হলমার্ক কমিশন করে চালু ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫১
হলমার্ক সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের আদলে আত্মস্থ করেছে। তদন্তকারীদের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোট টাকার ৪০% মালয়েশিয়া ও আমেরিকায় চলে গেছে। বিনিয়োগ হয়েছে ৩০% মাত্র। চেয়ারম্যান, এমডি এবং সহযোগিদের গ্রেফতারের পর মালিক জানে বাঁচতে ও আইনগত প্রতিকার নিতে সংশ্লিষ্টদের দেয়া হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। ব্যাংকে জমা হয়েছে ২৮২ কোটি টাকা মাত্র। ডিটেনশান, রিমান্ড, কারাগারে ভাল থাকা-খাওয়া জামিন পাওয়ার আশ্বাস অথবা ব্যবস্থা করা বিষয়ে উকিল, মোক্তার পেশকার এবং আরো আরো কাউকে দিয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। হলমার্ক কেলেঙ্কারী ফাঁস হবার পর অর্থমন্ত্রী বললেন এতবড় বাজেটে এটা খুব বড় বিষয় নয়। সাহসী আইনজীবীরা গ্রেফতার ও মামলার জন্য চাপ দিতে থাকলেন, মালিক স্ত্রীসহ গ্রেফতার হলেন। বিচার কাজে জড়িতরা অবৈধ পয়সা গ্রহণ করেন না। এক্ষুণে ব্যাংকসমূহ কমিশন করে, BMRE আওতায় নিয়ে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছেন। শুনে শ্রমিক সন্তানদের আত্মায় পানি পেয়েছে।
হলমার্ক গ্রুপের প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠান চারমাস যাবত্ বন্ধ। সঙ্গত কারণে বেতনও বন্ধ। পোশাক রপ্তানিতে হলমার্ক ব্রান্ড ও জিএসপি সুবিধা বন্ধের উপক্রম। হলমার্ক গ্রুপ চালু করলে, সীমান্ত, বন্দর, পোর্ট এলার্ট জারি, ২ গাড়ি পুলিশ ও বিজিবি দিয়ে পাহারা বসানো, সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে এবং সম্পূর্ণ নজরদারীতে থাকবে। এভাবে পূর্বেও সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো চালাতে পারতো। দুই শিফটে ২৪ জন জোয়ান পাহারা দিয়ে রাখলে এতবড় ক্ষতি হতো না। তারা অবশ্য ৩০% বিনিয়োগের মধ্যে একটি অংশ দিয়ে জমি কিনেছে। জমির দাম ২ বছরে দ্বিগুণ হয় আর ব্যাংকের টাকা হয় চার বছরে দ্বিগুণ। গ্রেফতারের পর অন্যেরা ক্রয়কৃত জমিজমা দখল ও সৃজিত দলিল তৈরি না করে থাকলে ভাল। অর্থমন্ত্রী ভুল স্বীকার করেন ভাল কিন্তু বকেন বেশি। যা হোক হলমার্কের জন্য যে সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক নিয়াছে তা কর্মরত ঐ ১০ হাজার পরিবারের জন্য যে খুবই ভাল খবর। খবরটি সেরূপ ভাল হতে হবে ব্যাংকের জন্যেও।
অর্থনীতি নিষ্ফল শ্রম নিয়ে আলোচনা করে না। কিন্তু দুষ্ট ছেলেরা সরকারি রাস্তায় বড় একটি গর্ত করে চলে গেল কিন্তু স্থানীয় সরকার বা জনসাধারণকে তো সেই গর্ত ভরাট বা মেরামত করতে হবে। স্বর্ণের দোকানে কাল পোশাক পরে ডাকাতরা ডাকাতি করে সোনা-দানা নিয়ে চলে গেল। কিন্তু নাগ জুয়েলার্সের ব্যাংক দেনা, ব্যক্তিগত দেনা, দোকান ভাড়া, কর্মচারী বেতন অর্থনীতির আলোচ্য বিষয়। দুষ্ট ছেলে বা চোর/ডাকাতের কাজটা অর্থনীতির জন্য নিষ্ফল শ্রম অথবা নেতিবাচক আলোচ্য বিষয়। এখানে দ্বিতীয় অংশটুকু সফল শ্রমের অংশ ও অর্থনীতির আলোচ্য বিষয়। হলমার্ক আত্মসাত্ করেছে কিন্তু বিনিয়োজিত অর্থ, মূলধন, মেশিন, শ্রমিক ইত্যাদি অর্থনীতির আওতার বাইরে যেতে পারে না। তাই সোনালী ব্যাংককে জনস্বার্থে কমিশন ও তদারকি করে হলমার্ক গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরীভাবে চালু করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে BMRE-এর আওতায় পুনঃ অর্থায়ন করে উত্পাদন অব্যাহত রাখতে হবে।
যুবক প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির তিন লাখ গ্রাহকের মোট পাওনা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। চার বছর পূর্বে আটকে যাওয়া এ টাকা ব্যাংকে থাকলে ১০০ টাকার খাতক পেতেন ১৬৫ টাকা। যুবকের নিজস্ব একটি নির্মিতব্য ভবন পুরানা পল্টনে, নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আবাসিক প্লট রয়েছে প্রায় এক হাজার। দেশের অন্যান্য স্থানেও তাদের সম্পদ রয়েছে। ইতিমধ্যে এই সম্পদগুলোর মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমান। ডেসটিনির নিকট গ্রাহকের পাওনা ৫১১৩ কোটি টাকা। ফার্মগেটস্থ আনন্দ সিনেমা হল ও পল্টনে বাণিজ্যিক প্লট, কক্সবাজার থ্রী-স্টার হোটেল, পার্বত্য জেলায় বৃক্ষরোপণের জমি এগুলোর মূল্য ৫১১৩ কোটি টাকার চেয়েও বেশি হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। তবে তাদের ব্যবসার কৌশল পাল্টাতে হবে। আসতে হবে সরলীকরণ পণ্যের বাজারজাত ও বণ্টন কাজে। ইউনিপে-টু তে আটকা পড়েছে হাজার কোটি টাকার উপরে। এরূপ আরো প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহকের এক হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে আছে এ প্রতিষ্ঠানের অনেকে। বিসমিল্লাহ গ্রুপকেও ঝামেলা থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, এনবিআর, দুদক, অর্থমন্ত্রণালয়, সমবায় অধিদপ্তর জনস্বার্থ ও সহনশীল মনোভাব নিয়ে অর্থনীতির জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবেন। এটাই সর্বসাধারণ কামনা করে। কোন রাজনৈতিক বিষয় ও আবেগ দিয়ে এ জাতীয় জটিল বিষয়ের দ্রুত সমাধান হয় না।
দেশের জেলা ও উপজেলাসমূহে ভুঁইফোড় মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র নিবন্ধন নিয়ে উচ্চ সুদের অফার দিয়ে লাখ লাখ টাকা জামানত ও ঋণ কার্যক্রম করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সিডিউল ব্যাংকগুলো লিকিউডিটি ক্রাইসিসের মুখে পড়ে এখন উচ্চ কলরেটে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানো দুরূহ হয়ে পড়বে। এখনই সরকার ও জেলা প্রশাসনের নজর দিতে হবে বিষফোঁড়া বড় হবার পূর্বেই যেন তা নিরসন করা যায়।
লেখক : সাবেক ট্রেজারার, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা