সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ে নয় সিন্ডিকেট
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫১
রাজধানীতে নয়টি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছিনতাই হচ্ছে। এসব সিন্ডিকেটের অনেক সদস্যই গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারো সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই করছে। এদের হাতে রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ৩টি করে সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই হচ্ছে। ছিনতাই করা সিএনজি অটোরিকশার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গাড়ির মালিকের কাছে ফোন করে এসব ছিনতাইকারী চক্র মুক্তিপণ হিসাবে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা আদায় করে গাড়ি দিয়ে দেয়।
সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের এসব ঘটনা তদন্ত করে র্যাব ৯ সিন্ডিকেটের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এ ব্যাপারে র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে.কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর ছিনতাইকারী চক্র গাড়ির মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। এসব ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক গাড়ি উদ্ধারের পর বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন না। রাজধানীতে এভাবে বেশিরভাগ সিএনজি অটোরিকশাই কোন না কোনভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ করে বাবুল ওরফে হাফেজ বাবুল (৪০)। চা, জুস ও ডাবের পানির সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে তা অটোরিকশার চালককে পান করিয়ে গাড়ি ছিনতাই করে এই চক্র। এ পর্যন্ত হাফেজ বাবুল পুলিশের হাতে ১০ বার গ্রেফতার হলেও প্রতিবার জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও উত্তরা এলাকায় সিএনজি ছিনতাই করে যাচ্ছে বলে র্যাবের তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় আক্কাছ মোল্লা অবস্থান করে সাভার, নবীনগর, সাভারের বাইপাইল, তুরাগ ও মিরপুর এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ করে। এ পর্যন্ত আক্কাছ মোল্লা পুলিশের হাতে ৭ বার গ্রেফতার হয়েছে। টঙ্গী এলাকায় মজিবুর ওরফে বড় মজিবুর অবস্থান করে টঙ্গী, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার সিএনজি ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ করে। বড় মজিবুর চক্রের ৫/৬ জন সদস্য সকলেই ভদ্র পোশাক পরে রাতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে। নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার আগে তাদের সিন্ডিকেটের ফেরিওয়ালার কাছ থেকে চা পান করে। ঐ চা পান করে চালক অচেতন হয়ে পড়লে তারা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জের পোস্তগোলার মন্টু শাহবাগ, চানখারপুল, বাংলামোটর, কাঁটাবন ও নীলক্ষেত এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই করে। মন্টু গ্রুপে ১০ সদস্য রয়েছে। মন্টু এ পর্যন্ত ৪ বার গ্রেফতার হয়েছে। যাত্রাবাড়ী এলাকার সিএনজি ছিনতাইকারী চক্রের দলনেতা তরিকুল (২৫) কয়েকদিন আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে রয়েছে। এই এলাকায় বর্তমানে শামীমের ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়। কেরানীগঞ্জের খোলমুড়া এলাকার লিটনের (৪২) গ্রুপ কেরানীগঞ্জ থেকে বাবুবাজার হয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ছিনতাইয়ে সক্রিয়। সিএনজি ছিনতাইয়ের ঘটনায় লিটন এ পর্যন্ত ৭ বার গ্রেফতার হয়েছে। মতিঝিল এলাকার বরিশাইল্যা মজিবর গ্রুপ মতিঝিল, শাজাহানপুর, খিলগাঁও, সবুজবাগ, বাসাবো এলাকায় সিএনজি ছিনতাই করে। সিএনজি ছিনতাই করার পর এই চক্র মালিকের কাছে মোবাইল ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ পেলেই এই চক্র মালিকের কাছে গাড়ি ফেরত দেয়। দক্ষিণখান এলাকায় অবস্থানকারী কানা শহিদ রাজধানীর গুলশান, বারিধারা, বাড্ডা, রামপুরা এলাকায় দিনে-দুপুরে অভিনব কৌশলে সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই করে। প্রথমে যাত্রীবেশী দুই ছিনতাইকারী নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করে। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছার পর ঐ স্থানে আগে থেকে আরো দুইজন ছিনতাইকারী লাগেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ঐ সময় দাঁড়িয়ে থাকা ছিনতাইকারীরা গাড়ির চালককে লাগেজ তোলার জন্য চালকের আসন থেকে নামতে বলে। গাড়ি চালক নেমে লাগেজ তুলতেই তাকে মারধর করে অটোরিকশা নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। এভাবেই গত বছরের ২৫ জানুয়ারি গুলশানের ৬ নম্বর সড়ক থেকে নিজামের মালিকানাধীন একটি সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই হয়। ছিনতাইয়ের পর গাড়ির মালিক নিজাম গুলশান থানায় একটি জিডি করার পর পরই ছিনতাই সিন্ডিকেটের এক সদস্য তার মোবাইলে ফোন করে ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এক সপ্তাহ ধরে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ নিয়ে ছিনতাইকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এরপর মোবাইল ফোনটি তিনি বন্ধ পান। পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার পরও নিজামের ছিনতাই হওয়া সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার হয়নি।