শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের হত্যাকারী শনাক্ত ও শাস্তি দাবি

অবিলম্বে শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের হত্যাকারী শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে ‘কমিটি ফর জাস্টিস অব আমিনুল ইসলাম’। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছেন তারা। কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দীর্ঘ এক বছরেও গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসামি গ্রেফতার না হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘কমিটি ফর জাস্টিস অব আমিনুল ইসলাম’ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এডভোকেট একেএম নাসিম। সাংবাদিক সম্মেলনের আগে নেতৃবৃন্দ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি’র সভাপতি কল্পনা আক্তার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এর সভাপতি বাবুল আখতার, শ্রমিক নেতা রাশেদুল ইসলাম রাজু, রুহুল আমিন প্রমুখ। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নিহত শ্রমিক নেতা আমিনুলের কন্যা সায়মা আক্তার আঁখি, আমিনুলের স্ত্রী হোসনে আরা ও দুই শিশুপুত্র। কল্পনা আক্তার বলেন, বিশ্বের পাঁচটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার লিখিত চাপের পরেও সরকার এই বিচারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানকে ধরতে সরকার এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করলেও, মোস্তাফিজুর রহমানের কোন ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। দেশে, বিশেষত গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিক আন্দোলন স্থবির হয়ে আছে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে অডভোকেট নাসিম বলেন, গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠিত করার অধিকারকে সমন্বিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। গত বছর ৫ এপ্রিল ৪১ বছর বয়সি গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামকে নির্যাতন ও মারধরের কারণে খুন হওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। আমিনুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি’র সংগঠক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার ও আশুলিয়ার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি।