দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান উদ্ধারে টাগবোট-ক্রেন আমদানি
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪৪
নৌপথে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ কিংবা লঞ্চ উদ্ধারের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি ক্রেন ও দু’টি টাগবোটসহ চারটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উদ্ধারকারী নৌযান ইউনিট আমদানি করেছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআইডব্লিউটিএ)। মঙ্গলবার ক্রেন ও টাগবোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮ নম্বর জেটিতে খালাস করা হয়। গতকাল বুধবার ক্রেন-টাগবোটগুলো নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ’র জেটিতে আনা হয়েছে।
আমদানি করা ক্রেনগুলোর প্রত্যেকটি এককভাবে ২২০ মেট্রিক টন এবং যৌথভাবে পাঁচশ মেট্রিক টন ভার বহনে সক্ষম। এত শক্তিশালী উদ্ধার যান দেশে আর কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে নেই বলে জানা গেছে।
উচ্চ ক্ষমতার ক্রেন-টাগবোট আমদানির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া জাহাজ কিংবা দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবোঝাই লঞ্চডুবির যেসব ঘটনা ঘটে সেসব জাহাজ ও লঞ্চ উদ্ধার করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে শক্তিমান নামে এ ধরনের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উদ্ধারকারী জাহাজ ছিল। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে জাহাজটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন বিআইডব্লিউটিএ নতুন উদ্ধারকারী নৌযান আনায় আমাদের ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধার করতে সুবিধা হবে।
মন্ত্রী বলেন, উদ্ধারকারী ক্রেন ও টাগবোটগুলো কোরিয়ার দেইয়ু ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। গত বছরের ২২ মার্চ উচ্চ ক্ষমতার এসব নৌযান ইউনিট আমদানির বিষয়ে দেইয়ু ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি করে বিআইডব্লিউটিএ।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার ইত্তেফাককে বলেন, দু’টি ক্রেনের একটি হচ্ছে, বিআইডব্লিউটিএ প্রত্যয় এবং অপরটি বিআইডব্লিউটিএ নির্ভীক। দু’টি টাগবোটের একটি হচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ দুরন্ত এবং বিআইডব্লিউটিএ দুর্বার।
ক্রেন ও টাগবোটগুলো গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮ নম্বর জেটিতে খালাস করা হয়েছে। বিএসডিসি হ্যান্ডলিং অপারেটর নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেগুলো খালাস করেছে। কোরিয়ার দেইয়ুর পক্ষে পুরো খালাস কার্যক্রম তদারক করে তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি জেএসি শিপিং লাইন্স।
প্রতিষ্ঠানটির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার উম্মুল ওয়ারা ঝরা জানান, ক্রেন ও টাগবোট নারায়ণগঞ্জ জেটিতে নেয়ার পর বিআইডব্লিউটিএ’র অপারেটরদের সেগুলো পরিচালনার বিষয়ে কোরিয়া থেকে আসা ২২ জনের একটি অভিজ্ঞ টিম প্রশিক্ষণ দেবে। একমাসের প্রশিক্ষণ শেষে ক্রেন ও টাগবোটগুলো বিআইডব্লিউটিএ’র কাছে হস্তান্তর করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন নাজমুল আলম বলেন, অনেক সময় ভারী জাহাজ গভীর সাগর থেকে বন্দরের কাছাকাছি ভিড়তে পারে না। বিশেষত সমপ্রতি পাওয়ার প্ল্যান্টের যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি হচ্ছে। উচ্চ ক্ষমতার ক্রেন-টাগবোট থাকলে এসব ভারী জাহাজ বন্দরের কাছাকাছিতে নিয়ে আসা যাবে।