শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৯
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে মনে হয় না
দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব, যদি তা না হয় তাহলে সমঝোতার মাধ্যমে অবশ্যই হতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে অবশ্যই সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে বাধ্য।
তবে বর্তমান যে অবস্থা তাতে কিভাবে হবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন? কেন এই মতবিরোধ? কি চায় এসব রাজনৈতিক দল? তারা ক্ষমতার মোহে যেভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাতে সমাধান কিছুই হবে না। বরং হিতে বিপরীত হবে। সকল রাজনৈতিক দলকে সংসদে আসতে হবে এবং আসার পরিবেশও তৈরি করতে হবে। যা হোক, দেশের উন্নয়নের কথা ভেবে কাজ করতে হবে এবং সদিচ্ছা সহকারে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে হবে। আর সামনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আমার প্রত্যাশা এমন একজন রাষ্ট্রপতি হবেন যিনি সকল দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন, জনগণের নিকট সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হবেন। সামনের সুন্দর এ দিনগুলোকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে জনগণ হারিয়ে যেতে দিতে পারে না। তাই দেশবাসী ভাবছে একজন গ্রহণযোগ্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপ্রধান করা যেতে পারে। সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে, দেশের অগ্রগতিকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনে। আর এটা যদি সম্ভব হয় তাহলে ঐ গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতিই পারেন একটি সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে, যে নির্দেশনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলে মনে করি।
মোছা. নুরানী আক্তার নিপা
ভাষা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,
রাজশাহী।
প্রয়োজন সরকারের
সদিচ্ছা
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ সম্ভব নয়। তবে আশার কথা হচ্ছে, গত ২০শে মার্চ বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে প্রধান দুটি দলের মাঝে। প্রধান বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা দেখিয়ে তাদের আহূত হরতাল প্রত্যাহার করে নেয় এবং তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করে। ফলে এখন সরকারকেই সদিচ্ছা নিয়ে প্রধান বিরোধীদলকে সত্যিকার অর্থেই আলোচনায় প্রস্তাব দিতে হবে। একটি পরিবার বিবেচনা করে সরকারকেই আলোচনায় বসার জন্য উদ্যোগী হতে হবে।
মো. বাকি বিল্লাহ (আবির)
ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ
সরকারী তিতুমীর কলেজ, মহাখালী ঢাকা।
সরকারি দল অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেই জনতার কাঙ্ক্ষিত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাংলাদেশেই যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু হয়েছিল গণতন্ত্রের স্বার্থে তার যথাযথ সংস্কার না করে তা বাতিলের মাধ্যমে মূলত সরকারি দলই বর্তমান নির্বাচনী রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে উস্কে দিয়েছে। আর বিরোধী দল তাদের দাবি আদায়ে বেছে নিয়েছে সেই চির চেনা হরতাল ও পিকেটিং পদ্ধতি। পরিসংখ্যানানুসারে প্রতিদিনের হরতালে দেশের ক্ষতি হয় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। আর সরকারি ও বিরোধী দলের চাপাচাপিতে নিষ্পেষিত হচ্ছে নিরীহ জনতার প্রাণ। এর দায়ভার একে-অপরের উপর চাপিয়ে এ সব প্রাণ নিয়েও তারা খেলছে নোংরা রাজনীতির খেলা। অথচ জনতা তাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলার অধিকার কাউকে দেয়নি। জনতা চায় জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামী নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনীত করতে। এক্ষেত্রে জনতার অভিভাবক হিসেবে সব সংঘাত নিরসনে সরকারি দলকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত। বিরোধীদলকেও করা উচিত পূর্ণ সহযোগিতা।
মাহদী হাসান লিখন
বিবিএস (সম্মান), ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ৩য় বর্ষ।
শেরপুর সরকারি কলেজ
আশা রাখি শান্তিপূর্ণ
নির্বাচন হবে
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আমাদের সকলের কাম্য। আমাদের বর্তমান রাজনীতি চরম দুর্বিষহ অবস্থায় আছে। হরতালের প্রভাব এখন গ্রামগুলোতেও ভিড় জমাচ্ছে। একদল অন্য দলের লোকদের দেখতে পারছে না। একদিকে জামায়াত-শিবির ইসলাম বাঁচাতে ও প্রিয় ব্যক্তিদের বাঁচাতে চেষ্টায় বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে দলীয় লোকেরা তা বিরোধের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষ জীবন হারাচ্ছে যা আমাদের কাম্য নয়। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিকল্প নেই। আর ক্ষমতাসীন দল যখন বিরোধীদলে ছিল তখনো তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই এই দাবি করে আসছিল। আর প্রত্যেক দলকে নিজের ক্ষমতার উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আশা রাখি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন যাতে হয় কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে এর সমাধান করবেন।
মো. জাকির হোসেন জীবন,
বিএ, দ্বিতীয় বষর্,
রাজগঞ্জ, যশোর।
আমরা সাধারণ জনগণ
চাই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু
নির্বাচন
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি অস্থিরতার মধ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়। এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের দাবি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চায় নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সরকার প্রধান বিরোধী দলগুলোর দাবিকে উপেক্ষা করছে, এজন্য প্রধান বিরোধী দলসহ অন্য দলগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। এতে স্বাধীন বাংলার ভাবমূর্তি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমান সময়ে যে অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে আমরা এর অবসান চাই। দেশে সরকারি ও বিরোধীদলের সমঝোতার ভিত্তিতে সুষ্ঠু গণতন্ত্র ফিরে আসুক এবং আদর্শ গণতন্ত্রের চর্চা হোক। আমরা চাই স্বচ্ছ ও নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করে মহাউত্সবের ন্যায় ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করে নতুন সরকার গঠন করি।
স্বপন কুমার কাপাশিয়া
গণিত বিভাগ (শেষ পর্ব)
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।