলে ফিরছেন; তখন আরো শংকা দেখা দিয়েছে তামিম ইকবালকে নিয়ে। হাতের আঙ্গুলের ইনজুরিতে ভুগতে থাকা তামিম দ্বিতীয় দফা ইনজুরিতে পড়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে একটা ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে সেদিনই দেশে ফিরেছেন। তাকে মাঠে ফেরার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো দুই সপ্তাহ।
শুধু তামিম নন, জিম্বাবুয়ে সফর থেকেই ছিটকে পড়েছেন পেসার আবুল হাসান রাজু ও নাজমুল হোসেন। আবার সুখবর হল শ্রীলংকার বিপক্ষে ইনজুরির জন্য অনুপস্থিত থাকা শাহরিয়ার নাফীস ও নাঈম ইসলামকে মাঠে পাওয়া যাবে। কাল ফিজিও’র রিপোর্ট দেখে প্রধান নির্বাচক আকরাম খান বললেন, ‘সাকিব জিম্বাবুয়ে সফরের প্রথম থেকে খেলতে পারবে। তামিম হয়তো খেলতে পারছে না। তাকে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে পাওয়া যাবে। রাজু ও নাজমুল এই সফরে খেলতে পারবে না। তারা এখনো সুস্থ হয়নি। আর পেসার শফিউল ইসলাম ওয়ানডের জন্য ফিট, টেস্টের জন্য নয়’।
এদিকে নাসির হোসেনেরও কাঁধে ব্যথা। তবে তাকে নিয়ে প্রধান নির্বাচকের দুশ্চিন্তা কম, ‘নাসিরের কাঁধে সমস্যা আছে তবে এটি মারাত্মক নয়। এটির চিকিত্সা পরেও করা যাবে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর তার কাঁধে অস্ত্রোপচার করা হবে’।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দুর্বলতা কাটাতে গিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে নির্বাচকদের। মাশরাফি বিন মুর্তজা সুস্থ না হওয়ায় দুশ্চিন্তা যেন আরো পেয়ে বসেছে তাদের। শ্রীলংকা সফর শেষে যোগ হচ্ছে নাজমুল ও রাজুর ইনজুরির দুশ্চিন্তাও। তাই জিম্বাবুয়ে সফরে পেস আক্রমণে খুব বেশি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। প্রধান নির্বাচকও সেটি স্বীকার করে বলেন, ‘মাশরাফির ফিটনেস নিয়ে সমস্যা রয়েছে। আমি ফিজিও বিভব সিংয়ের সাথে কথা বলেছি। তিনি মাশরাফির ব্যাপারে কিছু সময় চেয়ে নিয়েছেন। তার ব্যাপারে আরো দুই তিনদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। আজও বিভ মাশরাফিকে দেখেছে। আর নাজমুল ও রাজু না থাকায় পেস বোলিং বিভাগটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। পূর্ণ শক্তি ছাড়া সফর করলে তো দলের সমস্যা হবেই। আমার যেটা মনে হয় যারা দলে আসবে তাদের সেই সুযোগটা কাজে লাগানো উচিত’।
১৭ এপ্রিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট হলেও কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশ দল ঢাকা ছাড়বে ১০ এপ্রিল। এক মাসের সফর শেষে মুশফিকরা দেশে ফিরবে ১৩ মে। এই পুরো সফরে সব ক্রিকেটারকে সুস্থ পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য খুবই জরুরি।
ফিজিও’র চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন প্রধান নির্বাচক। জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট দল ঘোষণা করতে নির্বাচকদের আরো দুই তিনদিন সময় লাগবে। আজ ফিজিও বিভব সিংয়ের কাছ থেকে রিপোর্ট পেলেই নির্বাচক কমিটি সাজিয়ে ফেলবে টেস্ট দল। এছাড়া প্রধান কোচ শন জার্গুনসেন ও ফিল্ডিং কোচ কোরি রিচার্ডস শ্রীলংকা থেকে দেশে ফিরে গেছেন। ৬ এপ্রিল ঢাকায় ফিরলেই নির্বাচকরা তাদের সাথে কথা বলেই দল ঘোষণা করবেন। এ প্রসংগে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘ফিজিও’র রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে টেস্ট দল। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে টেস্ট দল ঘোষণা করতে পারবো’।