অবিলম্বে শাহবাগের ফুটওভারব্রিজটি খুলিয়া দিন

শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) ও বারডেম হাসপাতালের মধ্যকার ফুটওভারব্রিজটি গত দুই মাস যাবত্ বন্ধ রহিয়াছে। ফলে রোগী, রোগীদের স্বজন, চিকিত্সক ও চিকিত্সা কর্মীসহ সাধারণ পথচারীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাইতে হইতেছে। চরম ঝুঁকি লইয়া পার হইতে হইতেছে অতি ব্যস্ত এই সড়কটি। অসুস্থ স্বজন কিংবা শিশু ও নারীদের লইয়া দিনের পর দিন এই সড়ক পার হইয়া হাসপাতালে আসা-যাওয়া করা যে কতোটা কঠিন তাহা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। বিএসএমএমইউ ও বারডেম হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রোগীদের আত্মীয়-পরিজনের সেই দুর্ভোগ ও অসহায়তার কথা ফুটওভারব্রিজে দায়িত্বরত র্যাবের একজন কর্মকর্তাও স্বীকার করিয়াছেন অকপটে। পাশাপাশি তিনি ইহাও বলিয়াছেন যে এই ব্যাপারে তাহার কিছুই করিবার নাই। কেন নাই— তাহার ব্যাখ্যাও দিয়াছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি জানাইয়াছেন যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই ফুটওভারব্রিজটি বন্ধ করা হইয়াছিল। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচি চলাকালে এই ব্রিজটি ব্যবহার করিয়া কেহ যাহাতে নাশকতা করিতে না পারে সেই জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হইয়াছিল বলিয়া তিনি জানান। সিদ্ধান্তটির যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য। কিন্তু রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দুইটি হাসপাতালের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র ফুটওভারব্রিজটি কিভাবে দীর্ঘ দুই মাস যাবত্ বন্ধ থাকিতে পারে তাহা আমাদের বোধগম্য নহে। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে শাহবাগের মোড়টি পথচারীদের জন্য কতোখানি ঝুঁকিপূর্ণ তাহা কাহারও অজানা নহে। এইখানে দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত ব্যাপার। দুর্ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করিয়া দিনের পর দিন বিক্ষোভ হইয়াছে। ঘটিয়াছে নির্বিচার গাড়ি ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের ঘটনা। জোর দাবি উঠিয়াছে শাহবাগে আন্ডারপাস নির্মাণের। বিক্ষোভের মুখে সরকার সেই দাবি মানিয়াও লইয়াছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় হইতে আশ্বাস দেওয়া হইয়াছে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে আন্ডারপাস নির্মাণের। ইহার পর দীর্ঘসময় অতিবাহিত হইয়াছে। কিন্তু প্রতিশ্রুত সেই আন্ডারপাস নির্মাণের কাজই শুরু হয় নাই অদ্যাবধি। বরং দুইটি হাসপাতালের মধ্যবর্তী একমাত্র ফুটওভার ব্রিজটি বন্ধ করিয়া সাধারণ মানুষকে অধিকতর দুর্ভোগ ও ঝুঁকির মুখে ঠেলিয়া দেওয়া হইয়াছে। ইহা দায়িত্বহীনতার পরিচায়কই শুধু নহে, অমানবিকও বটে। হাসপাতালের কোনো প্রবেশপথই একমুহূর্তের জন্যও বন্ধ থাকা সমীচীন নহে। সর্বোপরি, যেই কারণে ফুটওভারব্রিজটি বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছিল তাহাও এখন বিদ্যমান নাই। গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম সরাইয়া নেওয়ার পরও ব্রিজটি বন্ধ রাখিয়া কেন সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া হইতেছে তাহা আমরা বুঝিতে অক্ষম। এমনিতেই তাহাদের দুর্ভোগ-দুর্দশার অন্ত নাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ, দয়া করিয়া সেই দুর্ভোগের বোঝা আর ভারী করিবেন না। অবিলম্বে ফুটওভার ব্রিজটি খুলিয়া দিন। দুর্ভোগ হইতে মুক্তি দিন জনসাধারণকে।