‘ফেসবুক হোম’-এ তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে শংকা

‘ফেসবুক হোম’ নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না প্রযুক্তি বিশ্বে। সপ্তাহ দুয়েক আগে জানা যায়, ‘ফেসবুক হোম’ নামে নতুন একটা কিছু নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে ফেসবুক। সাংবাদিকদের এই নিয়ে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হলেও ‘ফেসবুক হোম’ জিনিসটি কী, সেটি নিয়ে কোনো তথ্যই জানায়নি ফেসবুক। আর তাতে করে নানা ধরনের গুজব ডালপালা মেলে বেড়াতে শুরু করে প্রযুক্তি বিশ্বে। এইচটিসি’র হার্ডওয়্যারে ফেসবুকের নিজস্ব মোবাইল ফোনের বিষয়টিই ছিল আলোচনার শীর্ষে। তবে সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অবমুক্ত হয়েছে ‘ফেসবুক হোম’। মার্ক জাকারবার্গ উন্মোচন করেছেন এটি। অবমুক্তি ঘোষণার শুরুতেই তিনি সকলের ভুল ভেঙ্গে জানিয়ে দেন, ফেসবুক হোম মূলত একটি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন স্যুট, যা অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে গোটা ফেসবুককে ব্যবহার করার সুবিধা দেবে সম্পূর্ণ নতুনভাবে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে এমনিতেই ফেসবুকের অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। তবে ফেসবুক হোম এবারে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ফেসবুক ব্যবহারের অনুভূতিকে সম্পূর্ণ পাল্টে দেবে বলেই জানান জাকারবার্গ। ফেসবুক হোম কোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ইন্সটল করা হলে এটি অ্যান্ড্রয়েডের লক স্ক্রিন এবং প্রধান ডিসপ্লেকে অধিগ্রহণ করে ফেলে এবং হোম স্ক্রিনকে এটি ফেসবুকের লাইভ ফিড, নোটিফিকেশন এবং ফেসবুকের ছবি দিয়ে সাজিয়ে ফেলে। আর সার্বক্ষণিকভাবে স্মার্টফোনটি ফেসবুকের সাথে সংযুক্ত থাকে এই সফটওয়্যার স্যুটের মাধ্যমে। কোনো কোনো অ্যন্ড্রয়েড ফোনে বিল্ট-ইন হিসেবেই থাকবে এটি। সার্বক্ষণিকভাবে ফেসবুকের সাথে ফোনকে সংযুক্ত রাখার এই ফিচারটিই আবার তথ্যের গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ফেসবুক হোম সাধারণ ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীর সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য সংগ্রহ না করলেও নতুন সফটওয়্যার স্যুটটি ব্যবহারকারীর স্থান, সার্বক্ষণিক কার্যক্রম এবং যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সব তথ্যও থাকবে ফেসবুক হোমের কাছে। ফলে এসব তথ্য অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে পড়বে বলেই আশংকা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের। ফেসবুক অবশ্য তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে শংকিত হওয়ার কিছু নেই বলেই আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে সকলকে।