এই ধরনের আচরণ দেশকে একটি সাংবিধানিক ও আইনগত জটিলতার মধ্যে ফেলিয়াছে

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা নিয়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি দুটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করিয়াছেন। তাহার এই অভিযোগ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিরুদ্ধে। আর যিনি অভিযোগ করিয়াছেন তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারেরই নির্বাচিত সভাপতি এবং একজন সিনিয়র আইনজীবী। গত মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করিয়াছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার খ্যাত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের যে রায়টি আপিল বিভাগ দিয়াছে তাহা আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নহে। কেন গ্রহণযোগ্য নহে তাহার একটি ব্যাখ্যাও তিনি দিয়াছেন। তিনি অভিযোগ করিয়াছেন আপিল বিভাগের রুলস ১৯৮৮ এর ১০(১)(২) লংঘন করিয়া মূল রায়ে ঘোষিত আদেশের অংশ পরবর্তীকালে (দেড় বছর পর) পরিবর্তন করা হইয়াছে। এ প্রসঙ্গে সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রথমে ঘোষিত মূল রায়ের আদেশের অংশ এবং পরবর্তীকালে প্রকাশিত মূল রায়ের আদেশের অংশ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে উপস্থাপন করিয়াছেন। তাহাতে আদেশের অংশে সুস্পষ্টভাবেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাইতেছে। প্রকাশ্য আদালতে ঘোষিত রায়ের আদেশের অংশ পরিবর্তন করিতে হইলে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করিতে হয় আলোচ্য ক্ষেত্রে তাহা করা হয় নাই। শুধু বার সভাপতি নহে, মূল রায়দাতা বিচারপতির বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত আদেশ বদলাইয়া ফেলিবার অভিযোগ খোদ আপিল বিভাগেরই বিচারকের মধ্য হইতেও উত্থাপিত হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া তাঁহার রায়ে লিখিয়াছিলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় এর আগে দেয়া সংক্ষিপ্ত রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’ দেশে প্রবীণ তিনজন আইনজীবী টিএইচ খান, ব্যারিষ্টার রফিক-উল হক ও ড. কামাল হোসেন এ ঘটনাকে বিচারিক অসদাচরণ ও বিচ্যুতি বলিয়া অভিহিত করিয়াছিলেন। বার সভাপতি আরেকটি গুরুতর অভিযোগ করিয়াছেন যে, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক অবসরে যাওয়ার প্রায় দেড় বছর পর আলোচ্য মামলার রায়ে স্বাক্ষর করিয়াছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ঢাকা ল’ রিপোর্টের ১৬তম সংখ্যায় প্রকাশিত কাজী মাহির দীন বনাম মুরাদ বেগম গং মামলার রায়ের নজির উপস্থাপন করিয়া বলেন, কর্মরত না থাকিলে কোন রায়ে স্বাক্ষর করার অধিকার কোন বিচারকের নাই। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে দেখা গিয়াছে আপিল বিভাগের কয়েকজন কর্মরত বিচারক ও একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মিলিয়া এই রায়ে স্বাক্ষর করিয়াছেন। বার সভাপতির এই অভিযোগের জবাব কে দিবে? একটি জনগুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের আচরণ দেশকে একটি সাংবিধানিক ও আইনগত জটিলতার মধ্যে ফেলিয়া দেয় এবং যাহা দেশের বিচার বিভাগের সম্মান এবং মর্যাদার জন্যও হানিকর।