দল নিয়ে ডাচ কোচের আশাবাদ
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪৭
বাংলাদেশের ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ মনে করেন এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে হতাশা নেমে এলেও জাতীয় দল আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের অগ্রগতি তুলে ধরার সুযোগ পাবে। নেপালের কাঠমান্ডুতে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচাইতে বড় এই ফুটবল আসর।
ক্রুইফ জানান, সাফে তারা আরেকটি সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। ফিফাডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বাংলাদেশ দলকে নিয়ে নিজের চালানো বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার সূত্র ধরে বলেন, ‘আমরা এই গ্রীষ্মে স্থানীয় লিগে আরো অনেক খেলোয়াড়কে পরখ করবো। কাজেই হাতে আরো বিকল্প থাকবে। তাছাড়া সাফের জন্য দলকে প্রস্তুত করাতে, বিপক্ষ দলগুলো সম্পর্কে বিশ্লেষণের জন্য এবং ট্যাকটিক্স নিয়ে কাজ করতে আমাদের হাতে অনেক সময় আছে।’
বাংলাদেশ দলকে নিয়ে জুনে পুরোপুরিভাবে কাজ শুরুর আগে আগামী সোমবার তিনি এক সপ্তাহের জন্য ঢাকায় আসবেন। তার আগে গতকাল ফিফার ওয়েবসাইটে তার সাক্ষাত্কার প্রকাশ করে ফুটবলের বিশ্ব সংস্থার ওয়েবসাইটটি।
এতে বলা হয়, জাতীয় দলের সর্বসাম্প্রতিক এই কোচের অধীনে মার্চে নেপালে অনুষ্ঠিত চ্যালেঞ্জ কাপে দৃশ্যত ভাল ফল করে। সেই সুবাদে বাংলাদেশ দল ফিফা বিশ্ব র্যাংকিংয়ে আট মাসের মধ্যে সবচাইতে ভাল করে ১২ ধাপ উপরে উঠে এসে ১৫৭তম স্থান পায়। যদিও বাংলাদেশের সেরা অবস্থান ছিল ১৯৯৬ সালে পাওয়া ১১০তম স্থান। আবার এই বাংলাদেশকেই ২০০৮ সালের জুনে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১৮৩তম স্থানেও গড়িয়ে যেতে দেখেছিল দেশের ফুটবলামোদীরা।
ডাচ এই কোচ কাল ফিফার ওয়েবসাইটকে বলেন, ‘এই দলটিকে নিয়ে আমার ধারণা ইতিবাচক। ছেলেরা তাদের জান দিয়ে খেলেছে। আমরা বেশ কিছু নতুন ধ্যান ধারণা নিয়ে এসেছি এবং খেলোয়াড়রাও প্রমাণ করেছে তারা দ্রুত এসবের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম।’
জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েই ৪৩ বছর বয়সী এই কোচ দ্রুতই ঘোষণা দেন যে তার কোচিং পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশ দলকে ডাচ স্টাইলে খেলানো। ফিফার ওয়েবসাইটে বলা হয় ধারণা করা হচ্ছে দুই মাস দায়িত্ব পালনকালেই তার কৌশল ফলদায়ক হতে শুরু করেছে।
এ প্রসঙ্গে চ্যালেঞ্জ কাপের ফলাফলগুলোকে তুলে ধরা হয় ওয়েবসাইটটিতে। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল দ্রুত উন্নতির মধ্যে থাকা প্যালেস্টাইনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াকু নৈপুণ্য দেখায় এবং শেষ মুহূর্তের গোলেই কেবল ১-০ ব্যবধানে হারে। নেপালের বিরুদ্ধে সাখাওয়াত হোসেন রনির জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়। এছাড়া নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসের বিরুদ্ধে পাওয়া ৪-০ গোলের জয়ে দেখা পায় জাতীয় দলের হয়ে তৃতীয় গোলদাতা কিশোর তকলিস আহমেদকে।
জাতীয় দলের স্ট্রাইকারদের নিয়েও নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান কোচ ক্রুইফ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি আমার স্ট্রাইকারদের নিয়ে সন্তুষ্ট। রনি ও তকলিস উভয়েই তাদের ক্ষিপ্রতা প্রমাণ করেছেন এবং তারা এখনো খুবই তরুণ। তাদের নিয়ে এখনো অনেক কাজ করতে হবে এবং উভয়েরই দীর্ঘ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ পড়ে রয়েছে।’
তিনি এও জানান যে আক্রমণভাগের পাশাপাশি জাতীয় দল যে রক্ষণেও উন্নতি করছে তাতেও তিনি বিশেষভাবে খুশি। বিশেষ করে কাঠমান্ডুর ওই প্রতিযোগিতায় তার দল কেবল এক গোল হজম করে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই প্রতিযোগিতার সময় আমাদের ব্যাক লাইন খুব আটোসাঁটো, সুসংগঠিত ছিল। এছাড়াও আমাদের গোলরক্ষক শহিদুল খুবই ভাল করেছিল।’